Thursday, January 15, 2026

হাদী: ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলা এক জীবন

হাদীকে মেরে ফেলা হয়েছে। কে মেরেছে, কেন মেরেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট রাখা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড থেকে কারা লাভবান হয়েছে, সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। জামায়াতে ইসলামী আর তাদের মদদপুষ্ট কিংস পার্টি এনসিপি পেয়েছে নতুন রাজনৈতিক পুঁজি। ইউনুসের অবৈধ সরকার পেয়েছে জনরোষ ঘোরানোর সুযোগ। আর হাদীর সন্তান হারিয়েছে বাবা ডাকার মানুষটিকে, চিরকালের জন্য।

জুলাই মাসে যে দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান ছিল না। বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের মাঠপর্যায়ের কর্মী আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন মিলিয়ে পরিকল্পিত অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল। নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে হটানো হয়েছিল, ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল সুদী মহাজন ইউনুসকে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মদদে পরিচালিত একটি প্রতিবিপ্লব। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সেখানে ছিল অনুপস্থিত। যা ছিল তা হলো পুঁজিপতি শ্রেণির এক অংশের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে অন্য অংশের হাতে তুলে দেওয়া।

হাদীকে তৈরি করা হয়েছিল বীর হিসেবে, শহীদ হিসেবে। কিন্তু সত্যি বলতে, হাদী কোনোটাই নন। তিনি একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন যিনি পড়ে গিয়েছিলেন ক্ষমতার খেলায়। রাষ্ট্রযন্ত্র তাকে ব্যবহার করেছে নিজেদের বয়ান তৈরি করতে, জনমত ঘোরাতে। হাদীর মৃত্যু দিয়ে ঢাকা দেওয়া হয়েছে আসল প্রশ্নগুলো। কোটা সংস্কারের নামে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে কীভাবে পৌঁছানো গেল সশস্ত্র সংঘাতে? কারা পরিকল্পনা করেছিল এই রক্তপাত? কোন স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল এই হত্যাযজ্ঞ?

ইউনুস সরকার এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। দেবেও না। কারণ উত্তর দিলে বেরিয়ে আসবে তাদের নিজেদের ভূমিকা। বেরিয়ে আসবে জামায়াত আর সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে তাদের আঁতাত। বেরিয়ে আসবে বিদেশি প্রভুদের নির্দেশনা। তাই হাদীকে বানানো হয়েছে প্রতীক, যার পেছনে লুকিয়ে রাখা যায় আসল চেহারা।

এখন হাদীর পরিবারকে দেওয়া হবে কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা। রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ, হয়তো চাকরি, হয়তো কিছু টাকা। কিন্তু এসব দিয়ে কি ফিরে আসবে হাদীর সন্তানের বাবা? ফিরে আসবে একটা পরিবারের স্বাভাবিক জীবন? না, আসবে না। হাদীর সন্তান বড় হবে একটা মিথ্যা বয়ানের ভেতরে, জানবে তার বাবা বীর শহীদ, কিন্তু জানবে না আসলে কী হয়েছিল, কেন হয়েছিল, কারা দায়ী ছিল।

ইউনুস সরকার টিকে আছে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের আশীর্বাদে। এনজিও পুঁজি দিয়ে দেশের শ্রমজীবী মানুষকে ঋণের জালে আটকে রেখে যে মানুষটি বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, তিনি এখন দেশ চালাচ্ছেন। কোনো নির্বাচন নেই, কোনো জনগণের ম্যান্ডেট নেই। আছে শুধু বন্দুকের জোর আর বিদেশি প্রভুদের সমর্থন। এই সরকার শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের সরকার নয়। এটা পুঁজিপতি আর সাম্রাজ্যবাদীদের সরকার।

হাদীর মৃত্যু দিয়ে এই সরকার তৈরি করেছে একটা আবেগের আখ্যান, যা দিয়ে চাপা দেওয়া হচ্ছে শ্রেণি সংগ্রামের আসল প্রশ্নগুলো। মজুরি বৃদ্ধির দাবি, শ্রমিক অধিকার, কৃষকদের ন্যায্য দাম, এসব প্রশ্ন এখন অদৃশ্য। সামনে এসেছে পরিচয়ের রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, জাতীয়তাবাদী আবেগ। এগুলো সবই বুর্জোয়া রাজনীতির হাতিয়ার, যা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা হয় আসল শত্রু কে।

হাদীর পরিবার হয়তো পাবে কিছু টাকা। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ যারা প্রতিদিন শোষিত হচ্ছে, যারা পাচ্ছে না ন্যায্য মজুরি, যারা বাঁচতে পারছে না মর্যাদা নিয়ে, তাদের কী হবে? তাদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। তাদের মৃত্যু হয় নীরবে, কোনো শিরোনাম ছাড়াই।

হাদী ব্যবহৃত হয়েছেন। ব্যবহার শেষে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এখন তার নাম ব্যবহার করা হবে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে, বিরোধীদের দমাতে, জনগণকে বিভক্ত করতে। ইউনুস সরকার জানে, মৃত মানুষের কোনো কণ্ঠস্বর নেই। তাই তারা নির্ধারণ করে দেবে হাদী কী বলতে চেয়েছিলেন, কী স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই বয়ান দিয়েই ন্যায্যতা দেওয়া হবে তাদের অবৈধ শাসনের।

এটাই শ্রেণি রাজনীতির নগ্ন রূপ। শাসক শ্রেণি সবসময় খুঁজে নেয় বলির পাঁঠা, তৈরি করে নেয় প্রতীক, নির্মাণ করে মিথ্যা আখ্যান। আর এসবের ভেতর দিয়ে টিকিয়ে রাখে নিজেদের শোষণের ব্যবস্থা। হাদীর মৃত্যু সেই একই পুরনো গল্পের নতুন সংস্করণ মাত্র। কিছু জীবন অপচয় হয় কোনো কারণ ছাড়াই, এই কথাটা ঠিক নয়। হাদীর জীবন অপচয় হয়েছে একটা নির্দিষ্ট কারণেই, সেটা হলো শাসক শ্রেণির ক্ষমতা রক্ষা। এই সত্যটা যতদিন স্বীকার করা না হবে, ততদিন হাদীর মতো আরও অনেকে মারা যাবে, ব্যবহৃত হবে, ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে।

হাদীকে মেরে ফেলা হয়েছে। কে মেরেছে, কেন মেরেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট রাখা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ড থেকে কারা লাভবান হয়েছে, সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। জামায়াতে ইসলামী আর তাদের মদদপুষ্ট কিংস পার্টি এনসিপি পেয়েছে নতুন রাজনৈতিক পুঁজি। ইউনুসের অবৈধ সরকার পেয়েছে জনরোষ ঘোরানোর সুযোগ। আর হাদীর সন্তান হারিয়েছে বাবা ডাকার মানুষটিকে, চিরকালের জন্য।

জুলাই মাসে যে দাঙ্গা বাধানো হয়েছিল, সেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান ছিল না। বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের মাঠপর্যায়ের কর্মী আর সামরিক বাহিনীর একাংশের সমর্থন মিলিয়ে পরিকল্পিত অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল। নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে হটানো হয়েছিল, ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল সুদী মহাজন ইউনুসকে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মদদে পরিচালিত একটি প্রতিবিপ্লব। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সেখানে ছিল অনুপস্থিত। যা ছিল তা হলো পুঁজিপতি শ্রেণির এক অংশের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে অন্য অংশের হাতে তুলে দেওয়া।

হাদীকে তৈরি করা হয়েছিল বীর হিসেবে, শহীদ হিসেবে। কিন্তু সত্যি বলতে, হাদী কোনোটাই নন। তিনি একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন যিনি পড়ে গিয়েছিলেন ক্ষমতার খেলায়। রাষ্ট্রযন্ত্র তাকে ব্যবহার করেছে নিজেদের বয়ান তৈরি করতে, জনমত ঘোরাতে। হাদীর মৃত্যু দিয়ে ঢাকা দেওয়া হয়েছে আসল প্রশ্নগুলো। কোটা সংস্কারের নামে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেখান থেকে কীভাবে পৌঁছানো গেল সশস্ত্র সংঘাতে? কারা পরিকল্পনা করেছিল এই রক্তপাত? কোন স্বার্থ হাসিল করতে চেয়েছিল এই হত্যাযজ্ঞ?

ইউনুস সরকার এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। দেবেও না। কারণ উত্তর দিলে বেরিয়ে আসবে তাদের নিজেদের ভূমিকা। বেরিয়ে আসবে জামায়াত আর সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে তাদের আঁতাত। বেরিয়ে আসবে বিদেশি প্রভুদের নির্দেশনা। তাই হাদীকে বানানো হয়েছে প্রতীক, যার পেছনে লুকিয়ে রাখা যায় আসল চেহারা।

এখন হাদীর পরিবারকে দেওয়া হবে কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা। রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ, হয়তো চাকরি, হয়তো কিছু টাকা। কিন্তু এসব দিয়ে কি ফিরে আসবে হাদীর সন্তানের বাবা? ফিরে আসবে একটা পরিবারের স্বাভাবিক জীবন? না, আসবে না। হাদীর সন্তান বড় হবে একটা মিথ্যা বয়ানের ভেতরে, জানবে তার বাবা বীর শহীদ, কিন্তু জানবে না আসলে কী হয়েছিল, কেন হয়েছিল, কারা দায়ী ছিল।

ইউনুস সরকার টিকে আছে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের আশীর্বাদে। এনজিও পুঁজি দিয়ে দেশের শ্রমজীবী মানুষকে ঋণের জালে আটকে রেখে যে মানুষটি বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, তিনি এখন দেশ চালাচ্ছেন। কোনো নির্বাচন নেই, কোনো জনগণের ম্যান্ডেট নেই। আছে শুধু বন্দুকের জোর আর বিদেশি প্রভুদের সমর্থন। এই সরকার শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের সরকার নয়। এটা পুঁজিপতি আর সাম্রাজ্যবাদীদের সরকার।

হাদীর মৃত্যু দিয়ে এই সরকার তৈরি করেছে একটা আবেগের আখ্যান, যা দিয়ে চাপা দেওয়া হচ্ছে শ্রেণি সংগ্রামের আসল প্রশ্নগুলো। মজুরি বৃদ্ধির দাবি, শ্রমিক অধিকার, কৃষকদের ন্যায্য দাম, এসব প্রশ্ন এখন অদৃশ্য। সামনে এসেছে পরিচয়ের রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন, জাতীয়তাবাদী আবেগ। এগুলো সবই বুর্জোয়া রাজনীতির হাতিয়ার, যা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা হয় আসল শত্রু কে।

হাদীর পরিবার হয়তো পাবে কিছু টাকা। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ যারা প্রতিদিন শোষিত হচ্ছে, যারা পাচ্ছে না ন্যায্য মজুরি, যারা বাঁচতে পারছে না মর্যাদা নিয়ে, তাদের কী হবে? তাদের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ নেই, কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। তাদের মৃত্যু হয় নীরবে, কোনো শিরোনাম ছাড়াই।

হাদী ব্যবহৃত হয়েছেন। ব্যবহার শেষে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এখন তার নাম ব্যবহার করা হবে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে, বিরোধীদের দমাতে, জনগণকে বিভক্ত করতে। ইউনুস সরকার জানে, মৃত মানুষের কোনো কণ্ঠস্বর নেই। তাই তারা নির্ধারণ করে দেবে হাদী কী বলতে চেয়েছিলেন, কী স্বপ্ন দেখতেন। আর সেই বয়ান দিয়েই ন্যায্যতা দেওয়া হবে তাদের অবৈধ শাসনের।

এটাই শ্রেণি রাজনীতির নগ্ন রূপ। শাসক শ্রেণি সবসময় খুঁজে নেয় বলির পাঁঠা, তৈরি করে নেয় প্রতীক, নির্মাণ করে মিথ্যা আখ্যান। আর এসবের ভেতর দিয়ে টিকিয়ে রাখে নিজেদের শোষণের ব্যবস্থা। হাদীর মৃত্যু সেই একই পুরনো গল্পের নতুন সংস্করণ মাত্র। কিছু জীবন অপচয় হয় কোনো কারণ ছাড়াই, এই কথাটা ঠিক নয়। হাদীর জীবন অপচয় হয়েছে একটা নির্দিষ্ট কারণেই, সেটা হলো শাসক শ্রেণির ক্ষমতা রক্ষা। এই সত্যটা যতদিন স্বীকার করা না হবে, ততদিন হাদীর মতো আরও অনেকে মারা যাবে, ব্যবহৃত হবে, ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ