জ্বালানি সংকট, পরিবহনখাতে আগুন আর বিএনপির নির্লজ্জ ব্যর্থতা

ফেব্রুয়ারির সেই তথাকথিত “নির্বাচন” কে কতটা মানুষ মনে রেখেছেন জানি না, তবে সেই ভোটের ফলাফল এখন ঠিকই টের পাচ্ছেন দেশের মানুষ। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে, ট্রাকভাড়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে, পাম্পে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, আর দেশ ডুবছে জ্বালানি সংকটের অন্ধকারে।

চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল, খুলনা থেকে উত্তরাঞ্চল, সব রুটেই ট্রাকভাড়া একলাফে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বগুড়া থেকে চট্টগ্রামে মরিচ পাঠাতে আগে যেখানে ২৮ হাজার টাকা লাগত, এখন সেটা ৩৫ থেকে ৩৭ হাজারে ঠেকেছে। রংপুর থেকে ঢাকায় মুরগি আনতে আগে ১৮-১৯ হাজার লাগত, এখন ২১ হাজার। তরমুজের একটা ট্রাক ২০ হাজারে পাওয়া যেত, এখন ২৫ হাজারের নিচে কেউ মুখ খুলছে না। এই বাড়তি খরচের পুরোটাই শেষ পর্যন্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ ক্রেতার ঘাড়ে। এটা কোনো বাজারের স্বাভাবিক উত্থান-পতন না, এটা সরকারের সরাসরি ব্যর্থতার ফলাফল।

চট্টগ্রামের দিকে তাকানো যাক। দেশের জ্বালানি সরবরাহের মূল কেন্দ্র এই বন্দরনগরী, আর এখানে এপ্রিল মাসেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং চলছে। বিপিসি বলছে সরবরাহ ঠিকঠাক আছে, আর পাম্প মালিকরা বলছেন সরবরাহ অনিয়মিত এবং অপর্যাপ্ত। ব্যক্তিগত গাড়িতে দুই হাজার টাকার সীমা, মোটরসাইকেলে পাঁচশো টাকা, অ্যাপোলো ফিলিং স্টেশন পুরো বন্ধ। এটা কোন উন্নতির চিত্র?

আর ৯ নম্বর পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ঘাটের কথা কেউ বলছে না কেন? সেখানে প্রতিদিন ৫০ হাজার লিটার পর্যন্ত তেল অবৈধভাবে হাতবদল হচ্ছে বলে যে খবর আসছে, সেটা কি নিছক গুজব? পাচারের এই বিশাল চক্র সক্রিয় থাকলে, বাজারে সংকট তৈরি হবেই। আর সরকার যদি এই সিন্ডিকেটের দিকে চোখ বন্ধ করে বসে থাকে, তাহলে ধরে নেওয়া ছাড়া উপায় কী যে এই চক্রের সাথে তাদের কোথাও না কোথাও একটা সম্পর্ক আছে?

বিএনপি এই দেশে নতুন কিছু করছে না। সেনাছাউনিতে জন্ম নেওয়া এই দলটির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, প্রতিবার ক্ষমতায় আসার পর সিন্ডিকেট পলিটিক্স, পেশিশক্তি আর সাধারণ মানুষের পকেট কাটা এই তিনটা জিনিস হাতে হাত ধরে চলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। যে নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি, জনগণ ঘর থেকে বের হয়নি, সেই ভোটের জোরে বসা সরকারের কাছে জবাবদিহিতার প্রত্যাশা করাটাও এক ধরনের বোকামি। কিন্তু মানুষ তো বোকা না। বাজারে গেলে বোঝা যায়, পাম্পে গেলে বোঝা যায়, ট্রাকওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলে বোঝা যায়।

আলু পরিবহনের মৌসুমে বগুড়ার হিমাগারে গাড়ি আটকে আছে, মুরগি ঢাকায় আসছে বাড়তি ভাড়ায়, চালের ট্রাক চালু হচ্ছে চার হাজার টাকা বেশি গুনে। এর মানে হলো, আপনি যা খাচ্ছেন সেটার দাম আরও বাড়বে। এই বাড়তি দামের প্রতিটা টাকা যাচ্ছে কোথায় সেটা নিয়ে সরকার নীরব। কারণ উত্তরটা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।

বিএনপির মন্ত্রিপরিষদ এই মুহূর্তে কী করছে? সংকট স্বীকার করছে না, সমাধানের রাস্তা দেখাচ্ছে না, সিন্ডিকেট ভাঙছে না। শুধু বিবৃতি দিচ্ছে আর বিপিসির মুখপাত্ররা বলে যাচ্ছেন “সরবরাহ স্বাভাবিক”। যেন একটা মন্ত্র। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। চট্টগ্রামের পাম্প মালিকরা বলছেন উল্টো কথা। চালক আবুল কাসেম বলছেন উল্টো কথা।

সরকার বদলায়, কিন্তু গরিব মানুষের কষ্ট বদলায় না। বিএনপি এই দেশে শুধু একটা জিনিস প্রমাণ করতে পারে বারবার, যে তারা সাধারণ মানুষের জীবনের দায় নেওয়ার জন্য ক্ষমতায় আসেনি।

ফেব্রুয়ারির সেই তথাকথিত “নির্বাচন” কে কতটা মানুষ মনে রেখেছেন জানি না, তবে সেই ভোটের ফলাফল এখন ঠিকই টের পাচ্ছেন দেশের মানুষ। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে, ট্রাকভাড়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে, পাম্পে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে। বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, আর দেশ ডুবছে জ্বালানি সংকটের অন্ধকারে।

চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোল, খুলনা থেকে উত্তরাঞ্চল, সব রুটেই ট্রাকভাড়া একলাফে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বগুড়া থেকে চট্টগ্রামে মরিচ পাঠাতে আগে যেখানে ২৮ হাজার টাকা লাগত, এখন সেটা ৩৫ থেকে ৩৭ হাজারে ঠেকেছে। রংপুর থেকে ঢাকায় মুরগি আনতে আগে ১৮-১৯ হাজার লাগত, এখন ২১ হাজার। তরমুজের একটা ট্রাক ২০ হাজারে পাওয়া যেত, এখন ২৫ হাজারের নিচে কেউ মুখ খুলছে না। এই বাড়তি খরচের পুরোটাই শেষ পর্যন্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ ক্রেতার ঘাড়ে। এটা কোনো বাজারের স্বাভাবিক উত্থান-পতন না, এটা সরকারের সরাসরি ব্যর্থতার ফলাফল।

চট্টগ্রামের দিকে তাকানো যাক। দেশের জ্বালানি সরবরাহের মূল কেন্দ্র এই বন্দরনগরী, আর এখানে এপ্রিল মাসেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং চলছে। বিপিসি বলছে সরবরাহ ঠিকঠাক আছে, আর পাম্প মালিকরা বলছেন সরবরাহ অনিয়মিত এবং অপর্যাপ্ত। ব্যক্তিগত গাড়িতে দুই হাজার টাকার সীমা, মোটরসাইকেলে পাঁচশো টাকা, অ্যাপোলো ফিলিং স্টেশন পুরো বন্ধ। এটা কোন উন্নতির চিত্র?

আর ৯ নম্বর পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ঘাটের কথা কেউ বলছে না কেন? সেখানে প্রতিদিন ৫০ হাজার লিটার পর্যন্ত তেল অবৈধভাবে হাতবদল হচ্ছে বলে যে খবর আসছে, সেটা কি নিছক গুজব? পাচারের এই বিশাল চক্র সক্রিয় থাকলে, বাজারে সংকট তৈরি হবেই। আর সরকার যদি এই সিন্ডিকেটের দিকে চোখ বন্ধ করে বসে থাকে, তাহলে ধরে নেওয়া ছাড়া উপায় কী যে এই চক্রের সাথে তাদের কোথাও না কোথাও একটা সম্পর্ক আছে?

বিএনপি এই দেশে নতুন কিছু করছে না। সেনাছাউনিতে জন্ম নেওয়া এই দলটির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, প্রতিবার ক্ষমতায় আসার পর সিন্ডিকেট পলিটিক্স, পেশিশক্তি আর সাধারণ মানুষের পকেট কাটা এই তিনটা জিনিস হাতে হাত ধরে চলে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। যে নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি, জনগণ ঘর থেকে বের হয়নি, সেই ভোটের জোরে বসা সরকারের কাছে জবাবদিহিতার প্রত্যাশা করাটাও এক ধরনের বোকামি। কিন্তু মানুষ তো বোকা না। বাজারে গেলে বোঝা যায়, পাম্পে গেলে বোঝা যায়, ট্রাকওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলে বোঝা যায়।

আলু পরিবহনের মৌসুমে বগুড়ার হিমাগারে গাড়ি আটকে আছে, মুরগি ঢাকায় আসছে বাড়তি ভাড়ায়, চালের ট্রাক চালু হচ্ছে চার হাজার টাকা বেশি গুনে। এর মানে হলো, আপনি যা খাচ্ছেন সেটার দাম আরও বাড়বে। এই বাড়তি দামের প্রতিটা টাকা যাচ্ছে কোথায় সেটা নিয়ে সরকার নীরব। কারণ উত্তরটা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।

বিএনপির মন্ত্রিপরিষদ এই মুহূর্তে কী করছে? সংকট স্বীকার করছে না, সমাধানের রাস্তা দেখাচ্ছে না, সিন্ডিকেট ভাঙছে না। শুধু বিবৃতি দিচ্ছে আর বিপিসির মুখপাত্ররা বলে যাচ্ছেন “সরবরাহ স্বাভাবিক”। যেন একটা মন্ত্র। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। চট্টগ্রামের পাম্প মালিকরা বলছেন উল্টো কথা। চালক আবুল কাসেম বলছেন উল্টো কথা।

সরকার বদলায়, কিন্তু গরিব মানুষের কষ্ট বদলায় না। বিএনপি এই দেশে শুধু একটা জিনিস প্রমাণ করতে পারে বারবার, যে তারা সাধারণ মানুষের জীবনের দায় নেওয়ার জন্য ক্ষমতায় আসেনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ