Sunday, February 8, 2026

খাদ্য নিরাপত্তা: ১৮ মাস পরেও ভরসা সেই ‘হাসিনা আমলের’ মজুত

রাষ্ট্রক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা খাতে বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন বা নতুন সক্ষমতা দৃশ্যমান নয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমান সময়ের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা মূলত বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গড়ে তোলা মজুত সক্ষমতা এবং সেই সময়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন সাইলো নির্মাণ বা মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বড় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। বরং আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম ও বাফার স্টক (আপৎকালীন মজুদ) ব্যবহার করেই বর্তমান জাতীয় চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

মজুদ সক্ষমতার ‘লিগ্যাসি’ ও অবকাঠামো খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টনের বেশিতে উন্নীত করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রজেক্ট’ (MFSP)-এর আওতায় নির্মিত আধুনিক সাইলো এবং গুদামগুলোই এখন জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে গৃহীত পরিকল্পনা ছিল মূলত ১৮ থেকে ২৪ মাসের আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। অর্থাৎ, উৎপাদন ব্যাহত হলেও যেন অন্তত দুই বছর দেশ সংকটে না পড়ে। বর্তমান প্রশাসন মূলত সেই ‘সুরক্ষা বলয়ের’ সুফলই ভোগ করছে।

সাবেক এক কৃষি সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা হুট করে তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। বর্তমানে আমরা যে স্থিতিশীলতা দেখছি, তা মূলত বিগত ৫-৭ বছরে গড়ে তোলা সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ফল। গত ১৮ মাসে নতুন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির বড় কোনো নজির আমরা পাইনি।”

পরীক্ষিত কাঠামোর ধারাবাহিকতা অর্থনীতিবিদদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও বাংলাদেশ যে বড় সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল, তার মূলে ছিল তৎকালীন ‘বাফার স্টক’ নীতি। বর্তমানে ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি), টিসিবি এবং ভিজিডি-ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হচ্ছে, তা মূলত সেই পুরোনো কাঠামোরই ধারাবাহিকতা।

নতুন উদ্যোগের ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি খাদ্য অধিদপ্তরের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত ১৮ মাসে রুটিন কাজের বাইরে বড় কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময়ে করা জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় আসা খাদ্যশস্য দিয়েই মজুদ সচল রাখা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য গুদাম ডিজিটালাইজেশনের যে প্রক্রিয়া আগে শুরু হয়েছিল, তা-ই বর্তমানে চলমান।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে পুরোনো মজুদের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে। বড় কোনো সংকট মোকাবিলায় এখনই নতুন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক উৎস খোঁজার উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় না, তবে তা রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার সাক্ষ্য দেয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট নির্দেশ করছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য পরিকল্পনার সুফল দিয়েই দেশ এখনো তার খাদ্য নিরাপত্তার বৈতরণি পার করছে।

রাষ্ট্রক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর প্রায় ১৮ মাস অতিবাহিত হলেও দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য নিরাপত্তা খাতে বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন বা নতুন সক্ষমতা দৃশ্যমান নয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমান সময়ের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা মূলত বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গড়ে তোলা মজুত সক্ষমতা এবং সেই সময়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত দেড় বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন সাইলো নির্মাণ বা মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বড় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। বরং আগের সরকারের রেখে যাওয়া ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম ও বাফার স্টক (আপৎকালীন মজুদ) ব্যবহার করেই বর্তমান জাতীয় চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

মজুদ সক্ষমতার ‘লিগ্যাসি’ ও অবকাঠামো খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মেয়াদে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টনের বেশিতে উন্নীত করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফেসিলিটিজ প্রজেক্ট’ (MFSP)-এর আওতায় নির্মিত আধুনিক সাইলো এবং গুদামগুলোই এখন জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই সময়ে গৃহীত পরিকল্পনা ছিল মূলত ১৮ থেকে ২৪ মাসের আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। অর্থাৎ, উৎপাদন ব্যাহত হলেও যেন অন্তত দুই বছর দেশ সংকটে না পড়ে। বর্তমান প্রশাসন মূলত সেই ‘সুরক্ষা বলয়ের’ সুফলই ভোগ করছে।

সাবেক এক কৃষি সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা হুট করে তৈরি করা কোনো বিষয় নয়। বর্তমানে আমরা যে স্থিতিশীলতা দেখছি, তা মূলত বিগত ৫-৭ বছরে গড়ে তোলা সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ফল। গত ১৮ মাসে নতুন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির বড় কোনো নজির আমরা পাইনি।”

পরীক্ষিত কাঠামোর ধারাবাহিকতা অর্থনীতিবিদদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও বাংলাদেশ যে বড় সংকট ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল, তার মূলে ছিল তৎকালীন ‘বাফার স্টক’ নীতি। বর্তমানে ওএমএস (খোলা বাজারে বিক্রি), টিসিবি এবং ভিজিডি-ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে চাল ও গম সরবরাহ করা হচ্ছে, তা মূলত সেই পুরোনো কাঠামোরই ধারাবাহিকতা।

নতুন উদ্যোগের ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি খাদ্য অধিদপ্তরের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত ১৮ মাসে রুটিন কাজের বাইরে বড় কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখা যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময়ে করা জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় আসা খাদ্যশস্য দিয়েই মজুদ সচল রাখা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য গুদাম ডিজিটালাইজেশনের যে প্রক্রিয়া আগে শুরু হয়েছিল, তা-ই বর্তমানে চলমান।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে পুরোনো মজুদের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে। বড় কোনো সংকট মোকাবিলায় এখনই নতুন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক উৎস খোঁজার উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেয় না, তবে তা রাষ্ট্র পরিচালনার দূরদর্শিতার সাক্ষ্য দেয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট নির্দেশ করছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য পরিকল্পনার সুফল দিয়েই দেশ এখনো তার খাদ্য নিরাপত্তার বৈতরণি পার করছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ