Wednesday, February 4, 2026

যে হাতে দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম গেছে, সেই হাত এখন আঙুল তুলছে ঢাবির দিকে

শামীম আহসান ডাকসুকে বেশ্যাখানা বলেছেন। জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা, যার সংগঠন ১৯৭১ সালে এই দেশের হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করিয়েছে, সেই লোক আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বেশ্যা বলছে। এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবুন একটু। যে সংগঠনের হাতে বাংলাদেশের দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম গেছে, সেই সংগঠন আজ নারীদের চরিত্র নিয়ে কথা বলছে।

১৯৭১ সালে রোকেয়া হল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ছাত্রীদের আবাসস্থল। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা সেখানে হামলা চালায়। প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয় পুরো ভবনে। যখন ছাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে করতে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন তাদের ওপর মেশিনগান চালানো হয়। প্রায় ৪০ জনকে সেদিন হত্যা করা হয়েছিল। তবে এটাই শেষ ছিল না। এরপর শুরু হয় আরও ভয়ংকর কিছু। রোকেয়া হলকে বানানো হয় ধর্ষণ ক্যাম্প।

আমেরিকার কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড সেই সময় ঢাকায় ছিলেন। তার পাঠানো গোপন টেলিগ্রামে লেখা আছে, রোকেয়া হলের ছাদের ফ্যানে মেয়েদের নগ্ন লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। পায়ে দড়ি বাঁধা, শরীর ক্ষতবিক্ষত, গুলির চিহ্ন। ধর্ষণ করে তারপর গুলি করে মারা হয়েছিল তাদের। লাশগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল যাতে অন্য মেয়েরা দেখে ভয় পায়। এটা কোনো গল্প না, এটা নথিবদ্ধ প্রমাণ। ব্লাড টেলিগ্রাম আজও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নথিপত্রে সংরক্ষিত আছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই কাজগুলো কারা করেছিল? পাকিস্তানি সেনারা একা করেনি। তাদের সাহায্য করেছিল স্থানীয় দোসররা। জামায়াতে ইসলামী ছিল সেই দোসরদের মূল সংগঠন। তারা রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল, আলবদর বাহিনী গঠন করেছিল। এই বাহিনীগুলোর কাজ ছিল পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করা। কীভাবে? বাড়ি বাড়ি গিয়ে তরুণ মেয়েদের ধরে এনে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া। এটা ছিল তাদের নিয়মিত কাজ। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে এই সব কিছুর প্রমাণ আছে।

রোকেয়া হলের পাশেই পরে গণকবর পাওয়া গেছে। সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল অসংখ্য ছাত্রীর লাশ। স্বাধীনতার পর যখন সেগুলো খোঁড়া হয়, তখন পচা গন্ধে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। এই গণকবরগুলো এখনও সাক্ষ্য দেয় সেই নৃশংসতার। কিন্তু জামায়াত এখন বলছে ডাকসু বেশ্যাখানা। যারা নিজেরা ধর্ষণ ক্যাম্প চালিয়েছে, তারা অন্যদের বেশ্যাখানা বলছে।

এই হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর আসল চেহারা। ১৯৭১ সালে তারা এই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হোক, এটা তারা চায়নি। পাকিস্তান টিকে থাকুক, এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা গণহত্যায় সহযোগিতা করেছে, ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে, বুদ্ধিজীবী হত্যায় সহযোগিতা করেছে। তাদের হাত রক্তে ভেজা।

এরপর ২০২৪ সালে এসে কী ঘটল? জুলাই মাসে হঠাৎ করে সারাদেশে দাঙ্গা শুরু হলো। বলা হলো ছাত্র আন্দোলন। কিন্তু আসলে কী ছিল? একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিদেশ থেকে অর্থায়ন এসেছে, জঙ্গি সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে, আর কিছু সামরিক কর্তারা নীরবে সমর্থন দিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই – নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে নিজেদের লোক বসানো। সেটা হয়েছে। একটা সামরিক ক্যু ঘটেছে, কিন্তু তাকে বলা হয়েছে গণঅভ্যুত্থান।

এই ক্যুয়ের পর ক্ষমতায় বসেছে কারা? মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি একজন সুদী মহাজন। গ্রামীণ বাংলার নাম করে তিনি গরীব মানুষের কাছ থেকে সুদ নিয়ে বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। আর তার সাথে আছে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের দল, জঙ্গিদের দল, সবাই এখন একসাথে। এই হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা।

জামায়াত এখন আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ১৯৭১ সালে তারা হেরে গিয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছিল। কিন্তু তারা মরেনি। গা ঢাকা দিয়ে থেকে গেছে। সুযোগ খুঁজেছে। আর এখন সেই সুযোগ তারা পেয়ে গেছে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর তারা আবার প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসেছে। শামীম আহসানের এই বক্তব্য তার প্রমাণ। তারা এখন আর লুকিয়ে নেই। তারা এখন প্রকাশ্যে নারীদের অপমান করছে, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করছে, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এই সংগঠনের সাথে কোনো আপস সম্ভব নয়। যারা একবার এই দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তারা আবার চাইবে। যারা একবার নারীদের ধর্ষণ করিয়েছে, তারা আবার করবে। জামায়াতের ইতিহাস এটাই বলে। ১৯৭১ সালে তারা কী করেছিল, সেটা আমরা দেখেছি। এখন ২০২৪ সালে তারা যা করছে, সেটাও আমরা দেখছি। পার্থক্য শুধু এই যে আগে তারা বন্দুক নিয়ে মানুষ মেরেছে, এখন তারা কথা দিয়ে মানুষের চরিত্র হত্যা করছে।

তথ্য আর যুক্তি দিয়ে বলা যায়, জামায়াত বাংলাদেশের জন্য একটা অভিশাপ। যতদিন এই সংগঠন বেঁচে থাকবে, ততদিন এই দেশ নিরাপদ থাকবে না। তারা পাকিস্তানকে বাপ বলে ডাকে এখনও। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও তারা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য রাখে। এমন একটা সংগঠন যদি এই দেশে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ কখনও সত্যিকারের স্বাধীন হবে না।

শামীম আহসান ডাকসুকে বেশ্যাখানা বলেছেন। জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা, যার সংগঠন ১৯৭১ সালে এই দেশের হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করিয়েছে, সেই লোক আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বেশ্যা বলছে। এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবুন একটু। যে সংগঠনের হাতে বাংলাদেশের দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম গেছে, সেই সংগঠন আজ নারীদের চরিত্র নিয়ে কথা বলছে।

১৯৭১ সালে রোকেয়া হল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ছাত্রীদের আবাসস্থল। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা সেখানে হামলা চালায়। প্রথমে আগুন ধরিয়ে দেয় পুরো ভবনে। যখন ছাত্রীরা ভয়ে চিৎকার করতে করতে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন তাদের ওপর মেশিনগান চালানো হয়। প্রায় ৪০ জনকে সেদিন হত্যা করা হয়েছিল। তবে এটাই শেষ ছিল না। এরপর শুরু হয় আরও ভয়ংকর কিছু। রোকেয়া হলকে বানানো হয় ধর্ষণ ক্যাম্প।

আমেরিকার কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাড সেই সময় ঢাকায় ছিলেন। তার পাঠানো গোপন টেলিগ্রামে লেখা আছে, রোকেয়া হলের ছাদের ফ্যানে মেয়েদের নগ্ন লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। পায়ে দড়ি বাঁধা, শরীর ক্ষতবিক্ষত, গুলির চিহ্ন। ধর্ষণ করে তারপর গুলি করে মারা হয়েছিল তাদের। লাশগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল যাতে অন্য মেয়েরা দেখে ভয় পায়। এটা কোনো গল্প না, এটা নথিবদ্ধ প্রমাণ। ব্লাড টেলিগ্রাম আজও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নথিপত্রে সংরক্ষিত আছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই কাজগুলো কারা করেছিল? পাকিস্তানি সেনারা একা করেনি। তাদের সাহায্য করেছিল স্থানীয় দোসররা। জামায়াতে ইসলামী ছিল সেই দোসরদের মূল সংগঠন। তারা রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল, আলবদর বাহিনী গঠন করেছিল। এই বাহিনীগুলোর কাজ ছিল পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করা। কীভাবে? বাড়ি বাড়ি গিয়ে তরুণ মেয়েদের ধরে এনে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া। এটা ছিল তাদের নিয়মিত কাজ। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে এই সব কিছুর প্রমাণ আছে।

রোকেয়া হলের পাশেই পরে গণকবর পাওয়া গেছে। সেখানে পুঁতে রাখা হয়েছিল অসংখ্য ছাত্রীর লাশ। স্বাধীনতার পর যখন সেগুলো খোঁড়া হয়, তখন পচা গন্ধে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। এই গণকবরগুলো এখনও সাক্ষ্য দেয় সেই নৃশংসতার। কিন্তু জামায়াত এখন বলছে ডাকসু বেশ্যাখানা। যারা নিজেরা ধর্ষণ ক্যাম্প চালিয়েছে, তারা অন্যদের বেশ্যাখানা বলছে।

এই হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর আসল চেহারা। ১৯৭১ সালে তারা এই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হোক, এটা তারা চায়নি। পাকিস্তান টিকে থাকুক, এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা গণহত্যায় সহযোগিতা করেছে, ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে, বুদ্ধিজীবী হত্যায় সহযোগিতা করেছে। তাদের হাত রক্তে ভেজা।

এরপর ২০২৪ সালে এসে কী ঘটল? জুলাই মাসে হঠাৎ করে সারাদেশে দাঙ্গা শুরু হলো। বলা হলো ছাত্র আন্দোলন। কিন্তু আসলে কী ছিল? একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিদেশ থেকে অর্থায়ন এসেছে, জঙ্গি সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে, আর কিছু সামরিক কর্তারা নীরবে সমর্থন দিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই – নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে নিজেদের লোক বসানো। সেটা হয়েছে। একটা সামরিক ক্যু ঘটেছে, কিন্তু তাকে বলা হয়েছে গণঅভ্যুত্থান।

এই ক্যুয়ের পর ক্ষমতায় বসেছে কারা? মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি একজন সুদী মহাজন। গ্রামীণ বাংলার নাম করে তিনি গরীব মানুষের কাছ থেকে সুদ নিয়ে বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। আর তার সাথে আছে জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের দল, জঙ্গিদের দল, সবাই এখন একসাথে। এই হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা।

জামায়াত এখন আবার শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ১৯৭১ সালে তারা হেরে গিয়েছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছিল। কিন্তু তারা মরেনি। গা ঢাকা দিয়ে থেকে গেছে। সুযোগ খুঁজেছে। আর এখন সেই সুযোগ তারা পেয়ে গেছে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর তারা আবার প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসেছে। শামীম আহসানের এই বক্তব্য তার প্রমাণ। তারা এখন আর লুকিয়ে নেই। তারা এখন প্রকাশ্যে নারীদের অপমান করছে, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করছে, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এই সংগঠনের সাথে কোনো আপস সম্ভব নয়। যারা একবার এই দেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তারা আবার চাইবে। যারা একবার নারীদের ধর্ষণ করিয়েছে, তারা আবার করবে। জামায়াতের ইতিহাস এটাই বলে। ১৯৭১ সালে তারা কী করেছিল, সেটা আমরা দেখেছি। এখন ২০২৪ সালে তারা যা করছে, সেটাও আমরা দেখছি। পার্থক্য শুধু এই যে আগে তারা বন্দুক নিয়ে মানুষ মেরেছে, এখন তারা কথা দিয়ে মানুষের চরিত্র হত্যা করছে।

তথ্য আর যুক্তি দিয়ে বলা যায়, জামায়াত বাংলাদেশের জন্য একটা অভিশাপ। যতদিন এই সংগঠন বেঁচে থাকবে, ততদিন এই দেশ নিরাপদ থাকবে না। তারা পাকিস্তানকে বাপ বলে ডাকে এখনও। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও তারা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য রাখে। এমন একটা সংগঠন যদি এই দেশে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ কখনও সত্যিকারের স্বাধীন হবে না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ