জনদুর্ভোগ চরমে, চোখে টিনের চশমা পরে আছে ৩০ পারসেন্টের সরকার

দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত। একদিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, অন্যদিকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নজিরবিহীন চাঁদাবাজি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যেন ‘চোখে টিনের চশমা’ দিয়ে বসে আছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবের চেয়ে শাসকগোষ্ঠীর অনুগতদের ‘৩০ পারসেন্ট’ কমিশন নিশ্চিত করতেই প্রশাসন বেশি ব্যস্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলপিজির দামে আগ্নেয়গিরি: সাধারণের নাগালের বাইরে জ্বালানি

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এপ্রিল মাসে একলাফে প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। অর্থাৎ, এক মাসেই দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা।

অতীতের রেকর্ড বলছে, ২০২৫ সালেও মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই দাম ছিল ১ হাজার ৪৯৮ টাকা। এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ২০২২ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাম ১ হাজার ৪৩৯ টাকায় উঠলেও দ্রুত তা সমন্বয় করে ১ হাজার ২২৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট বুধবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। এমন ভয়াবহ পূর্বাভাসের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

‘মিস্টার ১০ পারসেন্ট’ থেকে ‘৩০ পারসেন্টের সরকার’

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশীর্বাদে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি করা হচ্ছে। এই কমিশন না দিলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফ চালের বরাদ্দ থেকে এমপির নির্ধারিত ‘৩০ পারসেন্ট’ না দেওয়ায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একটি ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডে এই চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ একে তারেক রহমানের পুরনো ‘মিস্টার ১০ পারসেন্ট’ ও ‘খাম্বা কেলেঙ্কারি’র আধুনিক ও বর্ধিত সংস্করণ হিসেবে দেখছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভাটরা ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে বের করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ছাত্রদল। কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থাকলেও তাকে হেনস্তা ও সিসিটিভি ডিভাইস লুট করা হয়েছে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে কাবিখা প্রকল্পের অর্থ চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে বেধড়ক মারধর করেছে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা।

সরকার জেলা পরিষদগুলো থেকে আমলাদের সরিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট তছরুপের একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ। ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংস্কারের নামে যদি এমন লুটপাট ও অরাজকতা চলতে থাকে, তবে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ দ্রুতই ভেঙে পড়বে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি দেশকে এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে জনজীবন এখন ওষ্ঠাগত। একদিকে আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, অন্যদিকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নজিরবিহীন চাঁদাবাজি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যেন ‘চোখে টিনের চশমা’ দিয়ে বসে আছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবের চেয়ে শাসকগোষ্ঠীর অনুগতদের ‘৩০ পারসেন্ট’ কমিশন নিশ্চিত করতেই প্রশাসন বেশি ব্যস্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলপিজির দামে আগ্নেয়গিরি: সাধারণের নাগালের বাইরে জ্বালানি

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এপ্রিল মাসে একলাফে প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। অর্থাৎ, এক মাসেই দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা।

অতীতের রেকর্ড বলছে, ২০২৫ সালেও মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই দাম ছিল ১ হাজার ৪৯৮ টাকা। এমনকি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ২০২২ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাম ১ হাজার ৪৩৯ টাকায় উঠলেও দ্রুত তা সমন্বয় করে ১ হাজার ২২৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট বুধবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। এমন ভয়াবহ পূর্বাভাসের পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

‘মিস্টার ১০ পারসেন্ট’ থেকে ‘৩০ পারসেন্টের সরকার’

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশীর্বাদে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন দাবি করা হচ্ছে। এই কমিশন না দিলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফ চালের বরাদ্দ থেকে এমপির নির্ধারিত ‘৩০ পারসেন্ট’ না দেওয়ায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একটি ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডে এই চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ একে তারেক রহমানের পুরনো ‘মিস্টার ১০ পারসেন্ট’ ও ‘খাম্বা কেলেঙ্কারি’র আধুনিক ও বর্ধিত সংস্করণ হিসেবে দেখছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভাটরা ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বুলবুলকে কার্যালয় থেকে বের করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ছাত্রদল। কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থাকলেও তাকে হেনস্তা ও সিসিটিভি ডিভাইস লুট করা হয়েছে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে কাবিখা প্রকল্পের অর্থ চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে বেধড়ক মারধর করেছে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা।

সরকার জেলা পরিষদগুলো থেকে আমলাদের সরিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট তছরুপের একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ। ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংস্কারের নামে যদি এমন লুটপাট ও অরাজকতা চলতে থাকে, তবে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ দ্রুতই ভেঙে পড়বে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি দেশকে এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ