সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া দলের কাছে কৃষকের কান্না পৌঁছায় না

রাজশাহী থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চার হাজারের বেশি ট্রাক-পিকআপ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ডিজেল নেই। চালক নেই মানে কাজ নেই, কাজ নেই মানে সংসার চলছে না। শুধু ড্রাইভার আর হেলপার না, লোড-আনলোডের শ্রমিক, আড়তদার, কৃষক, মাছচাষি, খামারি, সবাই একটা অদৃশ্য দেয়ালের সামনে এসে থমকে গেছেন। হিসাব করলে অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ এই মুহূর্তে কার্যত কর্মহীন। কিন্তু বিএনপি সরকারের কোনো মন্ত্রী এই নিয়ে এখন পর্যন্ত একটা কথাও বলেননি যা মানুষের কাজে আসে।

এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারির একটা নির্বাচনের মাধ্যমে, যেটাকে নির্বাচন বলতে অনেকের মুখেই আটকে যায়। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ওই ভোটে অংশ নেয়নি। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায়নি বললেই চলে। মূলত নিজেরা মিলে একটা আয়োজন করে, নিজেরাই জিতে, নিজেরাই মন্ত্রী হয়ে বসেছে। এই যে বৈধতার সংকট নিয়ে যে সরকার চলছে, তার প্রতিফলন এখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দেখা যাচ্ছে। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার সাহেব বলেছেন, “বিষয়টা পুরোপুরি জানা নেই, পরে বলব, এখন ব্যস্ত আছি।” এটা একটা সরকারি কর্মকর্তার জবাব, যার এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ চরম বিপদে আছেন।

বিএনপি বরাবরই বলে এসেছে তারা জনগণের দল। কিন্তু উত্তরবঙ্গের এই সংকটে জনগণের কথা কোথায়? তিন সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে ডিজেল কমে আসছে, অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর সরকার বলছে সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। পাম্প মালিকরা বলছেন যেখানে দিনে ১৫ হাজার লিটার দরকার সেখানে পাচ্ছেন পাঁচ হাজার। সরকারের দাবি আর বাস্তবতার মধ্যে এই যে বিশাল ফাঁক, এটা কোনো দৈব দুর্যোগ না, এটা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।

এখন বোরো মৌসুম চলছে। আম, লিচু, ধানের মাঠে পানির প্রয়োজন। বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচের প্রধান ভরসা ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন। সেই মেশিন চলছে না। মাঠে ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষক যখন মাঠের আইলে বসে হাহাকার করছেন, তখন একটা সরকার যদি বলে “সমস্যা নেই” তাহলে সেই সরকারকে কী বলা উচিত?

এই সরকারের জন্মের গল্পটা না বললে পুরোটা বোঝা যাবে না। বিএনপির পত্তন হয়েছিল সেনানিবাসে, জিয়াউর রহমানের হাতে, একটা অস্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সেই দলটা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুর্নীতি আর পেশিশক্তির যে সংস্কৃতি তৈরি করেছে, সেই সংস্কৃতিরই ফলাফল আজকের জ্বালানি সিন্ডিকেট। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিজে বলছেন উচ্চপর্যায়ের সিন্ডিকেট ডিজেল নিয়ে ছেলেখেলা করছে। এই সিন্ডিকেট কারা? তারা কি কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় নেই?

ফরিদ উদ্দিন ২২ বছর ট্রাক চালান। তিনি বলেছেন, এই ভোগান্তি জীবনে দেখেননি। সুমন বিশ্বাস নামের হেলপার বলেছেন গাড়ি না চললে পেটও চলে না। এই মানুষগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র না, এরা সাধারণ শ্রমজীবী। এদের কথা শোনার, এদের সমস্যা সমাধানের দায় যে সরকারের, সেই সরকার কি আদৌ সেই দায় অনুভব করে? যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, সে সরকারের কাছে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আশা করাটা হয়তো এমনিতেই বৃথা।

মাছ, সবজি, দুধ, ডিম, যা উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে যায়, তা আটকে গেলে দাম বাড়বে সারাদেশে। কিন্তু উত্তরের কৃষক দাম পাবেন না, কারণ পণ্য পচে যাবে মাঠেই। দুই দিক থেকেই মার খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মাঝখানে সিন্ডিকেট ফুলেফেঁপে উঠছে, আর সরকার বলছে সবকিছু ঠিকঠাক আছে।

একটা জনবিচ্ছিন্ন সরকার ক্ষমতায় থাকলে এমনটাই হয়। প্রশাসনের জবাবদিহিতা থাকে না, সংকটে সাড়া দেওয়ার তাড়া থাকে না। যারা ভোট দেয়নি, তাদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণ থাকে না। উত্তরাঞ্চলের ডিজেল সংকট তাই শুধু একটা জ্বালানি সমস্যা না, এটা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে ধরনের শাসন চলছে তার একটা পরিচ্ছন্ন প্রতিচ্ছবি মাত্র।

রাজশাহী থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চার হাজারের বেশি ট্রাক-পিকআপ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ডিজেল নেই। চালক নেই মানে কাজ নেই, কাজ নেই মানে সংসার চলছে না। শুধু ড্রাইভার আর হেলপার না, লোড-আনলোডের শ্রমিক, আড়তদার, কৃষক, মাছচাষি, খামারি, সবাই একটা অদৃশ্য দেয়ালের সামনে এসে থমকে গেছেন। হিসাব করলে অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ এই মুহূর্তে কার্যত কর্মহীন। কিন্তু বিএনপি সরকারের কোনো মন্ত্রী এই নিয়ে এখন পর্যন্ত একটা কথাও বলেননি যা মানুষের কাজে আসে।

এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারির একটা নির্বাচনের মাধ্যমে, যেটাকে নির্বাচন বলতে অনেকের মুখেই আটকে যায়। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ওই ভোটে অংশ নেয়নি। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে যায়নি বললেই চলে। মূলত নিজেরা মিলে একটা আয়োজন করে, নিজেরাই জিতে, নিজেরাই মন্ত্রী হয়ে বসেছে। এই যে বৈধতার সংকট নিয়ে যে সরকার চলছে, তার প্রতিফলন এখন প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দেখা যাচ্ছে। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার সাহেব বলেছেন, “বিষয়টা পুরোপুরি জানা নেই, পরে বলব, এখন ব্যস্ত আছি।” এটা একটা সরকারি কর্মকর্তার জবাব, যার এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ চরম বিপদে আছেন।

বিএনপি বরাবরই বলে এসেছে তারা জনগণের দল। কিন্তু উত্তরবঙ্গের এই সংকটে জনগণের কথা কোথায়? তিন সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে ডিজেল কমে আসছে, অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর সরকার বলছে সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। পাম্প মালিকরা বলছেন যেখানে দিনে ১৫ হাজার লিটার দরকার সেখানে পাচ্ছেন পাঁচ হাজার। সরকারের দাবি আর বাস্তবতার মধ্যে এই যে বিশাল ফাঁক, এটা কোনো দৈব দুর্যোগ না, এটা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।

এখন বোরো মৌসুম চলছে। আম, লিচু, ধানের মাঠে পানির প্রয়োজন। বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচের প্রধান ভরসা ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন। সেই মেশিন চলছে না। মাঠে ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষক যখন মাঠের আইলে বসে হাহাকার করছেন, তখন একটা সরকার যদি বলে “সমস্যা নেই” তাহলে সেই সরকারকে কী বলা উচিত?

এই সরকারের জন্মের গল্পটা না বললে পুরোটা বোঝা যাবে না। বিএনপির পত্তন হয়েছিল সেনানিবাসে, জিয়াউর রহমানের হাতে, একটা অস্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সেই দলটা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুর্নীতি আর পেশিশক্তির যে সংস্কৃতি তৈরি করেছে, সেই সংস্কৃতিরই ফলাফল আজকের জ্বালানি সিন্ডিকেট। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিজে বলছেন উচ্চপর্যায়ের সিন্ডিকেট ডিজেল নিয়ে ছেলেখেলা করছে। এই সিন্ডিকেট কারা? তারা কি কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় নেই?

ফরিদ উদ্দিন ২২ বছর ট্রাক চালান। তিনি বলেছেন, এই ভোগান্তি জীবনে দেখেননি। সুমন বিশ্বাস নামের হেলপার বলেছেন গাড়ি না চললে পেটও চলে না। এই মানুষগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র না, এরা সাধারণ শ্রমজীবী। এদের কথা শোনার, এদের সমস্যা সমাধানের দায় যে সরকারের, সেই সরকার কি আদৌ সেই দায় অনুভব করে? যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, সে সরকারের কাছে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আশা করাটা হয়তো এমনিতেই বৃথা।

মাছ, সবজি, দুধ, ডিম, যা উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে যায়, তা আটকে গেলে দাম বাড়বে সারাদেশে। কিন্তু উত্তরের কৃষক দাম পাবেন না, কারণ পণ্য পচে যাবে মাঠেই। দুই দিক থেকেই মার খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মাঝখানে সিন্ডিকেট ফুলেফেঁপে উঠছে, আর সরকার বলছে সবকিছু ঠিকঠাক আছে।

একটা জনবিচ্ছিন্ন সরকার ক্ষমতায় থাকলে এমনটাই হয়। প্রশাসনের জবাবদিহিতা থাকে না, সংকটে সাড়া দেওয়ার তাড়া থাকে না। যারা ভোট দেয়নি, তাদের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণ থাকে না। উত্তরাঞ্চলের ডিজেল সংকট তাই শুধু একটা জ্বালানি সমস্যা না, এটা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে ধরনের শাসন চলছে তার একটা পরিচ্ছন্ন প্রতিচ্ছবি মাত্র।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ