ব্রিকসে না যাওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষতি, তারেককে ‘অপরিপক্ব’ বললেন শেখ হাসিনা

ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘অপরিপক্ব’ কাজ করেছেন এবং তাতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত অভিমান বা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে পররাষ্ট্রনীতি চালালে ফল উল্টো হতে বাধ্য।

পিটিআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, এই প্রভাবশালী জোটের মঞ্চে বাংলাদেশ উপস্থিত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির নতুন পথ তৈরি হতে পারত। কিন্তু সে সুযোগ সমূলে বিনষ্ট হলো।

তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে তাঁর অবস্থানই যদি তারেক রহমানের সম্মেলনে না যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সেটা অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ দুটি দেশের সম্পর্ক কোনো একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিবেচনা বা রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার ওপর নির্ভর করতে পারে না।

রহমানের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসিনা বলেন, দায়িত্বশীল সরকারের কাজ দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া, বন্ধ করা নয়।

উল্লেখ্য, বিমসটেকের (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সম্মেলন হলেও তিনি তাতে যোগ দেননি।

হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াটা গভীর পরিতাপের। আমার চোখে এটি ছিল একটি অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত, যা দেশের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ব্রিকস কেবল একটি কূটনৈতিক জমায়েত নয়। বিশ্বের বড় বড় উদীয়মান অর্থনীতি এখানে এক টেবিলে বসে, আর তা থেকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। অংশ নিলে বাংলাদেশ মূল্যবান অভিজ্ঞতা পেত, নিজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন পথও খুলতে পারত। সেই সুযোগ আমরা হারালাম।”

হাসিনার ভাষ্য, পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাব দিয়ে চলতে পারে না। তিনি বলেন, “ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও। কিন্তু ব্রিকসে যোগ দেওয়ার প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নিজের অবস্থান নিয়েও।”

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দিল্লিতে আছেন ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৯ সালে তিনি যখন ভারতে ছিলেন, তখনও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান নয়াদিল্লি সফরে গিয়েছিলেন।

প্রশ্নের উত্তরে হাসিনা বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে চার জাতীয় নেতাকে খুন করার পর জিয়াউর রহমান অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।”

তিনি বলেন, “তবু ১৯৭৯ সালে তিনি যখন দিল্লি গেলেন, আমি তখন দিল্লিতেই। ১৯৮০ সালে তিনি লন্ডনে গেলেন, আমি তখন লন্ডনেও ছিলাম। কোনো শহরেই আমার থাকাটা তাঁর সফরের পথে বাধা হয়নি।”

এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে হাসিনা বলেন, “তাহলে আজ আমি দিল্লিতে আছি বলে জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান কেন ভারতে আসতে পারবেন না? আসল কারণটা কী?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক একজন মানুষকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিবেচনা বা রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতা দিয়ে ঠিক হতে পারে না।”

নিজের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে, সে কথাও তুলে ধরেন হাসিনা। তিনি বলেন, “আমার সময়ে ভারতের সঙ্গে আমরা দৃঢ় সম্পর্ক রেখেছি, আবার একই সঙ্গে চীন, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ আরও অনেকের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছি।”

“এক দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে গিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে শত্রুতা করতে হয় না। বাংলাদেশের দরকার পরিণত, ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী পররাষ্ট্রনীতি। দায়িত্বশীল সরকার দেশের জন্য দরজা খুলে দেয়, বন্ধ করে না,” বলেন তিনি।

৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে হাসিনা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মতো একটি আলাপচারিতায় অংশ নেন। এরপর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দেয়। ওই অনুষ্ঠানের পর ঢাকা আবারও হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি করে, এমনকি তা তারেক রহমানের পরিকল্পিত ভারত সফরের সঙ্গে জুড়ে দিতেও চেয়েছিল। নয়াদিল্লি তখন নিজেদের এই অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখে। তারা জানায়, এতে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং কারো ব্যক্তিগত বক্তব্যে তাদের বলার কিছুও নেই।

রহমান সরকারের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির গতিপথেরও সমালোচনা করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নীতি হওয়া উচিত “স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থ দ্বারা চালিত”।

দেশে ফেরার বিষয়ে হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতেই তিনি ফিরছেন।

তিনি বলেন, “হাজার হাজার মানুষ জেলে। আরও অনেকে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি, চাকরি, ব্যবসা আর জীবিকা হারিয়েছে।”

“আমার প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ের অংশ। আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, তাদের অধিকারের লড়াইয়ে শামিল হতে চাই, আর আমার দেশে গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে চাই,” বলেন তিনি।

ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘অপরিপক্ব’ কাজ করেছেন এবং তাতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত অভিমান বা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে পররাষ্ট্রনীতি চালালে ফল উল্টো হতে বাধ্য।

পিটিআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, এই প্রভাবশালী জোটের মঞ্চে বাংলাদেশ উপস্থিত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির নতুন পথ তৈরি হতে পারত। কিন্তু সে সুযোগ সমূলে বিনষ্ট হলো।

তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে তাঁর অবস্থানই যদি তারেক রহমানের সম্মেলনে না যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সেটা অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ দুটি দেশের সম্পর্ক কোনো একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিবেচনা বা রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার ওপর নির্ভর করতে পারে না।

রহমানের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসিনা বলেন, দায়িত্বশীল সরকারের কাজ দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া, বন্ধ করা নয়।

উল্লেখ্য, বিমসটেকের (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সম্মেলন হলেও তিনি তাতে যোগ দেননি।

হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াটা গভীর পরিতাপের। আমার চোখে এটি ছিল একটি অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত, যা দেশের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ব্রিকস কেবল একটি কূটনৈতিক জমায়েত নয়। বিশ্বের বড় বড় উদীয়মান অর্থনীতি এখানে এক টেবিলে বসে, আর তা থেকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। অংশ নিলে বাংলাদেশ মূল্যবান অভিজ্ঞতা পেত, নিজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন পথও খুলতে পারত। সেই সুযোগ আমরা হারালাম।”

হাসিনার ভাষ্য, পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া কিংবা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাব দিয়ে চলতে পারে না। তিনি বলেন, “ভারত আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারও। কিন্তু ব্রিকসে যোগ দেওয়ার প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নিজের অবস্থান নিয়েও।”

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দিল্লিতে আছেন ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৯ সালে তিনি যখন ভারতে ছিলেন, তখনও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান নয়াদিল্লি সফরে গিয়েছিলেন।

প্রশ্নের উত্তরে হাসিনা বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে চার জাতীয় নেতাকে খুন করার পর জিয়াউর রহমান অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।”

তিনি বলেন, “তবু ১৯৭৯ সালে তিনি যখন দিল্লি গেলেন, আমি তখন দিল্লিতেই। ১৯৮০ সালে তিনি লন্ডনে গেলেন, আমি তখন লন্ডনেও ছিলাম। কোনো শহরেই আমার থাকাটা তাঁর সফরের পথে বাধা হয়নি।”

এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে হাসিনা বলেন, “তাহলে আজ আমি দিল্লিতে আছি বলে জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান কেন ভারতে আসতে পারবেন না? আসল কারণটা কী?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক একজন মানুষকে ঘিরে ব্যক্তিগত বিবেচনা বা রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতা দিয়ে ঠিক হতে পারে না।”

নিজের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে, সে কথাও তুলে ধরেন হাসিনা। তিনি বলেন, “আমার সময়ে ভারতের সঙ্গে আমরা দৃঢ় সম্পর্ক রেখেছি, আবার একই সঙ্গে চীন, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ আরও অনেকের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছি।”

“এক দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে গিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে শত্রুতা করতে হয় না। বাংলাদেশের দরকার পরিণত, ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী পররাষ্ট্রনীতি। দায়িত্বশীল সরকার দেশের জন্য দরজা খুলে দেয়, বন্ধ করে না,” বলেন তিনি।

৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে হাসিনা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মতো একটি আলাপচারিতায় অংশ নেন। এরপর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দেয়। ওই অনুষ্ঠানের পর ঢাকা আবারও হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি করে, এমনকি তা তারেক রহমানের পরিকল্পিত ভারত সফরের সঙ্গে জুড়ে দিতেও চেয়েছিল। নয়াদিল্লি তখন নিজেদের এই অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখে। তারা জানায়, এতে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং কারো ব্যক্তিগত বক্তব্যে তাদের বলার কিছুও নেই।

রহমান সরকারের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির গতিপথেরও সমালোচনা করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নীতি হওয়া উচিত “স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থ দ্বারা চালিত”।

দেশে ফেরার বিষয়ে হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতেই তিনি ফিরছেন।

তিনি বলেন, “হাজার হাজার মানুষ জেলে। আরও অনেকে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি, চাকরি, ব্যবসা আর জীবিকা হারিয়েছে।”

“আমার প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ের অংশ। আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, তাদের অধিকারের লড়াইয়ে শামিল হতে চাই, আর আমার দেশে গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে চাই,” বলেন তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ