কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের চিরন্তন পরম বন্ধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জাফর তালুকদার
সম্প্রতি গাজীপুরে বকেয়া বেতনের ন্যায্য দাবিতে রাজপথে নামা অসহায় পোশাক শ্রমিকদের ওপর বিএনপির রক্তক্ষয়ী লাঠিচার্জ ও অন্যায় দমন-পীড়ন এবং অন্যদিকে জামায়াত-শিবির চক্রের ধর্মীয় উসকানি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা আবারও তাদের অশুভ রাজনৈতিক চরিত্রকে জাতির সামনে উন্মোচিত করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে মেহনতি মানুষ সবসময়ই কেবল ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া আর সংকটকালে তাদের ওপর আঘাত হানোই এদের চিরচেনা সংস্কৃতি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতা উল্টালে একটি সত্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এদেশের মেহনতি মানুষ, কৃষক, শ্রমিক এবং ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দল কখনোই আন্তরিকতার সাথে পাশে দাঁড়ায়নি।

শ্রমিকদের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও পোশাক শিল্পের একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ছিল মাত্র ১,৬৬২ টাকা, যা দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব ছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে মজুরি বৃদ্ধি করেছে—২০১৩ সালে তা বাড়িয়ে ৫,৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮,০০০ টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে তা ১২,৫০০ টাকায় উন্নীত করে। শুধু তৈরি পোশাক শিল্পই নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল, সুতাকলসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক কল্যাণ: ২০১৩ সালের মর্মান্তিক রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি এবং তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের পর জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শত কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, তাদের উন্নত চিকিৎসা ও স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়। শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন, কারখানার অগ্নি-নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মূল কৃতিত্ব আওয়ামী লীগ সরকারের, যার ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো আজ বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কারখানার স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী: মেহনতি ও নিম্নবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আওয়ামী লীগ সরকার যেসব অভূতপূর্ব সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় এক অনন্য নজির। টিসিবি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি পরিবারের কাছে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’-এর মাধ্যমে লাখ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন কৃষক-শ্রমিককে বিনামূল্যে জমি ও পাকা ঘর উপহার দিয়ে গরিব-দুঃখী মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ তৈরি করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি: বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত নির্যাতন ও বিভেদের রাজনীতি দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতিকে ধূলিসাৎ করেছিল। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় একটি অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশে বিশ্বাস করে। সকল ধর্মের মানুষের মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করাকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে যেকোনো ধরণের উসকানি ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে সবসময়।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে কোনো দ্ব্যর্থহীন সংশয় থাকে না—বিএনপি-জামায়াত কেবল ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করে এবং সাধারণ মানুষের দুর্যোগে হাত গুটিয়ে নেয়। অপরদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এদেশের শ্রমিক, কৃষক ও আমজনতার সুখে-দুঃখে একমাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে আসছে। ইতিহাস যেমন অতীতে এটি প্রমাণ করেছে, তেমনই ভবিষ্যতেও এই সত্য অটুট থাকবে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ।

জাফর তালুকদার
সম্প্রতি গাজীপুরে বকেয়া বেতনের ন্যায্য দাবিতে রাজপথে নামা অসহায় পোশাক শ্রমিকদের ওপর বিএনপির রক্তক্ষয়ী লাঠিচার্জ ও অন্যায় দমন-পীড়ন এবং অন্যদিকে জামায়াত-শিবির চক্রের ধর্মীয় উসকানি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা আবারও তাদের অশুভ রাজনৈতিক চরিত্রকে জাতির সামনে উন্মোচিত করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে মেহনতি মানুষ সবসময়ই কেবল ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত চুষে খাওয়া আর সংকটকালে তাদের ওপর আঘাত হানোই এদের চিরচেনা সংস্কৃতি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতা উল্টালে একটি সত্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এদেশের মেহনতি মানুষ, কৃষক, শ্রমিক এবং ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দল কখনোই আন্তরিকতার সাথে পাশে দাঁড়ায়নি।

শ্রমিকদের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও পোশাক শিল্পের একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ছিল মাত্র ১,৬৬২ টাকা, যা দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব ছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে এসে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে মজুরি বৃদ্ধি করেছে—২০১৩ সালে তা বাড়িয়ে ৫,৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮,০০০ টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে তা ১২,৫০০ টাকায় উন্নীত করে। শুধু তৈরি পোশাক শিল্পই নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল, সুতাকলসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক কল্যাণ: ২০১৩ সালের মর্মান্তিক রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি এবং তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের পর জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শত কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, তাদের উন্নত চিকিৎসা ও স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়। শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন, কারখানার অগ্নি-নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মূল কৃতিত্ব আওয়ামী লীগ সরকারের, যার ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো আজ বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কারখানার স্বীকৃতি পেয়েছিলো।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনী: মেহনতি ও নিম্নবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আওয়ামী লীগ সরকার যেসব অভূতপূর্ব সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় এক অনন্য নজির। টিসিবি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি পরিবারের কাছে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’-এর মাধ্যমে লাখ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন কৃষক-শ্রমিককে বিনামূল্যে জমি ও পাকা ঘর উপহার দিয়ে গরিব-দুঃখী মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ তৈরি করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি: বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত নির্যাতন ও বিভেদের রাজনীতি দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতিকে ধূলিসাৎ করেছিল। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় একটি অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশে বিশ্বাস করে। সকল ধর্মের মানুষের মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করাকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে যেকোনো ধরণের উসকানি ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে সবসময়।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে কোনো দ্ব্যর্থহীন সংশয় থাকে না—বিএনপি-জামায়াত কেবল ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করে এবং সাধারণ মানুষের দুর্যোগে হাত গুটিয়ে নেয়। অপরদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এদেশের শ্রমিক, কৃষক ও আমজনতার সুখে-দুঃখে একমাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে আসছে। ইতিহাস যেমন অতীতে এটি প্রমাণ করেছে, তেমনই ভবিষ্যতেও এই সত্য অটুট থাকবে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ