Saturday, January 24, 2026

সার্বভৌমত্বের সংকটে যখন র‍্যাবকে পালিয়ে আসতে হয়

তিন হাজার একশ একর সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরের বাজার দর কয়েক হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল সম্পদ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে কিছু সশস্ত্র দুর্বৃত্ত, আর রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। র‍্যাবের একটা দল গেল চারজন হত্যা মামলার আসামি ধরতে, ফিরে এল একজন কর্মকর্তার লাশ নিয়ে। মসজিদের মাইক দিয়ে ঘোষণা দিয়ে, চার-পাঁচশ লোক জড়ো করে, প্রকাশ্য দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হলো, অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলো। এই ঘটনার পর যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তাদের প্রতিক্রিয়া কী? জোরালো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তুতি। ছয় মাস ধরে ক্ষমতায় বসে থেকে এখনও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো, তখন যে সুন্দর সুন্দর কথা শোনানো হয়েছিল, সেসবের কী হলো? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, দুর্নীতি দূর হবে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আজ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস চলছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র পনেরো মিনিটের দূরত্বে একটা এলাকায় রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃত্ব নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে, ক্যান্টনমেন্টের কাছে, একটা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ে উঠেছে যেখানে ঢুকতে গেলে বিশেষ পরিচয়পত্র লাগে। কোন দেশের কথা বলছি আমরা?

ইউনুস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টারা যদি মনে করেন যে কিছু সুন্দর বক্তৃতা দিয়ে, বিদেশি সফর করে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম অর্জনের গল্প শুনিয়ে দেশ চালানো যায়, তাহলে জঙ্গল সলিমপুর তাদের জন্য একটা তিক্ত বাস্তবতার পাঠ। এই এলাকায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস, নিজস্ব চেকপোস্ট, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিজস্ব বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ। রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া এই ধরনের দখলদারি টিকে থাকে না।

যে সরকার বলে এসেছে তারা সংস্কার করবে, নতুন বাংলাদেশ গড়বে, সেই সরকারের আমলে জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। জুলাইয়ের পর থেকে এখানে একের পর এক সংঘর্ষ হয়েছে, গোলাগুলি হয়েছে, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে লড়াই চলছে। মশিউর-গফুর গ্রুপ ছিল, এখন রোকন গ্রুপ, ইয়াসিন গ্রুপ, রিদোয়ান গ্রুপ। সরকার বদলের সাথে সাথে এদের ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলেছে। এটা কি একটা রাষ্ট্রের চিত্র, নাকি কোনো মাফিয়া চালিত এলাকার?

জেলা প্রশাসক নিজেই স্বীকার করছেন যে ফোর্স এপ্লাই করলে জায়গাটা উদ্ধার করা যাবে, কিন্তু করছেন না কারণ সেখানে সাধারণ মানুষ আছে। খুবই মানবিক যুক্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সাধারণ মানুষকে ঢাল বানিয়ে অপরাধীরা যখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরছে, তখন সমাধান কী? অনন্তকাল অপেক্ষা করা? ২০২২ সালে র‍্যাবের সাথে গোলাগুলি হয়েছে, জেলা প্রশাসনের লোকদের বাধা দেওয়া হয়েছে, পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, নভোথিয়েটার, সব প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। একটারও কাজ শুরু হয়নি। কারণ সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক বলছেন, নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে চাওয়ার মতো করে চাইতে হবে। ঠিক কথা। কিন্তু যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে, বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ নিয়ে, দেশজুড়ে দাঙ্গা বাঁধিয়ে, তারা কি সত্যিই চায়? নাকি এটাও একটা সুবিধাজনক নৈরাজ্য, যেখানে যখন দরকার তখন এই সব দুর্বৃত্তদের কাজে লাগানো যায়?

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলছেন, ছিন্নমূল মানুষ বেশি, তাই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ কম। কী অদ্ভুত যুক্তি। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তো আগেও ছিল, এখনও আছে। পার্থক্য হলো, আগে যেসব দল এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত, তারা ক্ষমতায় নেই। এখন যারা ক্ষমতায়, তারা কাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে সেটা পরিষ্কার নয়। অথবা হয়তো খুবই পরিষ্কার, শুধু প্রকাশ্যে বলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার হলো, র‍্যাব যখন অভিযানে যায়, তখন ইনফরমেশন লিক হয়ে যায়। জেলা প্রশাসক নিজেই বলছেন, মনে হচ্ছে তথ্য ফাঁস হয়েছে। তার মানে কী? রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে এমন লোক আছে যারা অপরাধীদের সাথে যুক্ত। এটা কোনো নতুন তথ্য নয়, কিন্তু এত প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি দেয় যে ব্যবস্থাটা কতটা ভেঙে পড়েছে।

ইউনুস সরকার এসেছিল সংস্কারের নামে। ছয় মাস পার হয়ে গেছে। জঙ্গল সলিমপুরের মতো জায়গাগুলো এখনও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এরকম ছোট ছোট স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। কিন্তু সরকারের মাথাব্যথা নেই। তারা ব্যস্ত আছে সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন, নানা রকম কমিশন বানাতে। জমিতে ফসল নেই, কিন্তু সাইনবোর্ড অনেক।

একটা দেশ যখন তার নিজের ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন সেটাকে আর সার্বভৌম রাষ্ট্র বলা যায় না। জঙ্গল সলিমপুর এখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর একটা প্রশ্নচিহ্ন। আর যে সরকার এই অবস্থা সামাল দিতে পারছে না, তারা আসলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয় বলেই হয়তো এত নির্লিপ্ত। কারণ তারা তো নির্বাচিত নয়, তারা চাপিয়ে দেওয়া।

তিন হাজার একশ একর সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরের বাজার দর কয়েক হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল সম্পদ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে কিছু সশস্ত্র দুর্বৃত্ত, আর রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। র‍্যাবের একটা দল গেল চারজন হত্যা মামলার আসামি ধরতে, ফিরে এল একজন কর্মকর্তার লাশ নিয়ে। মসজিদের মাইক দিয়ে ঘোষণা দিয়ে, চার-পাঁচশ লোক জড়ো করে, প্রকাশ্য দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হলো, অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হলো। এই ঘটনার পর যে সরকার ক্ষমতায় আছে, তাদের প্রতিক্রিয়া কী? জোরালো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তুতি। ছয় মাস ধরে ক্ষমতায় বসে থেকে এখনও প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন দেশজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো, তখন যে সুন্দর সুন্দর কথা শোনানো হয়েছিল, সেসবের কী হলো? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, দুর্নীতি দূর হবে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আজ ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস চলছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র পনেরো মিনিটের দূরত্বে একটা এলাকায় রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃত্ব নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে, ক্যান্টনমেন্টের কাছে, একটা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গড়ে উঠেছে যেখানে ঢুকতে গেলে বিশেষ পরিচয়পত্র লাগে। কোন দেশের কথা বলছি আমরা?

ইউনুস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টারা যদি মনে করেন যে কিছু সুন্দর বক্তৃতা দিয়ে, বিদেশি সফর করে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম অর্জনের গল্প শুনিয়ে দেশ চালানো যায়, তাহলে জঙ্গল সলিমপুর তাদের জন্য একটা তিক্ত বাস্তবতার পাঠ। এই এলাকায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস, নিজস্ব চেকপোস্ট, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিজস্ব বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ। রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া এই ধরনের দখলদারি টিকে থাকে না।

যে সরকার বলে এসেছে তারা সংস্কার করবে, নতুন বাংলাদেশ গড়বে, সেই সরকারের আমলে জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। জুলাইয়ের পর থেকে এখানে একের পর এক সংঘর্ষ হয়েছে, গোলাগুলি হয়েছে, হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে লড়াই চলছে। মশিউর-গফুর গ্রুপ ছিল, এখন রোকন গ্রুপ, ইয়াসিন গ্রুপ, রিদোয়ান গ্রুপ। সরকার বদলের সাথে সাথে এদের ক্ষমতার ভারসাম্যও বদলেছে। এটা কি একটা রাষ্ট্রের চিত্র, নাকি কোনো মাফিয়া চালিত এলাকার?

জেলা প্রশাসক নিজেই স্বীকার করছেন যে ফোর্স এপ্লাই করলে জায়গাটা উদ্ধার করা যাবে, কিন্তু করছেন না কারণ সেখানে সাধারণ মানুষ আছে। খুবই মানবিক যুক্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সাধারণ মানুষকে ঢাল বানিয়ে অপরাধীরা যখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরছে, তখন সমাধান কী? অনন্তকাল অপেক্ষা করা? ২০২২ সালে র‍্যাবের সাথে গোলাগুলি হয়েছে, জেলা প্রশাসনের লোকদের বাধা দেওয়া হয়েছে, পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, নভোথিয়েটার, সব প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। একটারও কাজ শুরু হয়নি। কারণ সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক বলছেন, নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে চাওয়ার মতো করে চাইতে হবে। ঠিক কথা। কিন্তু যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে, বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ নিয়ে, দেশজুড়ে দাঙ্গা বাঁধিয়ে, তারা কি সত্যিই চায়? নাকি এটাও একটা সুবিধাজনক নৈরাজ্য, যেখানে যখন দরকার তখন এই সব দুর্বৃত্তদের কাজে লাগানো যায়?

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলছেন, ছিন্নমূল মানুষ বেশি, তাই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ কম। কী অদ্ভুত যুক্তি। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তো আগেও ছিল, এখনও আছে। পার্থক্য হলো, আগে যেসব দল এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত, তারা ক্ষমতায় নেই। এখন যারা ক্ষমতায়, তারা কাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে সেটা পরিষ্কার নয়। অথবা হয়তো খুবই পরিষ্কার, শুধু প্রকাশ্যে বলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার হলো, র‍্যাব যখন অভিযানে যায়, তখন ইনফরমেশন লিক হয়ে যায়। জেলা প্রশাসক নিজেই বলছেন, মনে হচ্ছে তথ্য ফাঁস হয়েছে। তার মানে কী? রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে এমন লোক আছে যারা অপরাধীদের সাথে যুক্ত। এটা কোনো নতুন তথ্য নয়, কিন্তু এত প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি দেয় যে ব্যবস্থাটা কতটা ভেঙে পড়েছে।

ইউনুস সরকার এসেছিল সংস্কারের নামে। ছয় মাস পার হয়ে গেছে। জঙ্গল সলিমপুরের মতো জায়গাগুলো এখনও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এরকম ছোট ছোট স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। কিন্তু সরকারের মাথাব্যথা নেই। তারা ব্যস্ত আছে সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন, নানা রকম কমিশন বানাতে। জমিতে ফসল নেই, কিন্তু সাইনবোর্ড অনেক।

একটা দেশ যখন তার নিজের ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ হারায়, তখন সেটাকে আর সার্বভৌম রাষ্ট্র বলা যায় না। জঙ্গল সলিমপুর এখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর একটা প্রশ্নচিহ্ন। আর যে সরকার এই অবস্থা সামাল দিতে পারছে না, তারা আসলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয় বলেই হয়তো এত নির্লিপ্ত। কারণ তারা তো নির্বাচিত নয়, তারা চাপিয়ে দেওয়া।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ