গত বছর জুলাই মাসে দেশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা ঘটে। একটি সাধারণ পক্ষ কোটার দাবিতে আন্দোলন চালায়, অন্যটি মূল পক্ষ ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এই সংঘর্ষের সময় দেশের কিছু মানুষ নিহত হয়েছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে সম্পদ ধ্বংস ও লুটপাট হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা দখলের সঙ্গে যুক্ত এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে থাকা ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে ইউনুস সরকার একটি নতুন আইন প্রবর্তন করেছে, যা সমালোচকদের মতে “কালো আইন” হিসেবে পরিচিত।
এই আইন কার্যত বিচার প্রক্রিয়াকে সীমিত করছে এবং সাধারণ মানুষ ও নিহতদের পরিবারদের ন্যায়বিচারের অধিকার বিপন্ন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন আইন কোনো সভ্য দেশে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের জনগণ প্রশ্ন তুলছে, শত শত হত্যাকাণ্ড, থানায় লুটপাট, পুলিশ হত্যা এবং দেশের সম্পদ ধ্বংসের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কি সত্যিই আইনের আড়ালে রক্ষা পাবে? যদি হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার কোথায় পাবেন?
ইতিহাস দেখায়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জন্য প্রবর্তিত ইনডেমনিটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খুনিরা ফাঁসির দণ্ড ভোগ করেছে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে অন্যায় আইনের আড়ালে ঢাকলেও, ন্যায়বিচার একদিন অবশ্যই আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকার ও আইনপ্রণেতাদের দায়িত্ব হলো সন্ত্রাস ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়া। ন্যায়বিচার না দিলে দেশের আইন ও শাসনের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।

