নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে ‘পতিতাবৃত্তির রূপ’ হিসেবে অভিহিত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী নারীরা।
এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নারী নেত্রী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা ডা. শফিকুর রহমানের মন্তব্যকে ‘নারীবিদ্বেষী’ ও ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’র বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সংগ্রামে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। সেখানে কর্মজীবী নারীদের অবমাননা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে এই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান এবং নারীর শ্রমের মর্যাদা রক্ষায় ‘বেশ্যাকরণ প্রথা’ বিলুপ্তির আহ্বান জানান।
একই দিন মিরপুরের কাফরুল এলাকায় জামায়াত আমিরের নির্বাচনি প্রচারণার প্রস্তুতির সময় স্থানীয় কর্মজীবী নারীরা ঝাড়ু মিছিল বের করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেরিকেড দিয়ে দুই পক্ষকে আলাদা করে রাখে। বিক্ষুব্ধ নারীদের দাবি, যারা নারীদের সম্মান করতে জানে না, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নারী নেত্রীরা কড়া সমালোচনা করেন। হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ফারজানা আক্তার টুম্পা বলেন, “কর্মজীবী নারীদের পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা শুধু অপমানই নয়, এটি মানবিক মর্যাদাহানি।”
যুগ্ম আহ্বায়ক খাদিজাতুল কুবরা প্রশ্ন তুলে বলেন, “গার্মেন্টস কর্মী থেকে শুরু করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়াররা কি দেহব্যবসা করতে ঘর থেকে বের হন? এমন মানসিকতা চরম অবমাননাকর।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল নারীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করলেও আদর্শিকভাবে তাদের অবমূল্যায়ন করে।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড আইডি থেকে বিতর্কিত পোস্টটি আসার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে আইডিটি হ্যাক হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বারই বলেন, হ্যাক হওয়ার বিষয়টি স্রেফ দায় এড়ানোর চেষ্টা, এর প্রমাণ জনগণকে দিতে হবে।
এদিকে সীমা আক্তার নামের এক আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় অনলাইনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘বট’ ও ‘ফেক’ আইডি থেকে নারীদের ওপর সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, আগামী ১২ তারিখ নির্বাচনের ব্যালটের মাধ্যমে দেশের নারী সমাজ এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব দেবে। নারীদের পণ্য হিসেবে দেখার এই মানসিকতা উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

