সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের পরিবেশ রক্ষা আর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বুলি মুখে থাকলেও কাজের বেলায় দেখা গেল উল্টো চিত্র। সুন্দরবনের নিস্তব্ধতা ভেঙে, বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থলকে ‘পিকনিক স্পট’ বানিয়ে বাঘ সংরক্ষণের সচেতনতামূলক সভা করেছে বন বিভাগ। লোকালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও বনের গহীনে প্যান্ডেল খাঁটিয়ে, জেনারেটর চালিয়ে এবং সাউন্ডবক্স বাজিয়ে এই আয়োজন নিয়ে পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সুন্দরবনের বজবজা টহল ফাঁড়ি এলাকায় এই বিচিত্র সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি, সুন্দরবনের সমৃদ্ধি’ স্লোগান নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কয়রা উপজেলা থেকে ডেকোরেটর ভাড়া করে প্যান্ডেল করা হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনভর চলেছে জেনারেটর, আর বক্তাদের আওয়াজ পৌঁছাতে ব্যবহার করা হয়েছে সাউন্ডবক্স।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বনজীবীরা জানান, ট্রলারে করে তাঁদের বনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে এটি সচেতনতামূলক সভা নয়, বরং বন বিভাগের একটি বনভোজন। স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা গিয়ে দেখি বন্য শূকর ঘোরাফেরা করছে, কিন্তু মানুষের ভিড় আর শব্দে সেগুলো বনের গভীরে পালিয়ে গেল। বনের ভেতর এমন আয়োজনের কোনো মানে হয় না।”
আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনুষ্ঠানের ব্যানারে স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল কয়রা উপজেলার কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের নাম, যা লোকালয়ে অবস্থিত। অথচ বাস্তবে অনুষ্ঠানটি করা হয়েছে বনের গভীরে ঝপঝোপিয়া ও শাকবাড়িয়া নদীর মোহনায়।
কেন লোকালয় ছেড়ে বনে যাওয়া হলো—এমন প্রশ্নে কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও মিলেছে অসংলগ্নতা। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে লোকালয়ে ভিড় এড়াতে বনের ভেতর এই আয়োজন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করে বাঘের আবাসস্থলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে। যেভাবে প্যান্ডেল ও শব্দের ব্যবহার হয়েছে, তাতে সচেতনতার চেয়ে বনের পরিবেশের ক্ষতিই বেশি হয়েছে।”
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, এ ধরনের আয়োজন বনের ভেতরে হওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বনের ভেতরে কোনো অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

