Thursday, January 15, 2026

ইউনুসের দৌলতে দেশের অর্থনীতি এখন লাশকাটা ঘরে

গত ছয় মাস ধরে দেশের ব্যবসায়ীরা যে কথাটা বলে আসছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি এখন শুধু মন্দায় নেই, এটা প্রায় মৃত। জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের হাতে গত ছয় মাসে অর্থনীতির যে দশা হয়েছে, তার জন্য মুহাম্মদ ইউনুস আর তার অবৈধ সরকার সরাসরি দায়ী।

এলসি খোলা কমেছে ১৩ শতাংশ। শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর মানে কী জানেন? এর মানে হলো দেশের ব্যবসায়ীরা নতুন করে পণ্য আনার সাহস পাচ্ছেন না। ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে ভয় পাচ্ছে। রফতানিকারকরা নতুন অর্ডার নিতে দ্বিধা করছেন। কেন? কারণ কেউই জানে না আগামীকাল কী হবে। যে দেশে একটা নির্বাচিত সরকারকে রাতারাতি উৎখাত করে ফেলা যায়, সেখানে কোন পাগলে বিনিয়োগ করবে?

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১৭ শতাংশ। এই সংখ্যাটা আরও ভয়াবহ। কারণ মূলধনী যন্ত্রপাতি মানে হলো ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। কারখানা সম্প্রসারণ, নতুন উৎপাদন লাইন স্থাপন, প্রযুক্তি আপগ্রেড। এসব বন্ধ মানে হলো ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থনীতিবিদরা যতই বলুন না কেন অবস্থা ভালো হবে, মাঠের বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। উদ্যোক্তারা নতুন মেশিন আনছেন না মানে তারা সম্প্রসারণ করছেন না, মানে তারা নতুন লোক নিয়োগ দেবেন না, মানে বেকারত্ব বাড়বে।

ইউনুস সাহেবের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা কী ছিল? গরিব মানুষকে উচ্চ সুদে ঋণ দেওয়া। গ্রামীণ ব্যাংক চালানো। নোবেল পুরস্কার পাওয়া। এসবের কোনোটাই একটা দেশের অর্থনীতি চালানোর যোগ্যতা নয়। একটা ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান চালানো আর একটা দেশের রফতানি-আমদানি, শিল্প-বাণিজ্য, আর্থিক নীতি পরিচালনা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। কিন্তু এই সহজ সত্যটা বুঝতে পারেনি যারা বিদেশি মদদে এই তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার বসিয়েছে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য এখন আইসিইউতে। এটা কোনো অতিরঞ্জন নয়। ব্যাক টু ব্যাক এলসি কমছে মানে যেসব কারখানা আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি করে রফতানি করে, তারা ধুঁকছে। মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। এর মানে কারখানায় কাঁচামাল আসছে না, উৎপাদন কমছে, শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছে। পেট্রোলিয়াম আমদানিও কমছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত।

আসল সমস্যা হলো এই সরকারের কোনো বৈধতা নেই। জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। তারা এসেছে সহিংসতার মধ্য দিয়ে। বিদেশি রাষ্ট্রের টাকায়, ইসলামি জঙ্গিদের সহায়তায়, সামরিক বাহিনীর মদদে। এমন একটা সরকারের অধীনে কোনো বিনিয়োগকারী নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারে না। দেশি-বিদেশি সবাই অপেক্ষা করছে কবে স্থিতিশীলতা ফিরবে। কিন্তু স্থিতিশীলতা ফিরবে কীভাবে যখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদেরই কোনো স্থায়িত্ব নেই?

রফতানি আয় টানা চার মাস ধরে কমছে। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। বাংলাদেশের রফতানি খাত ছিল দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তৈরি পোশাক রফতানি থেকে বছরে কোটি কোটি ডলার আসত যা দিয়ে দেশের আমদানি খরচ মেটানো হতো, রিজার্ভ শক্তিশালী হতো। এখন সেই রফতানিই কমছে কারণ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে একটা অনিশ্চিত গন্তব্য। ক্রেতারা ভাবছেন, এই দেশে অর্ডার দিলে সময়মতো পণ্য পাওয়া যাবে তো? এখানে আবার কোনো অশান্তি হবে না তো?

সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইউনুস সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেই। তারা জানে না কীভাবে রফতানি বাড়াতে হয়, কীভাবে শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হয়, কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তাদের পুরো ফোকাস ক্ষমতায় টিকে থাকা। আর যেহেতু তারা জানে জনগণের কোনো সমর্থন তাদের নেই, তাই তারা নির্ভর করছে বিদেশি প্রভুদের ওপর। সেই প্রভুরা চায় বাংলাদেশ দুর্বল থাকুক, নির্ভরশীল থাকুক।

ব্যবসায়ীরা এখন টিকে থাকার লড়াই করছেন। অনেকেই ভাবছেন ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। এটাই স্বাভাবিক যখন দেখা যায় সরকার নিজেই জানে না তারা কতদিন টিকবে। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো আস্থা। মানুষ যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা হারায়, তখন তারা বিনিয়োগ বন্ধ করে, খরচ কমিয়ে দেয়, সঞ্চয় করতে শুরু করে। ঠিক এটাই এখন হচ্ছে দেশে।

এলসির এই পরিসংখ্যান আসলে অর্থনীতির একটা থার্মোমিটার। এটা বলে দিচ্ছে অর্থনীতির তাপমাত্রা কমছে, রক্তচাপ পড়ে যাচ্ছে। রোগী মারা যাওয়ার আগে যেমন সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ঠিক সেটাই হচ্ছে। এলসি কমছে, রফতানি কমছে, আমদানি কমছে, বিনিয়োগ নেই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এসবই মৃত অর্থনীতির লক্ষণ।

ইউনুস আর তার দল ভেবেছিল ক্ষমতা দখল করাই সব। কিন্তু ক্ষমতা দখল করা আর দেশ চালানো এক জিনিস নয়। বিশেষ করে যখন সেই ক্ষমতা আসে রক্তের বিনিময়ে, সহিংসতার মধ্য দিয়ে। এখন তারা বুঝতে পারছে দেশ চালানো কত কঠিন। কিন্তু ততদিনে অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। আর এই ধ্বংসের দায় এড়াতে পারবে না ইউনুস, পারবে না তার অবৈধ সরকার, পারবে না যারা তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে।

গত ছয় মাস ধরে দেশের ব্যবসায়ীরা যে কথাটা বলে আসছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতি এখন শুধু মন্দায় নেই, এটা প্রায় মৃত। জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার মধ্য দিয়ে যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের হাতে গত ছয় মাসে অর্থনীতির যে দশা হয়েছে, তার জন্য মুহাম্মদ ইউনুস আর তার অবৈধ সরকার সরাসরি দায়ী।

এলসি খোলা কমেছে ১৩ শতাংশ। শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর মানে কী জানেন? এর মানে হলো দেশের ব্যবসায়ীরা নতুন করে পণ্য আনার সাহস পাচ্ছেন না। ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে ভয় পাচ্ছে। রফতানিকারকরা নতুন অর্ডার নিতে দ্বিধা করছেন। কেন? কারণ কেউই জানে না আগামীকাল কী হবে। যে দেশে একটা নির্বাচিত সরকারকে রাতারাতি উৎখাত করে ফেলা যায়, সেখানে কোন পাগলে বিনিয়োগ করবে?

মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১৭ শতাংশ। এই সংখ্যাটা আরও ভয়াবহ। কারণ মূলধনী যন্ত্রপাতি মানে হলো ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। কারখানা সম্প্রসারণ, নতুন উৎপাদন লাইন স্থাপন, প্রযুক্তি আপগ্রেড। এসব বন্ধ মানে হলো ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থনীতিবিদরা যতই বলুন না কেন অবস্থা ভালো হবে, মাঠের বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। উদ্যোক্তারা নতুন মেশিন আনছেন না মানে তারা সম্প্রসারণ করছেন না, মানে তারা নতুন লোক নিয়োগ দেবেন না, মানে বেকারত্ব বাড়বে।

ইউনুস সাহেবের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা কী ছিল? গরিব মানুষকে উচ্চ সুদে ঋণ দেওয়া। গ্রামীণ ব্যাংক চালানো। নোবেল পুরস্কার পাওয়া। এসবের কোনোটাই একটা দেশের অর্থনীতি চালানোর যোগ্যতা নয়। একটা ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান চালানো আর একটা দেশের রফতানি-আমদানি, শিল্প-বাণিজ্য, আর্থিক নীতি পরিচালনা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। কিন্তু এই সহজ সত্যটা বুঝতে পারেনি যারা বিদেশি মদদে এই তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার বসিয়েছে।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য এখন আইসিইউতে। এটা কোনো অতিরঞ্জন নয়। ব্যাক টু ব্যাক এলসি কমছে মানে যেসব কারখানা আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে পণ্য তৈরি করে রফতানি করে, তারা ধুঁকছে। মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে সাড়ে ১৬ শতাংশ। এর মানে কারখানায় কাঁচামাল আসছে না, উৎপাদন কমছে, শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছে। পেট্রোলিয়াম আমদানিও কমছে, যার প্রভাব পড়ছে পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত।

আসল সমস্যা হলো এই সরকারের কোনো বৈধতা নেই। জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। তারা এসেছে সহিংসতার মধ্য দিয়ে। বিদেশি রাষ্ট্রের টাকায়, ইসলামি জঙ্গিদের সহায়তায়, সামরিক বাহিনীর মদদে। এমন একটা সরকারের অধীনে কোনো বিনিয়োগকারী নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারে না। দেশি-বিদেশি সবাই অপেক্ষা করছে কবে স্থিতিশীলতা ফিরবে। কিন্তু স্থিতিশীলতা ফিরবে কীভাবে যখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদেরই কোনো স্থায়িত্ব নেই?

রফতানি আয় টানা চার মাস ধরে কমছে। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। বাংলাদেশের রফতানি খাত ছিল দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তৈরি পোশাক রফতানি থেকে বছরে কোটি কোটি ডলার আসত যা দিয়ে দেশের আমদানি খরচ মেটানো হতো, রিজার্ভ শক্তিশালী হতো। এখন সেই রফতানিই কমছে কারণ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে একটা অনিশ্চিত গন্তব্য। ক্রেতারা ভাবছেন, এই দেশে অর্ডার দিলে সময়মতো পণ্য পাওয়া যাবে তো? এখানে আবার কোনো অশান্তি হবে না তো?

সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইউনুস সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেই। তারা জানে না কীভাবে রফতানি বাড়াতে হয়, কীভাবে শিল্পে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হয়, কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তাদের পুরো ফোকাস ক্ষমতায় টিকে থাকা। আর যেহেতু তারা জানে জনগণের কোনো সমর্থন তাদের নেই, তাই তারা নির্ভর করছে বিদেশি প্রভুদের ওপর। সেই প্রভুরা চায় বাংলাদেশ দুর্বল থাকুক, নির্ভরশীল থাকুক।

ব্যবসায়ীরা এখন টিকে থাকার লড়াই করছেন। অনেকেই ভাবছেন ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। এটাই স্বাভাবিক যখন দেখা যায় সরকার নিজেই জানে না তারা কতদিন টিকবে। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো আস্থা। মানুষ যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা হারায়, তখন তারা বিনিয়োগ বন্ধ করে, খরচ কমিয়ে দেয়, সঞ্চয় করতে শুরু করে। ঠিক এটাই এখন হচ্ছে দেশে।

এলসির এই পরিসংখ্যান আসলে অর্থনীতির একটা থার্মোমিটার। এটা বলে দিচ্ছে অর্থনীতির তাপমাত্রা কমছে, রক্তচাপ পড়ে যাচ্ছে। রোগী মারা যাওয়ার আগে যেমন সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ঠিক সেটাই হচ্ছে। এলসি কমছে, রফতানি কমছে, আমদানি কমছে, বিনিয়োগ নেই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এসবই মৃত অর্থনীতির লক্ষণ।

ইউনুস আর তার দল ভেবেছিল ক্ষমতা দখল করাই সব। কিন্তু ক্ষমতা দখল করা আর দেশ চালানো এক জিনিস নয়। বিশেষ করে যখন সেই ক্ষমতা আসে রক্তের বিনিময়ে, সহিংসতার মধ্য দিয়ে। এখন তারা বুঝতে পারছে দেশ চালানো কত কঠিন। কিন্তু ততদিনে অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। আর এই ধ্বংসের দায় এড়াতে পারবে না ইউনুস, পারবে না তার অবৈধ সরকার, পারবে না যারা তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ