Saturday, January 24, 2026

গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: বাংলাদেশ কোন পথে এগোচ্ছে?

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। একে অনেকেই আর সাধারণ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না। বরং এই নির্বাচন পরিণত হচ্ছে একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে যা গণতন্ত্রের চেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলছে তার অস্তিত্ব নিয়েই।

আজ মূল প্রশ্নটি আর “কে জিতবে” তা নয়। প্রশ্ন হলো, এটি আদৌ কি একটি অর্থবহ নির্বাচন, নাকি নির্বাচনের আড়ালে ক্ষমতার বৈধতা তৈরির একটি কৌশল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন মানেই কেবল ভোটের দিন নির্ধারণ নয়। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে বিরোধী দল স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতে পারে, গণমাধ্যম থাকে মুক্ত, নাগরিকরা ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারে এবং প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।

বর্তমান বাস্তবতায় এই মৌলিক শর্তগুলোর কোনোটিই পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে, যা সরাসরি ভোটের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভয়ের পরিবেশে দেওয়া ভোট কখনোই স্বাধীন ভোট হতে পারে না।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ও বিতর্কিত দিক হলো—দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, কোনো বড় রাজনৈতিক দল অংশ না নিলে সেই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক বলা কঠিন।

এটি কেবল দলীয় রাজনীতির প্রশ্ন নয়; এটি ভোটার প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি একটি বড় অংশের ভোটার নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত বোধ করে, তাহলে সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

এই নির্বাচন এখন আর শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক পাঠালেও তারা আগাম কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছে।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। অনেক সূচকে দেশটিকে “হাইব্রিড রেজিম” বা “অংশিক স্বৈরতান্ত্রিক” হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কূটনৈতিক ভাষায় এসব মূল্যায়নের অর্থ একটাই—আন্তর্জাতিক আস্থার ঘাটতি।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং মামলার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলছে। এপি, রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বারবার প্রশ্ন তুলেছে—বাংলাদেশে মানুষ কি নিরাপদে ভোট দিতে পারবে? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এখন একটি নতুন শব্দ ব্যবহৃত হচ্ছে— ডেকোরেটিভ ডেমোক্র্যাসি (Decorative Democracy)। অর্থাৎ, বাইরে থেকে গণতন্ত্রের কাঠামো দেখা গেলেও ভেতরে থাকে ফাঁপা বাস্তবতা।

এই নির্বাচনে হয়তো ব্যালট থাকবে, ভোটকেন্দ্র থাকবে, ফলাফলও থাকবে। কিন্তু সমান প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জনআস্থা না থাকলে তা গণতন্ত্রের পূর্ণ রূপ নয়—এটি তার অনুকরণ মাত্র।

বিশ্ব রাজনীতির অভিজ্ঞতা বলছে, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে। আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিভাজন এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা—এসবই এর পরিণতি হতে পারে।

এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের প্রশ্ন। যদি ভোটকে নাটকে পরিণত করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর নির্বাচনের ওপর আস্থা রাখবে না। তখন তারা বিশ্বাস করবে রাজপথে, সংঘাতে, অস্থিরতায়।

গণতন্ত্র হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না। এটি ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে মারা হয়। আর এই নির্বাচনৎ অনেকের চোখেসেই প্রক্রিয়ারই একটি অধ্যায়।

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। একে অনেকেই আর সাধারণ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না। বরং এই নির্বাচন পরিণত হচ্ছে একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে যা গণতন্ত্রের চেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলছে তার অস্তিত্ব নিয়েই।

আজ মূল প্রশ্নটি আর “কে জিতবে” তা নয়। প্রশ্ন হলো, এটি আদৌ কি একটি অর্থবহ নির্বাচন, নাকি নির্বাচনের আড়ালে ক্ষমতার বৈধতা তৈরির একটি কৌশল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন মানেই কেবল ভোটের দিন নির্ধারণ নয়। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে বিরোধী দল স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতে পারে, গণমাধ্যম থাকে মুক্ত, নাগরিকরা ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারে এবং প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।

বর্তমান বাস্তবতায় এই মৌলিক শর্তগুলোর কোনোটিই পূরণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে, যা সরাসরি ভোটের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভয়ের পরিবেশে দেওয়া ভোট কখনোই স্বাধীন ভোট হতে পারে না।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ও বিতর্কিত দিক হলো—দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, কোনো বড় রাজনৈতিক দল অংশ না নিলে সেই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক বলা কঠিন।

এটি কেবল দলীয় রাজনীতির প্রশ্ন নয়; এটি ভোটার প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি একটি বড় অংশের ভোটার নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত বোধ করে, তাহলে সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

এই নির্বাচন এখন আর শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক পাঠালেও তারা আগাম কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানাচ্ছে।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। অনেক সূচকে দেশটিকে “হাইব্রিড রেজিম” বা “অংশিক স্বৈরতান্ত্রিক” হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কূটনৈতিক ভাষায় এসব মূল্যায়নের অর্থ একটাই—আন্তর্জাতিক আস্থার ঘাটতি।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণগ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং মামলার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলছে। এপি, রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বারবার প্রশ্ন তুলেছে—বাংলাদেশে মানুষ কি নিরাপদে ভোট দিতে পারবে? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এখন একটি নতুন শব্দ ব্যবহৃত হচ্ছে— ডেকোরেটিভ ডেমোক্র্যাসি (Decorative Democracy)। অর্থাৎ, বাইরে থেকে গণতন্ত্রের কাঠামো দেখা গেলেও ভেতরে থাকে ফাঁপা বাস্তবতা।

এই নির্বাচনে হয়তো ব্যালট থাকবে, ভোটকেন্দ্র থাকবে, ফলাফলও থাকবে। কিন্তু সমান প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জনআস্থা না থাকলে তা গণতন্ত্রের পূর্ণ রূপ নয়—এটি তার অনুকরণ মাত্র।

বিশ্ব রাজনীতির অভিজ্ঞতা বলছে, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে। আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিভাজন এবং দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা—এসবই এর পরিণতি হতে পারে।

এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের প্রশ্ন। যদি ভোটকে নাটকে পরিণত করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর নির্বাচনের ওপর আস্থা রাখবে না। তখন তারা বিশ্বাস করবে রাজপথে, সংঘাতে, অস্থিরতায়।

গণতন্ত্র হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না। এটি ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে মারা হয়। আর এই নির্বাচনৎ অনেকের চোখেসেই প্রক্রিয়ারই একটি অধ্যায়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ