Saturday, January 24, 2026

বাংলাদেশ ২.০ এর প্রাপ্তি : দেশজুড়ে অপহরণের মহামারি

বগুড়ার সারিয়াকান্দির একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে কর্মস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। পরিবারকে দুই দফা মুক্তিপণ গুনতে হলো নিজের মানুষটিকে ফেরত পেতে। নারায়ণগঞ্জে এক ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হলো মুক্তিপণের জন্য। ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্র সুদীপ্ত রায়ের পরিবার ৮০ লাখ টাকা জোগাড় করতে না পারায় তার লাশ উদ্ধার করতে হলো পুলিশকে। এগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নয়, এটাই এখন দেশের বাস্তবতা। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশ যে অরাজকতার গহ্বরে তলিয়ে গেছে, অপহরণের পরিসংখ্যান তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

২০২১ সালে যেখানে সারাদেশে অপহরণের মামলা ছিল ৪৪৫টি, সেখানে ২০২৫ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫টিতে। দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি। শুধু সংখ্যা নয়, অপহরণের ধরনও বদলে গেছে। এখন আর কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রেমঘটিত কারণে অপহরণ হয় না। এখন এটি পুরোপুরি একটি সংগঠিত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে দেশে যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটেছে, তারপর থেকে এই অপরাধের লাগামহীন বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই সবচেয়ে বেশি ১০৯টি অপহরণের মামলা হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে সেই জুলাই মাসেই তো নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ইউনুস ক্ষমতায় বসেছিলেন। তারপর থেকে প্রতি মাসেই অপহরণের সংখ্যা ৮০ থেকে ১১০টির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অক্টোবরে ১১০টি, নভেম্বরে ৯৩টি, ডিসেম্বরে ৮৭টি। এই হচ্ছে ইউনুসের শাসনামলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

কক্সবাজারের টেকনাফ আর উখিয়ার পাহাড়গুলো এখন অপহরণকারীদের নিরাপদ আস্তানা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই সেখানে অপহরণ আর মুক্তিপণের ঘটনা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ঢাকা আর চট্টগ্রাম মিলিয়ে মোট অপহরণের অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ঘটছে। ঢাকা বিভাগ আর ঢাকা মেট্রোপলিটনে ৪০৩টি, চট্টগ্রামে ২০৩টি মামলা। দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে মানুষ এখন আর নিরাপদ নয়।

ইউনুস আর তার দলবল কি করছেন এই পরিস্থিতিতে? উত্তর হলো, কিছুই না। একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, যিনি দেশের মানুষের কাছ থেকে সুদ নিয়ে কোটি কোটি টাকা বানিয়েছেন, তিনি এখন দেশ চালাচ্ছেন কোনো নির্বাচন ছাড়াই, কোনো জনগণের রায় ছাড়াই। জুলাইয়ের সেই তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান, যেখানে বিদেশি অর্থায়ন, জঙ্গি সংগঠনের মদদ আর সামরিক সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ, তার সুবাদেই তো তিনি এই পদে বসেছেন। তারপর থেকে দেশের মানুষ দেখছে শুধু নিরাপত্তাহীনতা আর অরাজকতা।

একটি প্রশ্ন মনে জাগে, এই মানুষটির ব্যক্তিগত আক্রোশ কোথায়? ইউনুস কি এদেশের সাধারণ মানুষদের এতটাই ঘৃণা করেন যে তাদের সন্তানদের অপহরণ করা হচ্ছে, পরিবারগুলো সর্বস্ব বিকিয়ে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হচ্ছে, আর তিনি নীরব দর্শক হয়ে বসে আছেন? না হলে কোনো স্বাভাবিক মানুষ, যার একটুও মানবিকতা আছে, সে কি এভাবে দেশটাকে ডুবতে দেখবে?

দেশের অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই এসব অপহরণ বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলছেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করে যে সব অপহরণের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু ইউনুস সরকারের কাছে এসব কথা বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে।

যে সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি, যাদের জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই, তারা জনগণের নিরাপত্তার দায় নেবে কেন? এটাই হয়তো ইউনুসের হিসাব। তিনি তো আর ভোটের জন্য জনগণের কাছে যাবেন না। তার ক্ষমতায় থাকাটা নির্ভর করছে ভিন্ন কিছু শক্তির সমর্থনের ওপর। তাই সাধারণ মানুষ অপহৃত হোক, মুক্তিপণ দিতে সর্বস্বান্ত হোক, এতে তার কিছু আসে যায় না।

চাঁদাবাজির জন্য অপহরণ হচ্ছে, জমি দখলের জন্য অপহরণ হচ্ছে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দখলের জন্য অপহরণ হচ্ছে। পুলিশ বলছে এসব আর্থিক লেনদেনের বিষয়। কিন্তু এত আর্থিক লেনদেন কেন হঠাৎ অপহরণের পথ বেছে নিচ্ছে? কারণ আইনের শাসন বলে কিছু নেই। সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা বলে কিছু নেই। পুলিশ আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন হয় অকার্যকর, নয়তো ব্যস্ত অন্য কাজে।

ইউনুস তার মাইক্রোক্রেডিট দিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সুদের নামে কত টাকা নিয়েছেন, সেটা একটা আলাদা আলোচনা। কিন্তু এখন তিনি পুরো দেশের মানুষের কাছ থেকে তাদের নিরাপত্তা, তাদের শান্তি, তাদের স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছেন। একজন কলেজ পড়ুয়া ছেলে অপহৃত হয়ে মারা গেল কারণ তার পরিবার ৮০ লাখ টাকা জোগাড় করতে পারেনি। এই দায় কার? ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকারের।

যে দেশে ২০২১ সালে বছরে ৪৪৫টি অপহরণের ঘটনা ঘটত, সেখানে এখন ঘটছে ১ হাজারের বেশি। এটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা লাখো পরিবারের দুঃস্বপ্ন। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি পরিবারের কান্না, একজন মায়ের আহাজারি, একজন বাবার অসহায়ত্ব। ইউনুস কি এসব শুনতে পান? নাকি তার কানে শুধু বিদেশি প্রভুদের নির্দেশনা পৌঁছায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন অপহরণ সর্বোচ্চ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ। কিন্তু মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার অধিকার কি আছে সেই সরকারের, যারা নিজেরাই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে? যে সরকার জনগণের রায় ছাড়াই, নির্বাচন ছাড়াই দেশ চালাচ্ছে, তারা মানবাধিকার রক্ষা করবে কীভাবে?

ইউনুসের এই নীরবতা, এই নিষ্ক্রিয়তা আসলে তার প্রকৃত মনোভাবের প্রকাশ। একজন মানুষ যদি সত্যিই দেশের জনগণকে ভালোবাসে, তাদের কল্যাণ চায়, তাহলে প্রতিদিন এত অপহরণের ঘটনা ঘটতে দেখে কি নীরব থাকতে পারে? পারে না। কিন্তু ইউনুস পারছেন। কারণ তার কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকাটাই আসল, জনগণের নিরাপত্তা নয়।

দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে, জুলাইয়ের সেই পরিবর্তন আসলে কোনো গণঅভ্যুত্থান ছিল না। এটা ছিল একটা পরিকল্পিত ক্যু, যেখানে বিদেশি শক্তি, জঙ্গি সংগঠন আর কিছু সামরিক সমর্থন মিলে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। আর ক্ষমতায় বসানো হয়েছে একজন মহাজনকে, যার কাছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-মরণ কোনো বিষয়ই নয়।

ইউনুসের এই ব্যক্তিগত আক্রোশের উৎস কী, সেটা হয়তো ইতিহাস একদিন জানাবে। কিন্তু এটুকু স্পষ্ট যে, যে মানুষ দেশের জনগণকে এভাবে অরক্ষিত, অনিরাপদ আর অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখতে পারে, তার হৃদয়ে এদেশের মানুষের জন্য কোনো মমতা নেই। আছে শুধু ক্ষমতার মোহ আর নিজের স্বার্থ রক্ষার তাড়না।

বগুড়ার সারিয়াকান্দির একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে কর্মস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। পরিবারকে দুই দফা মুক্তিপণ গুনতে হলো নিজের মানুষটিকে ফেরত পেতে। নারায়ণগঞ্জে এক ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হলো মুক্তিপণের জন্য। ক্যামব্রিয়ান কলেজের ছাত্র সুদীপ্ত রায়ের পরিবার ৮০ লাখ টাকা জোগাড় করতে না পারায় তার লাশ উদ্ধার করতে হলো পুলিশকে। এগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা নয়, এটাই এখন দেশের বাস্তবতা। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশ যে অরাজকতার গহ্বরে তলিয়ে গেছে, অপহরণের পরিসংখ্যান তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

২০২১ সালে যেখানে সারাদেশে অপহরণের মামলা ছিল ৪৪৫টি, সেখানে ২০২৫ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫টিতে। দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি। শুধু সংখ্যা নয়, অপহরণের ধরনও বদলে গেছে। এখন আর কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রেমঘটিত কারণে অপহরণ হয় না। এখন এটি পুরোপুরি একটি সংগঠিত ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই মাসে দেশে যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটেছে, তারপর থেকে এই অপরাধের লাগামহীন বৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই সবচেয়ে বেশি ১০৯টি অপহরণের মামলা হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে সেই জুলাই মাসেই তো নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ইউনুস ক্ষমতায় বসেছিলেন। তারপর থেকে প্রতি মাসেই অপহরণের সংখ্যা ৮০ থেকে ১১০টির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। অক্টোবরে ১১০টি, নভেম্বরে ৯৩টি, ডিসেম্বরে ৮৭টি। এই হচ্ছে ইউনুসের শাসনামলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

কক্সবাজারের টেকনাফ আর উখিয়ার পাহাড়গুলো এখন অপহরণকারীদের নিরাপদ আস্তানা। শুষ্ক মৌসুম শুরু হতেই সেখানে অপহরণ আর মুক্তিপণের ঘটনা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ঢাকা আর চট্টগ্রাম মিলিয়ে মোট অপহরণের অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ঘটছে। ঢাকা বিভাগ আর ঢাকা মেট্রোপলিটনে ৪০৩টি, চট্টগ্রামে ২০৩টি মামলা। দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে মানুষ এখন আর নিরাপদ নয়।

ইউনুস আর তার দলবল কি করছেন এই পরিস্থিতিতে? উত্তর হলো, কিছুই না। একজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, যিনি দেশের মানুষের কাছ থেকে সুদ নিয়ে কোটি কোটি টাকা বানিয়েছেন, তিনি এখন দেশ চালাচ্ছেন কোনো নির্বাচন ছাড়াই, কোনো জনগণের রায় ছাড়াই। জুলাইয়ের সেই তথাকথিত গণঅভ্যুত্থান, যেখানে বিদেশি অর্থায়ন, জঙ্গি সংগঠনের মদদ আর সামরিক সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ, তার সুবাদেই তো তিনি এই পদে বসেছেন। তারপর থেকে দেশের মানুষ দেখছে শুধু নিরাপত্তাহীনতা আর অরাজকতা।

একটি প্রশ্ন মনে জাগে, এই মানুষটির ব্যক্তিগত আক্রোশ কোথায়? ইউনুস কি এদেশের সাধারণ মানুষদের এতটাই ঘৃণা করেন যে তাদের সন্তানদের অপহরণ করা হচ্ছে, পরিবারগুলো সর্বস্ব বিকিয়ে মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হচ্ছে, আর তিনি নীরব দর্শক হয়ে বসে আছেন? না হলে কোনো স্বাভাবিক মানুষ, যার একটুও মানবিকতা আছে, সে কি এভাবে দেশটাকে ডুবতে দেখবে?

দেশের অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই এসব অপহরণ বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলছেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করে যে সব অপহরণের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু ইউনুস সরকারের কাছে এসব কথা বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে।

যে সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি, যাদের জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই, তারা জনগণের নিরাপত্তার দায় নেবে কেন? এটাই হয়তো ইউনুসের হিসাব। তিনি তো আর ভোটের জন্য জনগণের কাছে যাবেন না। তার ক্ষমতায় থাকাটা নির্ভর করছে ভিন্ন কিছু শক্তির সমর্থনের ওপর। তাই সাধারণ মানুষ অপহৃত হোক, মুক্তিপণ দিতে সর্বস্বান্ত হোক, এতে তার কিছু আসে যায় না।

চাঁদাবাজির জন্য অপহরণ হচ্ছে, জমি দখলের জন্য অপহরণ হচ্ছে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দখলের জন্য অপহরণ হচ্ছে। পুলিশ বলছে এসব আর্থিক লেনদেনের বিষয়। কিন্তু এত আর্থিক লেনদেন কেন হঠাৎ অপহরণের পথ বেছে নিচ্ছে? কারণ আইনের শাসন বলে কিছু নেই। সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা বলে কিছু নেই। পুলিশ আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন হয় অকার্যকর, নয়তো ব্যস্ত অন্য কাজে।

ইউনুস তার মাইক্রোক্রেডিট দিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সুদের নামে কত টাকা নিয়েছেন, সেটা একটা আলাদা আলোচনা। কিন্তু এখন তিনি পুরো দেশের মানুষের কাছ থেকে তাদের নিরাপত্তা, তাদের শান্তি, তাদের স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছেন। একজন কলেজ পড়ুয়া ছেলে অপহৃত হয়ে মারা গেল কারণ তার পরিবার ৮০ লাখ টাকা জোগাড় করতে পারেনি। এই দায় কার? ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকারের।

যে দেশে ২০২১ সালে বছরে ৪৪৫টি অপহরণের ঘটনা ঘটত, সেখানে এখন ঘটছে ১ হাজারের বেশি। এটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটা লাখো পরিবারের দুঃস্বপ্ন। প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে একটি পরিবারের কান্না, একজন মায়ের আহাজারি, একজন বাবার অসহায়ত্ব। ইউনুস কি এসব শুনতে পান? নাকি তার কানে শুধু বিদেশি প্রভুদের নির্দেশনা পৌঁছায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন অপহরণ সর্বোচ্চ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ। কিন্তু মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার অধিকার কি আছে সেই সরকারের, যারা নিজেরাই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে? যে সরকার জনগণের রায় ছাড়াই, নির্বাচন ছাড়াই দেশ চালাচ্ছে, তারা মানবাধিকার রক্ষা করবে কীভাবে?

ইউনুসের এই নীরবতা, এই নিষ্ক্রিয়তা আসলে তার প্রকৃত মনোভাবের প্রকাশ। একজন মানুষ যদি সত্যিই দেশের জনগণকে ভালোবাসে, তাদের কল্যাণ চায়, তাহলে প্রতিদিন এত অপহরণের ঘটনা ঘটতে দেখে কি নীরব থাকতে পারে? পারে না। কিন্তু ইউনুস পারছেন। কারণ তার কাছে ক্ষমতায় টিকে থাকাটাই আসল, জনগণের নিরাপত্তা নয়।

দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে, জুলাইয়ের সেই পরিবর্তন আসলে কোনো গণঅভ্যুত্থান ছিল না। এটা ছিল একটা পরিকল্পিত ক্যু, যেখানে বিদেশি শক্তি, জঙ্গি সংগঠন আর কিছু সামরিক সমর্থন মিলে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। আর ক্ষমতায় বসানো হয়েছে একজন মহাজনকে, যার কাছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-মরণ কোনো বিষয়ই নয়।

ইউনুসের এই ব্যক্তিগত আক্রোশের উৎস কী, সেটা হয়তো ইতিহাস একদিন জানাবে। কিন্তু এটুকু স্পষ্ট যে, যে মানুষ দেশের জনগণকে এভাবে অরক্ষিত, অনিরাপদ আর অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখতে পারে, তার হৃদয়ে এদেশের মানুষের জন্য কোনো মমতা নেই। আছে শুধু ক্ষমতার মোহ আর নিজের স্বার্থ রক্ষার তাড়না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ