Wednesday, February 4, 2026

রক্তের সম্পর্ক আর অফিসের নৈকট্যই আসল, যোগ্যতা ফালতু

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বিএনপির নির্বাচনী জনসভার ছবিগুলো দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে এই দলে আসলে কাদের দাম! তারেক রহমান বক্তৃতা দিচ্ছেন, আর তার পেছনে মঞ্চের প্রথম সারিতে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন মিয়া নুরুদ্দীন অপু, পাভেল, বেলায়েত, মেহেদী, সানি। এই নামগুলো রাজনীতির ময়দানে চেনা নয়, এরা তারেক রহমানের গুলশান অফিসের লোকজন। হাওয়া ভবনের এপিএস আর ব্যক্তিগত কর্মচারী। রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা কেউ নন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী সভা। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটা আসনের প্রার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু যার আসনের সভা, সেই মান্নান সাহেবের মুখটাই ক্যামেরায় ঠিকমতো আসেনি। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে দেখা যাচ্ছে তারেক রহমানের চিফ সিকিউরিটি অফিসার ব্রিগেডিয়ার শামসুলের পেছন থেকে গলা বাড়িয়ে ফ্রেমে আসার চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের আপ্রাণ চেষ্টা করে ফ্রেমে আসার জন্য এভাবে কসরত করতে হবে কেন? তারেক রহমান যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক নেতা হতেন, তাহলে প্রার্থীদেরই প্রথম সারিতে বসাতেন, হাত ধরে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দিতেন। কিন্তু সেটা হয়নি।

এই ছবিটা প্রমাণ করে, তারেক রহমানের চারপাশে যে বলয় তৈরি হয়েছে, সেটা রাজনৈতিক নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। অফিসের কর্মচারীরা মঞ্চের প্রথম সারিতে, আর যারা ভোট চাইতে মাঠে নামবেন, তারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতেও জায়গা পাচ্ছেন না। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের লক্ষণ নয়, এটা একটা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের চিত্র যেখানে মালিকের পছন্দের লোকজনই সব সুবিধা পায়।

আবিদ যখন জায়েমা রহমানের কাছে কুর্নিশ করতে বাধ্য হন, সেটা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, পুরো দলের কর্মীদের লাঞ্চনা। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব, যিনি রাজপথে সর্বদাই সক্রিয় ছিলেন, তাকে তারেক রহমানের সাথে একটা ছবি তুলতে হাঁটুগেড়ে অনুরোধ করতে হয়। যারা রাস্তায় নেমে ঝুঁকি নিয়েছেন, তাদের এই অপদস্থ করার অধিকার কারও নেই। কিন্তু বিএনপিতে এটাই স্বাভাবিক, কারণ এখানে যোগ্যতার কোনো মূল্য নেই। আছে শুধু রক্তের সম্পর্ক আর ব্যক্তিগত আনুগত্য।

জিয়াউর রহমান সামরিক ক্যু করে ক্ষমতায় এসে যে দল বানিয়েছিলেন, সেই দলে শুরু থেকেই গণতন্ত্র ছিল না। ছিল একনায়কতন্ত্র। জিয়া মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া দল চালালেন, এখন তার ছেলে তারেক রহমান। এরপর জায়েমা রহমান। এটা কোনো রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নয়, এটা সিংহাসনের উত্তরাধিকার। বিএনপি কখনোই গণতান্ত্রিক দল ছিল না, এখনও নয়।

২০২৪ সালে সারাদেশে যে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হলো, যেভাবে একটা নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করা হলো, সেই ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন তারা এখন মনে করছেন ক্ষমতা তাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু তাদের নিজেদের ভেতরেই যে এত বৈষম্য, এত অবহেলা, এত অসম্মান, সেটা মানুষ দেখছে। যারা আসলে মাঠে কাজ করেছেন, তারা পাচ্ছেন অপমান। আর যারা শুধু অফিসে বসে আছেন, তারা পাচ্ছেন প্রথম সারির সম্মান।

নারায়ণগঞ্জের ওই ছবিগুলো বিএনপির প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরেছে। এটা এমন একটা দল যেখানে প্রার্থীদের চেয়ে অফিসের কেরানিদের দাম বেশি। যেখানে কর্মীদের চেয়ে পরিবারের সদস্যদের মূল্য বেশি। যেখানে যোগ্যতার চেয়ে রক্তের সম্পর্ক বড়। এই দল দিয়ে গণতন্ত্র হবে না, হবে শুধু আরেকটা স্বৈরাচার। জিয়াউর রহমান যেমন সামরিক বুটের তলায় গণতন্ত্র পিষে মেরেছিলেন, তারেক রহমান তেমনি পারিবারিক স্বার্থের তলায় দলীয় গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছেন। এই ছবিগুলোই তার প্রমাণ।

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে বিএনপির নির্বাচনী জনসভার ছবিগুলো দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে এই দলে আসলে কাদের দাম! তারেক রহমান বক্তৃতা দিচ্ছেন, আর তার পেছনে মঞ্চের প্রথম সারিতে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন মিয়া নুরুদ্দীন অপু, পাভেল, বেলায়েত, মেহেদী, সানি। এই নামগুলো রাজনীতির ময়দানে চেনা নয়, এরা তারেক রহমানের গুলশান অফিসের লোকজন। হাওয়া ভবনের এপিএস আর ব্যক্তিগত কর্মচারী। রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা কেউ নন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এটা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী সভা। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটা আসনের প্রার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু যার আসনের সভা, সেই মান্নান সাহেবের মুখটাই ক্যামেরায় ঠিকমতো আসেনি। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে দেখা যাচ্ছে তারেক রহমানের চিফ সিকিউরিটি অফিসার ব্রিগেডিয়ার শামসুলের পেছন থেকে গলা বাড়িয়ে ফ্রেমে আসার চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের আপ্রাণ চেষ্টা করে ফ্রেমে আসার জন্য এভাবে কসরত করতে হবে কেন? তারেক রহমান যদি সত্যিই গণতান্ত্রিক নেতা হতেন, তাহলে প্রার্থীদেরই প্রথম সারিতে বসাতেন, হাত ধরে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দিতেন। কিন্তু সেটা হয়নি।

এই ছবিটা প্রমাণ করে, তারেক রহমানের চারপাশে যে বলয় তৈরি হয়েছে, সেটা রাজনৈতিক নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। অফিসের কর্মচারীরা মঞ্চের প্রথম সারিতে, আর যারা ভোট চাইতে মাঠে নামবেন, তারা দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতেও জায়গা পাচ্ছেন না। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের লক্ষণ নয়, এটা একটা পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের চিত্র যেখানে মালিকের পছন্দের লোকজনই সব সুবিধা পায়।

আবিদ যখন জায়েমা রহমানের কাছে কুর্নিশ করতে বাধ্য হন, সেটা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, পুরো দলের কর্মীদের লাঞ্চনা। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব, যিনি রাজপথে সর্বদাই সক্রিয় ছিলেন, তাকে তারেক রহমানের সাথে একটা ছবি তুলতে হাঁটুগেড়ে অনুরোধ করতে হয়। যারা রাস্তায় নেমে ঝুঁকি নিয়েছেন, তাদের এই অপদস্থ করার অধিকার কারও নেই। কিন্তু বিএনপিতে এটাই স্বাভাবিক, কারণ এখানে যোগ্যতার কোনো মূল্য নেই। আছে শুধু রক্তের সম্পর্ক আর ব্যক্তিগত আনুগত্য।

জিয়াউর রহমান সামরিক ক্যু করে ক্ষমতায় এসে যে দল বানিয়েছিলেন, সেই দলে শুরু থেকেই গণতন্ত্র ছিল না। ছিল একনায়কতন্ত্র। জিয়া মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়া দল চালালেন, এখন তার ছেলে তারেক রহমান। এরপর জায়েমা রহমান। এটা কোনো রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নয়, এটা সিংহাসনের উত্তরাধিকার। বিএনপি কখনোই গণতান্ত্রিক দল ছিল না, এখনও নয়।

২০২৪ সালে সারাদেশে যে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হলো, যেভাবে একটা নির্বাচিত সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত করা হলো, সেই ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন তারা এখন মনে করছেন ক্ষমতা তাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু তাদের নিজেদের ভেতরেই যে এত বৈষম্য, এত অবহেলা, এত অসম্মান, সেটা মানুষ দেখছে। যারা আসলে মাঠে কাজ করেছেন, তারা পাচ্ছেন অপমান। আর যারা শুধু অফিসে বসে আছেন, তারা পাচ্ছেন প্রথম সারির সম্মান।

নারায়ণগঞ্জের ওই ছবিগুলো বিএনপির প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরেছে। এটা এমন একটা দল যেখানে প্রার্থীদের চেয়ে অফিসের কেরানিদের দাম বেশি। যেখানে কর্মীদের চেয়ে পরিবারের সদস্যদের মূল্য বেশি। যেখানে যোগ্যতার চেয়ে রক্তের সম্পর্ক বড়। এই দল দিয়ে গণতন্ত্র হবে না, হবে শুধু আরেকটা স্বৈরাচার। জিয়াউর রহমান যেমন সামরিক বুটের তলায় গণতন্ত্র পিষে মেরেছিলেন, তারেক রহমান তেমনি পারিবারিক স্বার্থের তলায় দলীয় গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছেন। এই ছবিগুলোই তার প্রমাণ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ