বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পর এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এনেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। তার দাবি অনুযায়ী, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছাত্রশিবিরের একজন নেতা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়ার কয়া ইউনিয়নে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। আবিদুল ইসলাম খানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কবর জিয়ারত শেষে আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে শিবিরের এক নেতা জড়িত ছিলেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতের আইনজীবীরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু, জনরোসে পড়ে তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।’’ তবে ওই নেতার নাম কিংবা পরিচয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। ছাত্রদলের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, এতদিন এই বিষয়টি আড়ালে থাকলেও এখন সত্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের বিচার বিভাগ ও আইনি প্রক্রিয়ায় নানা পরিবর্তন এসেছে। ছাত্রদলের দাবি অনুযায়ী, সেই সময় জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে তারা পিছু হটেন।
এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। ছাত্রদলের দাবি যদি সত্য হয় এবং তদন্তে নতুন কোনো মোড় আসে, তবে তা বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে বিশাল প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৫ আগস্টের পর দেশের প্রতিটি বড় হত্যাকাণ্ডের পুনর্তদন্তের দাবি উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে আবিদুল ইসলাম খানের এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি নতুন দিক হতে পারে, যদি তারা এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। এমন সময় ছাত্রদল নেতার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তেমনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। নাম প্রকাশ না করা সেই ‘শিবির নেতা’ আসলে কে, তা এখন জনমনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

