Thursday, January 15, 2026

এক বছরে মব সহিংসতায় প্রায় ২০০ মৃত্যু, সরকারের দুর্বলতায় বেড়েছে হত্যাকাণ্ড

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস (গণপিটুনি), বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা এবং সমাজে আইনের শাসনের চরম সংকটেরই প্রতিফলন।

ভয়াবহ মব সন্ত্রাস ও বিচারহীনতা আসকের বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৭ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৮ জন, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মব হত্যাকাণ্ডের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার প্রমাণ মেলে বছরের শুরুতেই। গত ৪ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলের সাথে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাঈম কিবরিয়া নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হত্যাকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বেড়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও কাস্টডিয়াল ডেথ মব সন্ত্রাসের পাশাপাশি কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যানও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন, যা পূর্ববর্তী বছরে ছিল ২১ জন। এছাড়া গত বছর দেশের বিভিন্ন কারাগারে চিকিৎসাধীন বা অন্যান্য কারণে মারা গেছেন ১০৭ জন, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যুর এই বিশাল উল্লম্ফন মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতিকে নির্দেশ করে।

পুলিশের অবস্থান ও বাস্তব চিত্র মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করেছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন বলেন, “মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিক বড় জমায়েত তৈরি হলে ব্যাকআপ টিম পৌঁছাতে সময় লাগে।” যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিই সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করছে।

নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন এই পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই, বরং তা প্রতিনিয়ত খারাপের দিকে যাচ্ছে। সামনে নির্বাচন, এই অরাজক পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে সমাজ থেকে এই অস্থিরতা দূর করা সম্ভব নয়। আইনের শাসনের ওপর মানুষের আস্থাহীনতা এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা দেশকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মব সন্ত্রাস (গণপিটুনি), বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা এবং সমাজে আইনের শাসনের চরম সংকটেরই প্রতিফলন।

ভয়াবহ মব সন্ত্রাস ও বিচারহীনতা আসকের বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৭ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১২৮ জন, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মব হত্যাকাণ্ডের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার প্রমাণ মেলে বছরের শুরুতেই। গত ৪ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটরসাইকেলের সাথে প্রাইভেটকারের ধাক্কা লাগার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাঈম কিবরিয়া নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হত্যাকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বেড়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও কাস্টডিয়াল ডেথ মব সন্ত্রাসের পাশাপাশি কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যানও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন অন্তত ৩৮ জন, যা পূর্ববর্তী বছরে ছিল ২১ জন। এছাড়া গত বছর দেশের বিভিন্ন কারাগারে চিকিৎসাধীন বা অন্যান্য কারণে মারা গেছেন ১০৭ জন, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যুর এই বিশাল উল্লম্ফন মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতিকে নির্দেশ করে।

পুলিশের অবস্থান ও বাস্তব চিত্র মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করেছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন বলেন, “মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিক বড় জমায়েত তৈরি হলে ব্যাকআপ টিম পৌঁছাতে সময় লাগে।” যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিই সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করছে।

নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন এই পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই, বরং তা প্রতিনিয়ত খারাপের দিকে যাচ্ছে। সামনে নির্বাচন, এই অরাজক পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ আরও ভয়াবহ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে সমাজ থেকে এই অস্থিরতা দূর করা সম্ভব নয়। আইনের শাসনের ওপর মানুষের আস্থাহীনতা এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা দেশকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ