ইউনূসের বিচারব্যবস্থা: লাশের চেয়ে নথি হারায় বেশি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শামীম আহমেদ হত্যার পর দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। বিচার? এখনও ঝুলে আছে। পিবিআই বলছে তাদের কাছে একটা মামলার নথিই নেই। আসামিরা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, একজন তো আবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিতেও বসেছে। নিহতের পরিবার থানায় যাচ্ছে, আদালতে যাচ্ছে, কিন্তু কোথাও কোনো সাড়া নেই। এটাকে বিচারহীনতা বললে হয়তো কম বলা হয়, এটা আসলে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার একটা প্রকাশ্য প্রদর্শনী।

কিন্তু এই ব্যর্থতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। যে সরকারের আমলে এই তদন্ত এগোয়নি, সেই সরকারটাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ একটি কর্তৃপক্ষ। মুহাম্মদ ইউনূস ও তার তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছিল ২০২৪ সালের আগস্টে, একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেটাকে সরল ভাষায় অভ্যুত্থান ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। বিদেশি অর্থায়ন, ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামরিক বাহিনীর মৌন সমর্থনে দেশের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসা একজন মানুষ যখন “বিচার ও ন্যায়বিচার” এর কথা বলেন, তখন সেটা হাস্যকর শোনায়।

শামীমের মৃত্যু হয়েছিল সেপ্টেম্বরের আঠারো তারিখে, ইউনূস সরকার তখন সবে ক্ষমতায় বসেছে। তখন থেকেই দেখা গেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা রাতারাতি এগিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু মামলা ঠিক ততটাই দ্রুততায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শামীমের মামলাটা পড়েছে দ্বিতীয় দলে। কারণটা খুব বড় গোপন বিষয় নয়, শামীম ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, আর তাকে যারা মেরেছে বলে অভিযোগ, তাদের অনেকেই ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত।

আহসান লাবিব, যার নাম হত্যা মামলার আসামি তালিকায় আছে, সে জাকসু নির্বাচনে জিতে বসেছে। হামিদুল্লাহ সালমান ছাত্রদলের হল সভাপতি হয়ে গেছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা বার্তা, যে এই সরকারের ছত্রছায়ায় থাকলে হত্যার অভিযোগও কোনো বাধা নয়।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করছেন যে একটি মামলার নথিই তার কাছে নেই। এক বছরেরও বেশি সময়ে একটি মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করা যায়নি, এটা প্রশাসনিক অদক্ষতা নয়, এটা ইচ্ছাকৃত। কেউ চাইলে এক সপ্তাহেও একটি মামলার নথি এক দফতর থেকে আরেক দফতরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু যখন উপর থেকে সবুজ সংকেত থাকে না, তখন কাগজও নড়ে না।

ইউনূস সরকার এখন আর নেই। ফেব্রুয়ারির সতেরো তারিখ থেকে বিএনপি ক্ষমতায়। কিন্তু সেই সরকারের রেখে যাওয়া ক্ষতের দাগ এখনও শুকায়নি। শামীমের পরিবার এখনও অপেক্ষায় আছে। নিহতের ভাই শাহীন আলম প্রতিবার কোথাও গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসছেন। এই পরিবারের যন্ত্রণাটা পরিসংখ্যানে পরিণত হয়নি, কিন্তু এটাই সেই সরকারের আসল মুখ।

একটা সরকার যখন বৈধ পথে ক্ষমতায় আসে না, তখন সে সরকার বৈধ বিচারও দিতে পারে না। কারণ বিচার মানে জবাবদিহিতা, আর জবাবদিহিতা মানে স্বীকার করা যে কোনো কাজের একটা হিসাব দিতে হবে। যে সরকার নিজেই হিসাব দিতে অস্বীকার করে ক্ষমতায় বসে, সে সরকারের কাছে মৃত একজন মানুষের ন্যায়বিচার চাওয়াটা অনেকটা ঘাতকের কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার মতো।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শামীম আহমেদ হত্যার পর দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। বিচার? এখনও ঝুলে আছে। পিবিআই বলছে তাদের কাছে একটা মামলার নথিই নেই। আসামিরা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, একজন তো আবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিতেও বসেছে। নিহতের পরিবার থানায় যাচ্ছে, আদালতে যাচ্ছে, কিন্তু কোথাও কোনো সাড়া নেই। এটাকে বিচারহীনতা বললে হয়তো কম বলা হয়, এটা আসলে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার একটা প্রকাশ্য প্রদর্শনী।

কিন্তু এই ব্যর্থতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। যে সরকারের আমলে এই তদন্ত এগোয়নি, সেই সরকারটাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ একটি কর্তৃপক্ষ। মুহাম্মদ ইউনূস ও তার তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছিল ২০২৪ সালের আগস্টে, একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেটাকে সরল ভাষায় অভ্যুত্থান ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। বিদেশি অর্থায়ন, ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামরিক বাহিনীর মৌন সমর্থনে দেশের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতার মসনদে বসা একজন মানুষ যখন “বিচার ও ন্যায়বিচার” এর কথা বলেন, তখন সেটা হাস্যকর শোনায়।

শামীমের মৃত্যু হয়েছিল সেপ্টেম্বরের আঠারো তারিখে, ইউনূস সরকার তখন সবে ক্ষমতায় বসেছে। তখন থেকেই দেখা গেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা রাতারাতি এগিয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু মামলা ঠিক ততটাই দ্রুততায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শামীমের মামলাটা পড়েছে দ্বিতীয় দলে। কারণটা খুব বড় গোপন বিষয় নয়, শামীম ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, আর তাকে যারা মেরেছে বলে অভিযোগ, তাদের অনেকেই ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত।

আহসান লাবিব, যার নাম হত্যা মামলার আসামি তালিকায় আছে, সে জাকসু নির্বাচনে জিতে বসেছে। হামিদুল্লাহ সালমান ছাত্রদলের হল সভাপতি হয়ে গেছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা বার্তা, যে এই সরকারের ছত্রছায়ায় থাকলে হত্যার অভিযোগও কোনো বাধা নয়।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করছেন যে একটি মামলার নথিই তার কাছে নেই। এক বছরেরও বেশি সময়ে একটি মামলার কাগজপত্র সংগ্রহ করা যায়নি, এটা প্রশাসনিক অদক্ষতা নয়, এটা ইচ্ছাকৃত। কেউ চাইলে এক সপ্তাহেও একটি মামলার নথি এক দফতর থেকে আরেক দফতরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু যখন উপর থেকে সবুজ সংকেত থাকে না, তখন কাগজও নড়ে না।

ইউনূস সরকার এখন আর নেই। ফেব্রুয়ারির সতেরো তারিখ থেকে বিএনপি ক্ষমতায়। কিন্তু সেই সরকারের রেখে যাওয়া ক্ষতের দাগ এখনও শুকায়নি। শামীমের পরিবার এখনও অপেক্ষায় আছে। নিহতের ভাই শাহীন আলম প্রতিবার কোথাও গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসছেন। এই পরিবারের যন্ত্রণাটা পরিসংখ্যানে পরিণত হয়নি, কিন্তু এটাই সেই সরকারের আসল মুখ।

একটা সরকার যখন বৈধ পথে ক্ষমতায় আসে না, তখন সে সরকার বৈধ বিচারও দিতে পারে না। কারণ বিচার মানে জবাবদিহিতা, আর জবাবদিহিতা মানে স্বীকার করা যে কোনো কাজের একটা হিসাব দিতে হবে। যে সরকার নিজেই হিসাব দিতে অস্বীকার করে ক্ষমতায় বসে, সে সরকারের কাছে মৃত একজন মানুষের ন্যায়বিচার চাওয়াটা অনেকটা ঘাতকের কাছে নিরাপত্তা চাওয়ার মতো।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ