Thursday, January 15, 2026

বিদেশি মদদে ক্ষমতা, দেশীয় রক্তে রাজত্ব

গত বছর পৌনে চার হাজার হত্যা মামলা। প্রতিদিন গড়ে বাহাত্তরটি অপরাধমূলক ঘটনা। রাজনৈতিক সহিংসতায় একশো তেত্রিশজনের মৃত্যু। মব জাস্টিসে একশো আটষট্টি জন পিটিয়ে মারা গেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা তিনশো আঠারোটি। এই হলো ইউনূসের তথাকথিত ‘সংস্কার সরকারের’ অধীনে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সেখানে আজ আইন বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।

জুলাই মাসের দাঙ্গা আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে যখন একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো, তখন অনেকেই ভেবেছিল হয়তো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু কী পরিবর্তন এলো? একটি নির্বাচিত সরকারের জায়গায় বসলো এমন এক দল মানুষ, যাদের না আছে জনগণের ম্যান্ডেট, না আছে দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা। তাদের আছে শুধু বিদেশি প্রভুদের আশীর্বাদ আর ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের নীরব সমর্থন।

ইউনূস নিজে একজন সুদখোর ব্যবসায়ী। ক্ষুদ্রঋণের নামে গরিব মানুষের কাছ থেকে চড়া সুদ আদায় করেই যার ব্যবসা। নোবেল পুরস্কার পেলেই কি কেউ যোগ্য প্রশাসক হয়ে যায়? দেশ চালানো কি মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান চালানোর মতো? তিনি আর তার দল যে দায়িত্ব নিয়েছিল, তা পালনে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। শুধু ব্যর্থ নয়, বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

যে জুলাইয়ের দাঙ্গার কথা বলা হচ্ছে, সেখানেও বিদেশি অর্থায়নের গন্ধ পাওয়া গেছে। কাদের স্বার্থে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলো, এটা এখন আর রহস্য নয়। পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ একটি ভূরাজনৈতিক দাবার ঘর। তারা চায় এমন একটি সরকার যেটা তাদের স্বার্থের প্রতি অনুগত থাকবে। আর এই কাজে তাদের সহযোগী হিসেবে পাওয়া গেছে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলোকে, যারা সবসময়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরোধী।

সেনাবাহিনীর ভূমিকাও এখানে প্রশ্নবিদ্ধ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সামরিক বাহিনীর কাজ হলো সীমান্ত রক্ষা করা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা তাদের কাজ নয়। অথচ ইতিহাস বলে, বাংলাদেশে যখনই সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে নাক গলিয়েছে, তখনই দেশ পিছিয়ে গেছে। গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের অধিকার খর্ব হয়েছে।

এখন দেশের পরিস্থিতি দেখুন। পুলিশ বলছে আইনশৃঙ্খলা ভালো আছে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। মানুষ প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। থানায় জিডি করেও প্রাণ রক্ষা করতে পারছে না মানুষ। অপরাধীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না কারণ তাদের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো যে তথ্য দিচ্ছে, তা আরও ভয়াবহ। রাজনৈতিক সহিংসতায় সাত হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। মব জাস্টিসের নামে মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা চলছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে যাতে সত্য প্রকাশিত না হয়। এই কি সেই সংস্কার যার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল?

ইউনূস আর তার দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ পরায়ণতা বেড়েছে। যারা আগের সরকারের সাথে ছিল, তাদের ওপর চলছে নির্যাতন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিএনপির মধ্যেও কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি চলছে। জামায়াত আর ইসলামী জঙ্গিরা মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। পুরো দেশটাই যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

যশোরে ব্যবসায়ীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করা হচ্ছে। নরসিংদীতে মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। আর এসবের কোনো জবাবদিহিতা নেই। হত্যাকারীরা ধরা পড়ছে না। কারণ তারা জানে, তাদের পিছনে শক্তি আছে। তারা জানে, এই অবৈধ সরকারের আমলে তাদের কিছু হবে না।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ভয়াবহ। বেকারত্ব বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। কারখানায় দুর্ঘটনায় শ্রমিক মারা যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা ব্যস্ত নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে। নির্বাচনের নামে প্রহসন করার প্রস্তুতি নিতে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কিন্তু কোথায় সেই চেষ্টার ফল? প্রতিদিন খুনখারাবি হচ্ছে, মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, আর তিনি বলছেন চেষ্টা চলছে। এই হলো দায়িত্বশীলতা? এই হলো জবাবদিহিতা?

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, এই সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তারা জনগণের ভোটে আসেনি। তারা এসেছে ষড়যন্ত্র আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে। একটি নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজে সহায়তা করেছে বিদেশি শক্তি, ইসলামী উগ্রবাদী আর সামরিক বাহিনী। এটা কোনো গণঅভ্যুত্থান ছিল না, এটা ছিল পরিকল্পিত ক্যু।

গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়। গণতন্ত্র মানে আইনের শাসন, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু এই সরকারের আমলে কোনোটাই অবশিষ্ট নেই। যে দেশে প্রতিদিন খুন হচ্ছে মানুষ, যেখানে নারী আর শিশুরা নিরাপদ নয়, যেখানে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশ হতে পারে না। এটা হলো একটা পুলিশি রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতাসীনদের মুখের ওপর প্রশ্ন করার সাহস কারো নেই।

ইউনূস আর তার দল জানে যে তাদের কোনো জনসমর্থন নেই। তাই তারা ভয়ে আছে। আর সেই ভয় ঢাকতে তারা ব্যবহার করছে দমন-পীড়ন। বিরোধী মত স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যারা প্রশ্ন তুলছে, তাদের ওপর নেমে আসছে নির্যাতন। এটাই স্বৈরাচারের লক্ষণ।

দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কারের নামে যা হয়েছে, তা আসলে ক্ষমতা দখল। গণতন্ত্রের নামে যা করা হয়েছে, তা আসলে অভ্যুত্থান। আর জনগণের কল্যাণের নামে যা চলছে, তা আসলে লুটপাট আর অরাজকতা।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সামরিক শাসন কখনো দেশের মঙ্গল করেনি। পরোক্ষ সামরিক শাসনও একই রকম ক্ষতিকর। আর যখন সেই শাসনের পেছনে থাকে বিদেশি স্বার্থ, ইসলামী জঙ্গিবাদ আর একজন সুদখোর ব্যবসায়ী, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়।

দেশে এখন যা প্রয়োজন তা হলো প্রকৃত গণতন্ত্র, বৈধ সরকার, আইনের শাসন। কিন্তু ইউনূস সরকারের কাছ থেকে এসব আশা করা বৃথা। তারা নিজেরাই অবৈধ, তারা কীভাবে বৈধতা প্রতিষ্ঠা করবে? তারা নিজেরাই ক্যুর মাধ্যমে এসেছে, তারা কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে?

বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদিন মূল্য দিচ্ছে এই অবৈধ সরকারের জন্য। রক্তে লাল হচ্ছে দেশের মাটি। আর ইউনূস বসে আছেন তার আরামের চেয়ারে, বিদেশি প্রভুদের খুশি করার পরিকল্পনা করছেন। এই হলো বাস্তবতা। এই হলো আজকের বাংলাদেশ।

গত বছর পৌনে চার হাজার হত্যা মামলা। প্রতিদিন গড়ে বাহাত্তরটি অপরাধমূলক ঘটনা। রাজনৈতিক সহিংসতায় একশো তেত্রিশজনের মৃত্যু। মব জাস্টিসে একশো আটষট্টি জন পিটিয়ে মারা গেছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা তিনশো আঠারোটি। এই হলো ইউনূসের তথাকথিত ‘সংস্কার সরকারের’ অধীনে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সেখানে আজ আইন বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।

জুলাই মাসের দাঙ্গা আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে যখন একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো, তখন অনেকেই ভেবেছিল হয়তো পরিবর্তন আসবে। কিন্তু কী পরিবর্তন এলো? একটি নির্বাচিত সরকারের জায়গায় বসলো এমন এক দল মানুষ, যাদের না আছে জনগণের ম্যান্ডেট, না আছে দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা। তাদের আছে শুধু বিদেশি প্রভুদের আশীর্বাদ আর ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের নীরব সমর্থন।

ইউনূস নিজে একজন সুদখোর ব্যবসায়ী। ক্ষুদ্রঋণের নামে গরিব মানুষের কাছ থেকে চড়া সুদ আদায় করেই যার ব্যবসা। নোবেল পুরস্কার পেলেই কি কেউ যোগ্য প্রশাসক হয়ে যায়? দেশ চালানো কি মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান চালানোর মতো? তিনি আর তার দল যে দায়িত্ব নিয়েছিল, তা পালনে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। শুধু ব্যর্থ নয়, বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

যে জুলাইয়ের দাঙ্গার কথা বলা হচ্ছে, সেখানেও বিদেশি অর্থায়নের গন্ধ পাওয়া গেছে। কাদের স্বার্থে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলো, এটা এখন আর রহস্য নয়। পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ একটি ভূরাজনৈতিক দাবার ঘর। তারা চায় এমন একটি সরকার যেটা তাদের স্বার্থের প্রতি অনুগত থাকবে। আর এই কাজে তাদের সহযোগী হিসেবে পাওয়া গেছে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলোকে, যারা সবসময়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরোধী।

সেনাবাহিনীর ভূমিকাও এখানে প্রশ্নবিদ্ধ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সামরিক বাহিনীর কাজ হলো সীমান্ত রক্ষা করা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা তাদের কাজ নয়। অথচ ইতিহাস বলে, বাংলাদেশে যখনই সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে নাক গলিয়েছে, তখনই দেশ পিছিয়ে গেছে। গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের অধিকার খর্ব হয়েছে।

এখন দেশের পরিস্থিতি দেখুন। পুলিশ বলছে আইনশৃঙ্খলা ভালো আছে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। মানুষ প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। থানায় জিডি করেও প্রাণ রক্ষা করতে পারছে না মানুষ। অপরাধীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না কারণ তাদের পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক ছত্রছায়া।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো যে তথ্য দিচ্ছে, তা আরও ভয়াবহ। রাজনৈতিক সহিংসতায় সাত হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। মব জাস্টিসের নামে মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু, বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা চলছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে যাতে সত্য প্রকাশিত না হয়। এই কি সেই সংস্কার যার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল?

ইউনূস আর তার দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ পরায়ণতা বেড়েছে। যারা আগের সরকারের সাথে ছিল, তাদের ওপর চলছে নির্যাতন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বিএনপির মধ্যেও কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি চলছে। জামায়াত আর ইসলামী জঙ্গিরা মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। পুরো দেশটাই যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

যশোরে ব্যবসায়ীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করা হচ্ছে। নরসিংদীতে মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। আর এসবের কোনো জবাবদিহিতা নেই। হত্যাকারীরা ধরা পড়ছে না। কারণ তারা জানে, তাদের পিছনে শক্তি আছে। তারা জানে, এই অবৈধ সরকারের আমলে তাদের কিছু হবে না।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ভয়াবহ। বেকারত্ব বেড়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। কারখানায় দুর্ঘটনায় শ্রমিক মারা যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা ব্যস্ত নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে। নির্বাচনের নামে প্রহসন করার প্রস্তুতি নিতে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কিন্তু কোথায় সেই চেষ্টার ফল? প্রতিদিন খুনখারাবি হচ্ছে, মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, আর তিনি বলছেন চেষ্টা চলছে। এই হলো দায়িত্বশীলতা? এই হলো জবাবদিহিতা?

সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় হলো, এই সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তারা জনগণের ভোটে আসেনি। তারা এসেছে ষড়যন্ত্র আর রক্তপাতের মধ্য দিয়ে। একটি নির্বাচিত সরকারকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজে সহায়তা করেছে বিদেশি শক্তি, ইসলামী উগ্রবাদী আর সামরিক বাহিনী। এটা কোনো গণঅভ্যুত্থান ছিল না, এটা ছিল পরিকল্পিত ক্যু।

গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়। গণতন্ত্র মানে আইনের শাসন, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা। কিন্তু এই সরকারের আমলে কোনোটাই অবশিষ্ট নেই। যে দেশে প্রতিদিন খুন হচ্ছে মানুষ, যেখানে নারী আর শিশুরা নিরাপদ নয়, যেখানে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশ হতে পারে না। এটা হলো একটা পুলিশি রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতাসীনদের মুখের ওপর প্রশ্ন করার সাহস কারো নেই।

ইউনূস আর তার দল জানে যে তাদের কোনো জনসমর্থন নেই। তাই তারা ভয়ে আছে। আর সেই ভয় ঢাকতে তারা ব্যবহার করছে দমন-পীড়ন। বিরোধী মত স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যারা প্রশ্ন তুলছে, তাদের ওপর নেমে আসছে নির্যাতন। এটাই স্বৈরাচারের লক্ষণ।

দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কারের নামে যা হয়েছে, তা আসলে ক্ষমতা দখল। গণতন্ত্রের নামে যা করা হয়েছে, তা আসলে অভ্যুত্থান। আর জনগণের কল্যাণের নামে যা চলছে, তা আসলে লুটপাট আর অরাজকতা।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সামরিক শাসন কখনো দেশের মঙ্গল করেনি। পরোক্ষ সামরিক শাসনও একই রকম ক্ষতিকর। আর যখন সেই শাসনের পেছনে থাকে বিদেশি স্বার্থ, ইসলামী জঙ্গিবাদ আর একজন সুদখোর ব্যবসায়ী, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়।

দেশে এখন যা প্রয়োজন তা হলো প্রকৃত গণতন্ত্র, বৈধ সরকার, আইনের শাসন। কিন্তু ইউনূস সরকারের কাছ থেকে এসব আশা করা বৃথা। তারা নিজেরাই অবৈধ, তারা কীভাবে বৈধতা প্রতিষ্ঠা করবে? তারা নিজেরাই ক্যুর মাধ্যমে এসেছে, তারা কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে?

বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদিন মূল্য দিচ্ছে এই অবৈধ সরকারের জন্য। রক্তে লাল হচ্ছে দেশের মাটি। আর ইউনূস বসে আছেন তার আরামের চেয়ারে, বিদেশি প্রভুদের খুশি করার পরিকল্পনা করছেন। এই হলো বাস্তবতা। এই হলো আজকের বাংলাদেশ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ