গুরু এসেই শুরু করে দিয়েছে! ফ্যামিলি কার্ডের সাথে সাথে একটা গ্যাস কার্ডও যদি দেওয়া যেত, তাহলে বোধহয় এই রমজানে মানুষের একটু উপকার হতো। কিন্তু সেই সৌভাগ্য আমাদের নেই। যা আছে তা হলো মগবাজার থেকে মিরপুর, বনশ্রী থেকে মোহাম্মদপুর, ঢাকার গলি থেকে সাভারের শিল্পাঞ্চল, সর্বত্র একটাই গল্প। চুলায় আগুন নেই। সাহ্রির সময় উঠে রান্না করতে গেলে গ্যাস নেই, ইফতারের সময় বাইরে থেকে কিনে খাও।
এই অবস্থায় তারেক রহমান এবং তাঁর দল বিএনপির কথা একটু মনে করিয়ে দেওয়া দরকার। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়ে গেল, সেই নির্বাচনে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি, জনগণের একটা বিশাল অংশ ভোট কেন্দ্রে যায়নি, এবং সেই অংশগ্রহণহীন, কার্যত পাতানো একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। সেই বিএনপি, যার জন্ম জিয়াউর রহমানের হাতে, সেনানিবাসের ছায়ায়, যেখানে গণতন্ত্রের চেয়ে ক্ষমতার গন্ধটা সবসময় বেশি তীব্র ছিল।
তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন গ্যাসের নতুন খনি আবিষ্কার হবে, ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কথা বলার সময় তিনি লন্ডনে বসে ছিলেন, যেখানে গ্যাস সংকটের কোনো চিন্তা নেই। বাংলাদেশের মানুষ সেই প্রতিশ্রুতি শুনেছে, কেউ কেউ বিশ্বাসও করেছে। আজকে যখন সামান্তা রহমান ইলেকট্রিক চুলা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, নাহিদ হাসান মাঝ রাতে উঠে রান্না করছেন, তখন সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে পড়লে হাসবেন না কাঁদবেন বুঝতে পারছি না।
বাস্তবতা হলো, দেশে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৬০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ২০১৭ সালে যেখানে ছিল ২৭০ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি, এখন তা নেমে এসেছে ১৮০ কোটিতে। এই পরিস্থিতি কি এক দিনে তৈরি হয়েছে? না। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে মনোযোগ না দিয়ে আমদানির পথে হেঁটেছে, এটা সত্যি। কিন্তু তারেক রহমান এবং বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন তো খুব গলা ফাটিয়ে বলেছে, আমরা ক্ষমতায় গেলে গ্যাস দেব, আলো দেব, সংকট মিটিয়ে দেব। ক্ষমতায় আসার পর সেই গলার জোর কোথায় গেল?
শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ, চাহিদার ২০ ভাগ গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না, ডিজেলে কারখানা চালাতে গিয়ে খরচ ছয় গুণ বেড়ে যাচ্ছে, সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে অটোরিকশাচালক ১০০ টাকার গ্যাস পাচ্ছে, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ১৩০৬ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২৪০০ টাকায়, এই সব কিছু দেখেও তারেক রহমানের সরকার আপাতত কী করছে? সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় তিন ঘণ্টা বাড়াচ্ছে। ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার কথা বলছে। পরিকল্পনার কাগজ তৈরি হচ্ছে।
যিনি লন্ডনে থেকে উড়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার গরম করে বসে আছেন, তিনি এই রমজানে বাংলাদেশের একটা সাধারণ বাসার চুলা জ্বালাতে গেলে কী পরিস্থিতিতে পড়তেন, সেটা একবার ভাবলেও হয়তো কিছুটা বোধোদয় হতো। কিন্তু সেই সুযোগ নেই, কারণ তার দেহ বাংলাদেশে থাকলেও, মন পড়ে আছে লন্ডনেই, আর সেখানে গ্যাস সংকট নেই।

