Thursday, January 15, 2026

১৬ বছরে যা হয়নি, ১৭ মাসেই সব ভেঙে পড়লো কিভাবে?

ঢাকার মানুষ এখন রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার করছে। একদিকে পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ নেই, অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যদি বা পাওয়া যায়, তাহলে দ্বিগুণ দামে। স্বাভাবিক যে কোনো মানুষই প্রশ্ন করবে, হঠাৎ করে এই সংকট কেন? গত কয়েক দশকে তো এরকম পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ৪ জানুয়ারি ঘটেছে। তারপর আবার গণভবনের সামনে ভালভ ফেটে গেছে। দুটো ঘটনাই কাকতালীয় বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। তিতাস গ্যাস জানাচ্ছে, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নদীপথে তো আগেও ট্রলার চলাচল করত। তাহলে আগে কখনো এরকম দুর্ঘটনা কেন হয়নি? পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কি হঠাৎ করে অবহেলা শুরু হয়েছে?

ডিউটি কমিয়ে এলপিজি আমদানি সহজ করার পরিবর্তে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও মানুষ কিনতে বাধ্য হচ্ছে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। এই যে মধ্যস্বত্বভোগীরা মুনাফা লুটছে, সেখানে কোনো নজরদারি নেই। বাজার মনিটরিং কোথায়? ভোক্তা অধিকার সংস্থা কী করছে?

যে সরকার নিজেকে সংস্কারের নামে ক্ষমতায় এনেছে, তারা কি মৌলিক নাগরিক সেবাই নিশ্চিত করতে পারছে না? রান্নার গ্যাস ছাড়া একটি পরিবার কীভাবে চলবে? বৈদ্যুতিক চুলা কিনে নেওয়ার সামর্থ্য আছে কতজনের? রাজধানী ঢাকায় টানা ৮-৯ দিন গ্যাস না থাকার ঘটনা গত ১৬ বছরে ঘটেনি।

আমদানিনির্ভর এলপিজির ক্ষেত্রে নীতি কী, সেটাও পরিষ্কার নয়। যেখানে দেশের সংকটময় সময়ে জনগণের কষ্ট লাঘবের কথা ভাবার দরকার, সেখানে মনে হচ্ছে বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের সুবিধা করে দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য। পাইপলাইন গ্যাসের সংকট আর এলপিজির দুষ্প্রাপ্যতা একসাথে ঘটার পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য আছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

গ্যাসের বিলও তো মানুষ নিয়মিত দিয়ে আসছে। সেই বিল দিয়েও যদি সেবা না পায়, তাহলে এই ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা কার কাছে? মানুষকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে বলছি না, কিন্তু সরকারের কাছে প্রশ্ন তো করার অধিকার আছে। যে প্রশাসন নিজেকে জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতিতে হাজির করে, তাদের কাছে এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের।

এটা স্পষ্ট যে, জরুরি সমস্যা সমাধানে এই সরকারের উদাসীনতা প্রকট। একটি দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু পরপর একাধিক ঘটনা এবং সেই সাথে এলপিজির সংকট একসাথে ঘটলে সন্দেহ তৈরি হয় স্বাভাবিকভাবেই। পাইপলাইনে পানি ঢুকে যাওয়ার পর তা পরিষ্কার করতে কয়েক দিন লাগবে বলা হচ্ছে। কিন্তু এই কয়েক দিনে মানুষ কী খাবে? বিকল্প ব্যবস্থা কী?

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে গ্যাস সংকটের সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে অদক্ষতা প্রমাণ করে যে তারা জনসেবায় মনোযোগী নয়। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে প্রতিদিন।

যে সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ, তাদের থাকার নৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ঢাকার লাখো মানুষ এখন নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। যেসব পরিবারে দিনমজুরি করে সংসার চলে, তারা কীভাবে মোকাবেলা করবে এই পরিস্থিতি? রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য তো সবার নেই। এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দরকার জনগণকেই।

ঢাকার মানুষ এখন রান্নার গ্যাসের জন্য হাহাকার করছে। একদিকে পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ নেই, অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। যদি বা পাওয়া যায়, তাহলে দ্বিগুণ দামে। স্বাভাবিক যে কোনো মানুষই প্রশ্ন করবে, হঠাৎ করে এই সংকট কেন? গত কয়েক দশকে তো এরকম পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ৪ জানুয়ারি ঘটেছে। তারপর আবার গণভবনের সামনে ভালভ ফেটে গেছে। দুটো ঘটনাই কাকতালীয় বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। তিতাস গ্যাস জানাচ্ছে, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নদীপথে তো আগেও ট্রলার চলাচল করত। তাহলে আগে কখনো এরকম দুর্ঘটনা কেন হয়নি? পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কি হঠাৎ করে অবহেলা শুরু হয়েছে?

ডিউটি কমিয়ে এলপিজি আমদানি সহজ করার পরিবর্তে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও মানুষ কিনতে বাধ্য হচ্ছে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। এই যে মধ্যস্বত্বভোগীরা মুনাফা লুটছে, সেখানে কোনো নজরদারি নেই। বাজার মনিটরিং কোথায়? ভোক্তা অধিকার সংস্থা কী করছে?

যে সরকার নিজেকে সংস্কারের নামে ক্ষমতায় এনেছে, তারা কি মৌলিক নাগরিক সেবাই নিশ্চিত করতে পারছে না? রান্নার গ্যাস ছাড়া একটি পরিবার কীভাবে চলবে? বৈদ্যুতিক চুলা কিনে নেওয়ার সামর্থ্য আছে কতজনের? রাজধানী ঢাকায় টানা ৮-৯ দিন গ্যাস না থাকার ঘটনা গত ১৬ বছরে ঘটেনি।

আমদানিনির্ভর এলপিজির ক্ষেত্রে নীতি কী, সেটাও পরিষ্কার নয়। যেখানে দেশের সংকটময় সময়ে জনগণের কষ্ট লাঘবের কথা ভাবার দরকার, সেখানে মনে হচ্ছে বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের সুবিধা করে দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য। পাইপলাইন গ্যাসের সংকট আর এলপিজির দুষ্প্রাপ্যতা একসাথে ঘটার পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য আছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

গ্যাসের বিলও তো মানুষ নিয়মিত দিয়ে আসছে। সেই বিল দিয়েও যদি সেবা না পায়, তাহলে এই ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা কার কাছে? মানুষকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে বলছি না, কিন্তু সরকারের কাছে প্রশ্ন তো করার অধিকার আছে। যে প্রশাসন নিজেকে জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতিতে হাজির করে, তাদের কাছে এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের।

এটা স্পষ্ট যে, জরুরি সমস্যা সমাধানে এই সরকারের উদাসীনতা প্রকট। একটি দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু পরপর একাধিক ঘটনা এবং সেই সাথে এলপিজির সংকট একসাথে ঘটলে সন্দেহ তৈরি হয় স্বাভাবিকভাবেই। পাইপলাইনে পানি ঢুকে যাওয়ার পর তা পরিষ্কার করতে কয়েক দিন লাগবে বলা হচ্ছে। কিন্তু এই কয়েক দিনে মানুষ কী খাবে? বিকল্প ব্যবস্থা কী?

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যে গ্যাস সংকটের সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার। গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে অদক্ষতা প্রমাণ করে যে তারা জনসেবায় মনোযোগী নয়। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে প্রতিদিন।

যে সরকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ, তাদের থাকার নৈতিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ঢাকার লাখো মানুষ এখন নিজেদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। যেসব পরিবারে দিনমজুরি করে সংসার চলে, তারা কীভাবে মোকাবেলা করবে এই পরিস্থিতি? রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য তো সবার নেই। এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দরকার জনগণকেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ