Wednesday, February 4, 2026

বিশেষজ্ঞ বাদ দিয়ে, জনমত উপেক্ষা করে গণমাধ্যমে শিকল পরানোর ষড়যন্ত্র

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার দেখা যাচ্ছে যে একটা অবৈধ সরকার, যারা রাস্তায় দাঙ্গা লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা এখন সংবিধান লঙ্ঘন করে গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার জন্য আইন বানাচ্ছে। ইউনুস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টারা যেভাবে সম্প্রচার অধ্যাদেশ ২০২৬ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তা দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে এরা গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চান।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনের নামে যে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বিদেশি শক্তির মদদ ছিল, ছিল ইসলামি জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ সহায়তা। একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যখন ক্ষমতায় বসলেন ইউনুস, তখন থেকেই পরিকল্পনা ছিল যে কীভাবে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এখন গণমাধ্যমের পালা। কারণ গণমাধ্যমই পারে তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে।

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু এই অধ্যাদেশে যেসব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন। ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ বলতে কী বোঝায়? কে ঠিক করবে কোনটা জনস্বার্থ আর কোনটা নয়? ইউনুস সাহেবের সরকার? যারা নিজেরাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তারা জনস্বার্থের ব্যাখ্যা দেবেন? এটা তো সরাসরি ঠাট্টা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২৮ জানুয়ারি সকালে এই খসড়া প্রকাশ করেছে আর সময় দিয়েছে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মাত্র চার দিন। একটা দেশের পুরো সম্প্রচার ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর জন্য চার দিন সময়! এটা কি কোনো রসিকতা? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বাইরে রাখার কৌশল? উত্তর পরিষ্কার। তারা চায় না কেউ এই অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলুক, আপত্তি জানাক।

যে সময়ে এই খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, সেটাও লক্ষ করার মতো। দেশজুড়ে নির্বাচন চলছে, মানুষ ব্যস্ত ভোট নিয়ে। এই সুযোগে চুপিসারে একটা কালো আইন চালু করে দেওয়ার চেষ্টা। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খাদিজা তাহেরা ববি যে অজুহাত দিয়েছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সীমিত তাই চার দিনে কাজ শেষ করতে হবে, সেটা আরও হাস্যকর। যে সরকারের বৈধতাই নেই, তারা সময়ের অভাবের কথা বলছেন? যাদের থাকারই কথা ছিল না ক্ষমতায়, তারা এত তাড়া কেন?

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক একদম ঠিক কথা বলেছেন। এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে কোনো টেকসই ফলাফল আসে না। কিন্তু সমস্যা হলো, ইউনুসের সরকার টেকসই কিছু চায় না। তারা চায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে, যাতে কেউ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারে।

জাহাঙ্গীরনগর আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গণমাধ্যম বিষয়ক বিভাগের শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে তাদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। ইউল্যাবের দীন এম সুমন রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন যে কোনো বিশেষজ্ঞকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়নি। এটা কি স্বাভাবিক? একটা অধ্যাদেশ যেটা পুরো সম্প্রচার শিল্পকে প্রভাবিত করবে, সেখানে যারা এই বিষয়ে পড়ান, গবেষণা করেন, তাদের মতামত নেওয়া হলো না? এর মানে হলো তারা জেনেশুনে বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়েছেন। কারণ বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন করতেন, আপত্তি জানাতেন।

এই অধ্যাদেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর অস্পষ্টতা। ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘বিদ্বেষমূলক’, ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ এই ধরনের শব্দগুলোর কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। মানে যেকোনো খবর, যেকোনো অনুষ্ঠানকে এই তকমা লাগিয়ে বন্ধ করে দেওয়া যাবে। কোনো টেলিভিশন চ্যানেল যদি সরকারের সমালোচনা করে, তাহলে বলা হবে এটা জনস্বার্থ বিরোধী। কোনো সাংবাদিক যদি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বলা হবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

লাইসেন্স বাতিল আর স্থগিতের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। আদালতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো পথ নেই। এটা সংবিধানের ৩১ আর ৪৪ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। যে সংবিধান ইউনুসরা মানেন না, সেটা অবশ্য আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ তারা তো ক্ষমতায়ই এসেছেন সংবিধান লঙ্ঘন করে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান যিনি এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, তিনি কোনো মন্তব্য করছেন না। বারবার চেষ্টা করেও সাংবাদিকরা তার কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি। এটা কি দায়িত্বশীল আচরণ? একজন উপদেষ্টা যিনি জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য, তিনি নীরব থাকবেন? এই নীরবতা আসলে সম্মতির ইঙ্গিত। তিনি জানেন এই অধ্যাদেশ অন্যায়, কিন্তু তবু তিনি চুপ।

মাহফুজ আলম যখন এই দায়িত্বে ছিলেন, তখনও গণমাধ্যমের ওপর চাপ ছিল। তার পদত্যাগের পর রিজওয়ানা হাসান এলেন, কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো। এখন সরাসরি আইন করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। এটা পরিকল্পিত। ইউনুস সাহেব আর তার দল জানেন যে যত দিন যাচ্ছে, তাদের অবৈধতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। জনগণ প্রশ্ন করছে, সাংবাদিকরা রিপোর্ট করছেন। তাই এখন দরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে সহিংসতা দেখা গেছিল, সেখানে বিদেশি অর্থায়ন ছিল। ইসলামি জঙ্গিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন ছাড়া তো সেই অভ্যুত্থান সম্ভবই ছিল না। এখন যারা ক্ষমতায় বসে আছেন, তারা চান যে সেই সব সত্য চাপা পড়ে যাক। কোনো টেলিভিশন চ্যানেল যদি সেসব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হবে। কোনো সাংবাদিক যদি তদন্ত করেন, তাহলে তিনি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

এই অধ্যাদেশ আনার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হলো আন্তর্জাতিক চাপ। ইউনুসের বিদেশি প্রভুরা চান যে বাংলাদেশে একটা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ব্যবস্থা থাকুক। যেখানে শুধু তাদের স্বার্থের কথাই প্রচার হবে, দেশের মানুষের কথা নয়। ইউনুস সেই কাজটাই করছেন। তিনি সুদের কারবার করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন গরিব মানুষের কাছ থেকে, এখন দেশের স্বাধীনতাও বিক্রি করে দিচ্ছেন।

যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, যাদের কোনো গণভিত্তি নেই, তারা এখন জনগণের কণ্ঠস্বরকে চেপে ধরার চেষ্টা করছেন। এটা আর কিছুই না, খোলাখুলি ফ্যাসিবাদ। যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তারা নাকি আন্দোলন করেছিলেন, এখন তারা নিজেরাই সেই পথে হাঁটছেন। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে আগের সরকারের অন্তত জনগণের ভোট ছিল, এদের সেটুকুও নেই।

এই অধ্যাদেশ যদি জারি হয়, তাহলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তাও শেষ হয়ে যাবে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো হয়ে উঠবে সরকারের মুখপত্র। সাংবাদিকরা ভয়ে কাজ করবেন। সত্য প্রকাশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আর এটাই তো চান ইউনুস আর তার দল। কারণ সত্য তাদের শত্রু।

নির্বাচনের এই সময়ে যখন মানুষ ব্যস্ত, তখন এই কালো আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা প্রমাণ করে যে এই সরকারের নৈতিকতা বলে কিছু নেই। তারা জানেন যে খোলাখুলি এই অধ্যাদেশ আনলে প্রতিবাদ হবে। তাই লুকিয়ে, চুপিসারে কাজ সারার চেষ্টা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার দেখা যাচ্ছে যে একটা অবৈধ সরকার, যারা রাস্তায় দাঙ্গা লাগিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা এখন সংবিধান লঙ্ঘন করে গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার জন্য আইন বানাচ্ছে। ইউনুস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টারা যেভাবে সম্প্রচার অধ্যাদেশ ২০২৬ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তা দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে এরা গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চান।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা আন্দোলনের নামে যে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বিদেশি শক্তির মদদ ছিল, ছিল ইসলামি জঙ্গিদের প্রত্যক্ষ সহায়তা। একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যখন ক্ষমতায় বসলেন ইউনুস, তখন থেকেই পরিকল্পনা ছিল যে কীভাবে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এখন গণমাধ্যমের পালা। কারণ গণমাধ্যমই পারে তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে।

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এদেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু এই অধ্যাদেশে যেসব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন। ‘জনস্বার্থ বিরোধী’ বলতে কী বোঝায়? কে ঠিক করবে কোনটা জনস্বার্থ আর কোনটা নয়? ইউনুস সাহেবের সরকার? যারা নিজেরাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন, তারা জনস্বার্থের ব্যাখ্যা দেবেন? এটা তো সরাসরি ঠাট্টা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২৮ জানুয়ারি সকালে এই খসড়া প্রকাশ করেছে আর সময় দিয়েছে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মাত্র চার দিন। একটা দেশের পুরো সম্প্রচার ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর জন্য চার দিন সময়! এটা কি কোনো রসিকতা? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বাইরে রাখার কৌশল? উত্তর পরিষ্কার। তারা চায় না কেউ এই অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলুক, আপত্তি জানাক।

যে সময়ে এই খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, সেটাও লক্ষ করার মতো। দেশজুড়ে নির্বাচন চলছে, মানুষ ব্যস্ত ভোট নিয়ে। এই সুযোগে চুপিসারে একটা কালো আইন চালু করে দেওয়ার চেষ্টা। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খাদিজা তাহেরা ববি যে অজুহাত দিয়েছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সীমিত তাই চার দিনে কাজ শেষ করতে হবে, সেটা আরও হাস্যকর। যে সরকারের বৈধতাই নেই, তারা সময়ের অভাবের কথা বলছেন? যাদের থাকারই কথা ছিল না ক্ষমতায়, তারা এত তাড়া কেন?

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক একদম ঠিক কথা বলেছেন। এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে কোনো টেকসই ফলাফল আসে না। কিন্তু সমস্যা হলো, ইউনুসের সরকার টেকসই কিছু চায় না। তারা চায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে, যাতে কেউ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে না পারে।

জাহাঙ্গীরনগর আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গণমাধ্যম বিষয়ক বিভাগের শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে তাদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। ইউল্যাবের দীন এম সুমন রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন যে কোনো বিশেষজ্ঞকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়নি। এটা কি স্বাভাবিক? একটা অধ্যাদেশ যেটা পুরো সম্প্রচার শিল্পকে প্রভাবিত করবে, সেখানে যারা এই বিষয়ে পড়ান, গবেষণা করেন, তাদের মতামত নেওয়া হলো না? এর মানে হলো তারা জেনেশুনে বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়েছেন। কারণ বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন করতেন, আপত্তি জানাতেন।

এই অধ্যাদেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর অস্পষ্টতা। ‘জনস্বার্থ বিরোধী’, ‘বিদ্বেষমূলক’, ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ এই ধরনের শব্দগুলোর কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। মানে যেকোনো খবর, যেকোনো অনুষ্ঠানকে এই তকমা লাগিয়ে বন্ধ করে দেওয়া যাবে। কোনো টেলিভিশন চ্যানেল যদি সরকারের সমালোচনা করে, তাহলে বলা হবে এটা জনস্বার্থ বিরোধী। কোনো সাংবাদিক যদি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বলা হবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

লাইসেন্স বাতিল আর স্থগিতের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। আদালতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো পথ নেই। এটা সংবিধানের ৩১ আর ৪৪ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। যে সংবিধান ইউনুসরা মানেন না, সেটা অবশ্য আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ তারা তো ক্ষমতায়ই এসেছেন সংবিধান লঙ্ঘন করে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান যিনি এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, তিনি কোনো মন্তব্য করছেন না। বারবার চেষ্টা করেও সাংবাদিকরা তার কাছ থেকে কোনো উত্তর পাননি। এটা কি দায়িত্বশীল আচরণ? একজন উপদেষ্টা যিনি জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য, তিনি নীরব থাকবেন? এই নীরবতা আসলে সম্মতির ইঙ্গিত। তিনি জানেন এই অধ্যাদেশ অন্যায়, কিন্তু তবু তিনি চুপ।

মাহফুজ আলম যখন এই দায়িত্বে ছিলেন, তখনও গণমাধ্যমের ওপর চাপ ছিল। তার পদত্যাগের পর রিজওয়ানা হাসান এলেন, কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো। এখন সরাসরি আইন করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। এটা পরিকল্পিত। ইউনুস সাহেব আর তার দল জানেন যে যত দিন যাচ্ছে, তাদের অবৈধতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। জনগণ প্রশ্ন করছে, সাংবাদিকরা রিপোর্ট করছেন। তাই এখন দরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে সহিংসতা দেখা গেছিল, সেখানে বিদেশি অর্থায়ন ছিল। ইসলামি জঙ্গিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন ছাড়া তো সেই অভ্যুত্থান সম্ভবই ছিল না। এখন যারা ক্ষমতায় বসে আছেন, তারা চান যে সেই সব সত্য চাপা পড়ে যাক। কোনো টেলিভিশন চ্যানেল যদি সেসব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হবে। কোনো সাংবাদিক যদি তদন্ত করেন, তাহলে তিনি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

এই অধ্যাদেশ আনার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হলো আন্তর্জাতিক চাপ। ইউনুসের বিদেশি প্রভুরা চান যে বাংলাদেশে একটা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ব্যবস্থা থাকুক। যেখানে শুধু তাদের স্বার্থের কথাই প্রচার হবে, দেশের মানুষের কথা নয়। ইউনুস সেই কাজটাই করছেন। তিনি সুদের কারবার করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন গরিব মানুষের কাছ থেকে, এখন দেশের স্বাধীনতাও বিক্রি করে দিচ্ছেন।

যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, যাদের কোনো গণভিত্তি নেই, তারা এখন জনগণের কণ্ঠস্বরকে চেপে ধরার চেষ্টা করছেন। এটা আর কিছুই না, খোলাখুলি ফ্যাসিবাদ। যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তারা নাকি আন্দোলন করেছিলেন, এখন তারা নিজেরাই সেই পথে হাঁটছেন। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে আগের সরকারের অন্তত জনগণের ভোট ছিল, এদের সেটুকুও নেই।

এই অধ্যাদেশ যদি জারি হয়, তাহলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তাও শেষ হয়ে যাবে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো হয়ে উঠবে সরকারের মুখপত্র। সাংবাদিকরা ভয়ে কাজ করবেন। সত্য প্রকাশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। আর এটাই তো চান ইউনুস আর তার দল। কারণ সত্য তাদের শত্রু।

নির্বাচনের এই সময়ে যখন মানুষ ব্যস্ত, তখন এই কালো আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা প্রমাণ করে যে এই সরকারের নৈতিকতা বলে কিছু নেই। তারা জানেন যে খোলাখুলি এই অধ্যাদেশ আনলে প্রতিবাদ হবে। তাই লুকিয়ে, চুপিসারে কাজ সারার চেষ্টা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ