শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম বাড়া কোনো বাজারগত দুর্ঘটনা নয় এটি পরিকল্পিত লুটপাট। চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারগুলো আজ চাষির ঘামে নয়, চাঁদাবাজের হুকুমে চলে। এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৪০ টাকা দাম বাড়া প্রমাণ করে, বাজারে ঘাটতি নেই ঘাটতি আছে প্রশাসনের মেরুদণ্ডে।
আগ্রাবাদ ব্যাপারীপাড়া থেকে হালিশহর সবখানেই একই চিত্র। একসঙ্গে টমেটো, শিম, লাউ, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি আর কাঁচা মরিচের দাম বাড়া মানে একটাই কথা: আড়ত ও পাইকারি পর্যায়ে বসে থাকা রাজনৈতিক আশ্রয়পুষ্ট চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট দাম ঠিক করে দিচ্ছে। মাঠে ফলন আছে, ট্রাক চলছে—কিন্তু বাজারে ঢুকলেই শুরু হয় চাঁদার হিসাব।
এই চাঁদাবাজি এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। আড়তে আড়তে ‘লেভি’ না দিলে পণ্য নামতে দেয় না, ট্রাক আটকে রাখে, জোর করে কম দামে মাল ছাড়াতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত সেই চাঁদার বোঝা চাপানো হয় ভোক্তার ঘাড়ে। এটাই তাদের ব্যবসা, এটাই তাদের রাজনীতি।
আর প্রশ্ন হলো এরা এতটা বেপরোয়া কেন? কারণ তারা জানে, তাদের পেছনে আছে রাজনৈতিক ছায়া। নির্বাচন সামনে অস্থির বাজার মানেই জনরোষ, আর জনরোষ মানেই রাজনৈতিক ফায়দা। তাই বাজারকে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সরকার ব্যর্থ দেখালেই তাদের হিসাব পূরণ এই নোংরা খেলাই চলছে।
বাজার তদারকির নামে মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান হয়, কিন্তু সিন্ডিকেট ভাঙে না। কারণ ভাঙতে হলে ছায়া কাটতে হয়। প্রশাসনের নীরবতা এখানে অক্ষমতা নয় এটি প্রশ্রয়ের সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে।
ভোক্তা আজ জিম্মি। শীতের মৌসুমে যে বাজার স্বস্তি দেওয়ার কথা, সেই বাজারই এখন শ্বাসরোধ করছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ‘বাজার’ থাকবে না থাকবে শুধু চাঁদাবাজের ট্যারিফ।
এখন সময় কথার নয় কঠোর অ্যাকশনের। আড়ত, পাইকারি চক্র, তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে ভরা মৌসুমেও দাম থাকবে আগুনে, আর বাজার থাকবে চাঁদাবাজদের দখলে।

