অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও আমেরিকার পরিকল্পনায় ক্ষমতায় আসার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দেশবিরোধী দল জামায়াত। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, এরইমধ্যে বিএনপিকে ফাঁদে ফেলেছেন ইউনূস। সেইসঙ্গে ভুয়া জরিপ দেখিয়ে জামায়াতকে জনপ্রিয় দল হিসেবে দেখানোর একটি চক্রান্ত চলছে।
নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্তর্কোন্দল বাড়ছে। এর জেরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি দলটির বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও মব তৈরি করার অভিযোগও রয়েছে। এতে মানুষের কাছে বিএনপির অবস্থান আরও দুর্বল হচ্ছে। ওসমান হাদিসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে এসেছে বিএনপি নেতাদের নাম।
এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। গত কয়েক মাসে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আওয়ামী লীগ আমলের অসংখ্য মামলা, বিশেষ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মতো বড় অভিযোগগুলো থেকে আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছে। আদালত এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করায় তাঁর ওপর থেকে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বোঝা নেমে গেছে।
এছাড়া পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন এবং তাঁর বক্তব্য প্রচারের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের আইনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে সরকার তাঁকে পূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে। বিমানবন্দরে অবতরণের সময় থেকে শুরু করে বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তাকে সরকারের বিশেষ সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাকে একদিনের মধ্যে ভোটারও বানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর মতো নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে মানুষের মধ্যে আরও বিরক্তি দেখা গেছে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে মানুষের কাছে বিএনপিকে আরও দুর্বল করে তোলা হচ্ছে।
এবার বলা যাক জামায়াতের ভুয়া জরিপের কথা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে একটি জরিপ। সাবেক জামায়াত-শিবির কর্মীদের করা এই জরিপে দেখানো হচ্ছে, ভোটারদের ৩৪ শতাংশের মতো বিএনপিকে ভোট দিতে চায়, ৩৩ শতাংশ ভোট দিতে চায় জামায়াতকে।
জরিপে বলা হয়, ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট দিতে চায় জামায়াতকে। জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ১ শতাংশ ভোট দিতে চায়। অন্যান্য দলকে ভোট দিতে চায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার। কাকে ভোট দেবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ১৭ শতাংশ ভোটার। তার মানে জামায়াতের কাছে আছে ৪৪ শতাংশের বেশি ভোট। এমন জরিপে মানুষ ধীরে ধীরে আরও জামায়াতের প্রতি ধাবিত করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
কেন আমেরিকা জামায়াতকে ক্ষমতায় চায়
আমেরিকা জামায়াতকে চায় যাতে তারা জঙ্গিবাদের কথা বলে সহজে বাংলাদেশকে কব্জায় নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে চীন একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ যেন তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (আইপিএস) পক্ষে থাকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তৃত কৌশল, যার লক্ষ্য হচ্ছে পুরো অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা।
ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি নীলনকশার অংশ, যার লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তার। আর জামায়াত আসলে এই কাজটি আমেরিকার জন্য সহজ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডোর, এবং চট্টগ্রাম বন্দর—সব মিলে এই অঞ্চলটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
একাধিক সূত্র ও বিশ্লেষকের মতে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এই ষড়যন্ত্রে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে ব্যবহার করছে আমেরিকা। তাকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

