শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ভোট জালিয়াতির সব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন বলে তীব্র অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভোটারদের মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনো মোবাইলফোন নেওয়া যাবে না। সাধারণ ভোটারদের জন্য এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য এই আওতামুক্ত থাকবেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত থাকলেও বাকি আসনগুলোতে ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ৫১টি নিবন্ধিত দল অংশ নিচ্ছে।
তবে এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে যে অবৈধ শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছে, সেখানে গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে পর্যবেক্ষক নিয়োগের নামে ৫৫ হাজার ভাড়াটে কর্মী নিয়োগ দেওয়াকে দেখা হচ্ছে প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামক সংস্থাকে ১০,২৫০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার নির্বাহী পরিচালক একজন চিহ্নিত জামাত নেতা। এই সংস্থাটি ১২৭টি আসনে যাদের মনোনীত করেছে, তারা মূলত জামাত-শিবিরের সক্রিয় কর্মী। উত্তরবঙ্গসহ জামাতের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে সুপরিকল্পিতভাবে এদের মোতায়েন করা হয়েছে।
পাশা ছাড়াও লামিয়া মোর্শেদের সাথে যুক্ত ‘কার্ড’ নামের আরেকটি সংস্থাকে ৩,৫৬১ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মোট ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজারই জামাত-শিবির ও এনসিপি’র নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
অভিযোগ উঠেছে, এদের আসল কাজ হবে নির্বাচনের দিন মাঠে নেমে বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো এবং ভোটের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করা। ফলাফল প্রতিকূলে গেলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে হইচই করা এবং জয়ী হলে উৎসব করা—এমন নোংরা রাজনীতির নীল নকশা সাজানো হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি ছাড়াই কমপক্ষে ১৫টি নামসর্বস্ব এনজিওকে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যাদের অর্থের উৎস ও এজেন্ডা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ রয়েছে। বিদেশি শক্তির অর্থ ও বিশেষ মহলের মদদে চলা এই সরকার নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে এমন হীন কাজ করতে দ্বিধা করছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের নামে এই প্রহসন সেই অবৈধ ক্ষমতাকে কখনো বৈধতা দিতে পারবে না।

