Thursday, January 15, 2026

শিক্ষার্থীদের রক্তে ভাসিয়ে ইউনুসের সিংহাসন: একটি পরিকল্পিত গণহত্যার ময়নাতদন্ত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলী দিয়ে দেশের ইতিহাসে যে কালো অধ্যায় যুক্ত হলো, তার আসল রূপ এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের একটি ন্যায্য আন্দোলনকে ব্যবহার করে যেভাবে সুপরিকল্পিতভাবে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল, সাধারণ মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল – তার পেছনের কলকাঠি এখন আর গোপন নেই। আর এই পুরো নাটকের শেষ পর্দায় এসে দেখা যাচ্ছে, মূল লাভবান হয়েছেন মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার দোসররা, যারা একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে নিজেদের অবৈধ শাসন কায়েম করেছেন।

শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের দাবি ছিল যৌক্তিক, তাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই আন্দোলনে ঢুকে পড়ল স্নাইপার, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নজিরবিহীন সহিংসতা। পুলিশ সদস্যদের একের পর এক হত্যা করা হলো, আর তার দায় চাপানো হলো সরকারের ঘাড়ে। কে ছিল এই সহিংসতার নেপথ্যে? গোয়েন্দা সূত্র এখন যা বলছে, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে এটা ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার সুতো ধরে একদিকে পাওয়া যাচ্ছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সংযোগ, অন্যদিকে জামায়াতের মতো ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা, আর মাঝখানে রয়েছে কিছু বিপথগামী অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার নেটওয়ার্ক।

কর্নেল আব্দুল হকের নাম এখন বারবার উঠে আসছে। রাওয়া ক্লাবকে কেন্দ্র করে যে গোপন বৈঠক হয়েছিল, যেখানে পরিকল্পনা করা হয়েছিল কীভাবে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে রক্তাক্ত করে তোলা যায়, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করে সরকারকে দুর্বল করা যায় – সেই পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে তার নাম আসছে। আর এই পুরো অপারেশনে জড়িত ছিলেন প্রায় পঞ্চাশজন অবসরপ্রাপ্ত এবং বহিষ্কৃত সামরিক কর্মকর্তা। যারা দেশের সেবা করার শপথ নিয়েছিলেন, তারাই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন – এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?

আর সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই পুরো ষড়যন্ত্রের শেষ লাভবান কে? মুহাম্মদ ইউনুস। একজন মানুষ যিনি সুদী মহাজনি ব্যবসা দিয়ে গরিব মানুষের রক্ত শোষণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন, তিনি হঠাৎ করেই হয়ে গেলেন দেশের ‘প্রধান উপদেষ্টা’। কোনো নির্বাচন নেই, কোনো জনগণের ভোট নেই, কোনো সাংবিধানিক বৈধতা নেই। শুধুমাত্র একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ আর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এই লোককে। এটাকে কী বলবেন? এটা তো পরিষ্কার ক্যু, পরিষ্কার ষড়যন্ত্র, পরিষ্কার অবৈধ ক্ষমতা দখল।

ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মডেল হলো সুদের নামে গরিব মানুষকে শোষণের এক অত্যাধুনিক পদ্ধতি। ক্ষুদ্রঋণের নামে যে সুদের বোঝা চাপানো হয়, তাতে একজন গরিব মানুষ সারাজীবনেও সেই ঋণ শোধ করে উঠতে পারে না। আর এই শোষণের মাধ্যমে যে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তার মালিক হলেন ইউনুস নিজে। নোবেল পুরস্কার পেয়ে তিনি হয়ে গেছেন ‘দরিদ্রের ত্রাণকর্তা’, কিন্তু বাস্তবে তিনি গরিবের রক্ত চুষে বড় হওয়া একজন মহাজন ছাড়া আর কিছু নন।

এই মানুষটাই এখন দেশের প্রধান উপদেষ্টা। আর তার সরকার কী করছে? যে শিক্ষার্থীদের নামে এই পুরো নাটক সাজানো হয়েছিল, তাদের কি আসলেই কিছু দেওয়া হয়েছে? কোটা সংস্কার হয়েছে কি? শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে কি? বরং যা দেখা যাচ্ছে তা হলো, দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে গেছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়েছে, আর জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। ইউনুস এবং তার তথাকথিত সরকার এখন ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে, বিরোধী মতকে দমন করতে, আর নিজেদের অবৈধ শাসনকে বৈধতা দিতে।

জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এখানে একেবারে কেন্দ্রীয়। এই সংগঠন যে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, সেটা তো ইতিহাসের অংশ। কিন্তু এরা থেমে থাকেনি। প্রতিটি সুযোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে গেছে। আর এবারও তাদের সেই পুরনো খেলা। কর্নেল হক যে জামায়াতের একজন প্রভাবশালী নেতা, সেটা এখন আর গোপন নেই। আর তিনি এখন ঢাকা-২ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। পুলিশ হত্যার পরিকল্পনাকারী একজন মানুষ এখন সংসদ সদস্য হতে চাইছেন, এর চেয়ে হাস্যকর আর কী হতে পারে?

জামায়াত এবং তাদের দোসররা সবসময় মুখোশের আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। কখনো ইসলামের নাম ভাঙিয়ে, কখনো গণতন্ত্রের কথা বলে, কখনো শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বলে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু তাদের আসল চেহারা হলো হিংসা, সন্ত্রাস আর ক্ষমতার লোভ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা তার আরেকটি জলন্ত প্রমাণ।

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সংযোগের কথা যখন শোনা যাচ্ছে, তখন বিষয়টা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পাকিস্তান ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা চায় না বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, সমৃদ্ধ হোক। আর তাই তারা এদেশের ভেতরে তাদের দালালদের মাধ্যমে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এবারের ঘটনায় তাদের সরাসরি সংযোগের যে তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি।

আর বিদেশি অর্থায়নের কথা? ইউনুসের আন্তর্জাতিক সংযোগ তো সবারই জানা। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। এই ষড়যন্ত্রে বিদেশি অর্থ এসেছে কিনা, সেটা এখন তদন্তের বিষয়। কিন্তু যেভাবে পরিকল্পিতভাবে পুরো অপারেশন চালানো হয়েছে, তাতে বড় ধরনের অর্থায়ন ছিল সেটা নিশ্চিত। আর সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কার স্বার্থে এই ষড়যন্ত্র হয়েছে, সেটা খুঁজে বের করা জরুরি।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, যে শিক্ষার্থীরা সত্যিকারের পরিবর্তন চেয়েছিল, তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের আন্দোলনকে হাইজ্যাক করা হয়েছে। তাদের স্বপ্নকে বলি দেওয়া হয়েছে কিছু ক্ষমতালোভী মানুষের স্বার্থে। আর এখন যারা ক্ষমতায় আছে, তারা তো সেই শিক্ষার্থীদের কোনো ভাবনাই করছে না। বরং তাদের নামে যে রক্তপাত হয়েছে, সেটাকে পুঁজি করে নিজেদের অবৈধ শাসন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক দুর্বলতা ছিল, অনেক ভুল ছিল, সেটা সত্য। কিন্তু তারা একটি নির্বাচিত সরকার ছিল। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তাদের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, তাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকারও আছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা হলো গণতন্ত্রের মৃত্যু, সংবিধানের লঙ্ঘন, আর জনগণের ইচ্ছার অবমাননা।

ইউনুস এবং তার তথাকথিত সরকার এখন যা করছে, তা হলো একটা প্রহসন। তাদের কোনো বৈধতা নেই, কোনো জনসমর্থন নেই, আছে শুধু ষড়যন্ত্র আর বিদেশি প্রভুদের আশীর্বাদ। এই সরকার দেশের কোনো উপকার করবে না, করতেও পারবে না। কারণ তারা এসেছে রক্তের বিনিময়ে, এসেছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, এসেছে দেশের স্বার্থের বিপরীতে।

যে পুলিশ সদস্যরা জুলাই-আগস্টে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার এখন কোথায়? তাদের ন্যায়বিচার কে করবে? যে সাধারণ মানুষগুলো নিরপরাধভাবে মারা গেছে, তাদের হত্যাকারীদের কি বিচার হবে? নাকি ইউনুসের সরকার সেই হত্যাকারীদেরই পুরস্কৃত করবে? প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে, আর উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

দেশের ইতিহাসে এই অধ্যায়টি কালো অক্ষরে লেখা থাকবে। একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থান, আর একটি অবৈধ ক্ষমতা দখল। ইউনুস এবং তার দোসররা ইতিহাসে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেই পরিচিত হবে। কারণ সত্য একদিন না একদিন বের হয়েই আসে। জুলাইর রক্তের দাগ তারা যত চেষ্টা করুক না কেন, মুছতে পারবে না। আর সেই রক্তের হিসাব একদিন তাদের দিতেই হবে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলী দিয়ে দেশের ইতিহাসে যে কালো অধ্যায় যুক্ত হলো, তার আসল রূপ এখন ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের একটি ন্যায্য আন্দোলনকে ব্যবহার করে যেভাবে সুপরিকল্পিতভাবে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল, সাধারণ মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল – তার পেছনের কলকাঠি এখন আর গোপন নেই। আর এই পুরো নাটকের শেষ পর্দায় এসে দেখা যাচ্ছে, মূল লাভবান হয়েছেন মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার দোসররা, যারা একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে নিজেদের অবৈধ শাসন কায়েম করেছেন।

শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের দাবি ছিল যৌক্তিক, তাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই আন্দোলনে ঢুকে পড়ল স্নাইপার, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নজিরবিহীন সহিংসতা। পুলিশ সদস্যদের একের পর এক হত্যা করা হলো, আর তার দায় চাপানো হলো সরকারের ঘাড়ে। কে ছিল এই সহিংসতার নেপথ্যে? গোয়েন্দা সূত্র এখন যা বলছে, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে যে এটা ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার সুতো ধরে একদিকে পাওয়া যাচ্ছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সংযোগ, অন্যদিকে জামায়াতের মতো ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা, আর মাঝখানে রয়েছে কিছু বিপথগামী অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার নেটওয়ার্ক।

কর্নেল আব্দুল হকের নাম এখন বারবার উঠে আসছে। রাওয়া ক্লাবকে কেন্দ্র করে যে গোপন বৈঠক হয়েছিল, যেখানে পরিকল্পনা করা হয়েছিল কীভাবে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে রক্তাক্ত করে তোলা যায়, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করে সরকারকে দুর্বল করা যায় – সেই পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে তার নাম আসছে। আর এই পুরো অপারেশনে জড়িত ছিলেন প্রায় পঞ্চাশজন অবসরপ্রাপ্ত এবং বহিষ্কৃত সামরিক কর্মকর্তা। যারা দেশের সেবা করার শপথ নিয়েছিলেন, তারাই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন – এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?

আর সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই পুরো ষড়যন্ত্রের শেষ লাভবান কে? মুহাম্মদ ইউনুস। একজন মানুষ যিনি সুদী মহাজনি ব্যবসা দিয়ে গরিব মানুষের রক্ত শোষণ করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন, তিনি হঠাৎ করেই হয়ে গেলেন দেশের ‘প্রধান উপদেষ্টা’। কোনো নির্বাচন নেই, কোনো জনগণের ভোট নেই, কোনো সাংবিধানিক বৈধতা নেই। শুধুমাত্র একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ আর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এই লোককে। এটাকে কী বলবেন? এটা তো পরিষ্কার ক্যু, পরিষ্কার ষড়যন্ত্র, পরিষ্কার অবৈধ ক্ষমতা দখল।

ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মডেল হলো সুদের নামে গরিব মানুষকে শোষণের এক অত্যাধুনিক পদ্ধতি। ক্ষুদ্রঋণের নামে যে সুদের বোঝা চাপানো হয়, তাতে একজন গরিব মানুষ সারাজীবনেও সেই ঋণ শোধ করে উঠতে পারে না। আর এই শোষণের মাধ্যমে যে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে, তার মালিক হলেন ইউনুস নিজে। নোবেল পুরস্কার পেয়ে তিনি হয়ে গেছেন ‘দরিদ্রের ত্রাণকর্তা’, কিন্তু বাস্তবে তিনি গরিবের রক্ত চুষে বড় হওয়া একজন মহাজন ছাড়া আর কিছু নন।

এই মানুষটাই এখন দেশের প্রধান উপদেষ্টা। আর তার সরকার কী করছে? যে শিক্ষার্থীদের নামে এই পুরো নাটক সাজানো হয়েছিল, তাদের কি আসলেই কিছু দেওয়া হয়েছে? কোটা সংস্কার হয়েছে কি? শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে কি? বরং যা দেখা যাচ্ছে তা হলো, দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে গেছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়েছে, আর জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। ইউনুস এবং তার তথাকথিত সরকার এখন ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে, বিরোধী মতকে দমন করতে, আর নিজেদের অবৈধ শাসনকে বৈধতা দিতে।

জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এখানে একেবারে কেন্দ্রীয়। এই সংগঠন যে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, সেটা তো ইতিহাসের অংশ। কিন্তু এরা থেমে থাকেনি। প্রতিটি সুযোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে গেছে। আর এবারও তাদের সেই পুরনো খেলা। কর্নেল হক যে জামায়াতের একজন প্রভাবশালী নেতা, সেটা এখন আর গোপন নেই। আর তিনি এখন ঢাকা-২ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। পুলিশ হত্যার পরিকল্পনাকারী একজন মানুষ এখন সংসদ সদস্য হতে চাইছেন, এর চেয়ে হাস্যকর আর কী হতে পারে?

জামায়াত এবং তাদের দোসররা সবসময় মুখোশের আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। কখনো ইসলামের নাম ভাঙিয়ে, কখনো গণতন্ত্রের কথা বলে, কখনো শিক্ষার্থীদের অধিকারের কথা বলে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। কিন্তু তাদের আসল চেহারা হলো হিংসা, সন্ত্রাস আর ক্ষমতার লোভ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা তার আরেকটি জলন্ত প্রমাণ।

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সংযোগের কথা যখন শোনা যাচ্ছে, তখন বিষয়টা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পাকিস্তান ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা চায় না বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, সমৃদ্ধ হোক। আর তাই তারা এদেশের ভেতরে তাদের দালালদের মাধ্যমে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এবারের ঘটনায় তাদের সরাসরি সংযোগের যে তথ্য বেরিয়ে আসছে, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি।

আর বিদেশি অর্থায়নের কথা? ইউনুসের আন্তর্জাতিক সংযোগ তো সবারই জানা। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। এই ষড়যন্ত্রে বিদেশি অর্থ এসেছে কিনা, সেটা এখন তদন্তের বিষয়। কিন্তু যেভাবে পরিকল্পিতভাবে পুরো অপারেশন চালানো হয়েছে, তাতে বড় ধরনের অর্থায়ন ছিল সেটা নিশ্চিত। আর সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কার স্বার্থে এই ষড়যন্ত্র হয়েছে, সেটা খুঁজে বের করা জরুরি।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, যে শিক্ষার্থীরা সত্যিকারের পরিবর্তন চেয়েছিল, তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের আন্দোলনকে হাইজ্যাক করা হয়েছে। তাদের স্বপ্নকে বলি দেওয়া হয়েছে কিছু ক্ষমতালোভী মানুষের স্বার্থে। আর এখন যারা ক্ষমতায় আছে, তারা তো সেই শিক্ষার্থীদের কোনো ভাবনাই করছে না। বরং তাদের নামে যে রক্তপাত হয়েছে, সেটাকে পুঁজি করে নিজেদের অবৈধ শাসন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক দুর্বলতা ছিল, অনেক ভুল ছিল, সেটা সত্য। কিন্তু তারা একটি নির্বাচিত সরকার ছিল। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। তাদের সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, তাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকারও আছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটা হলো গণতন্ত্রের মৃত্যু, সংবিধানের লঙ্ঘন, আর জনগণের ইচ্ছার অবমাননা।

ইউনুস এবং তার তথাকথিত সরকার এখন যা করছে, তা হলো একটা প্রহসন। তাদের কোনো বৈধতা নেই, কোনো জনসমর্থন নেই, আছে শুধু ষড়যন্ত্র আর বিদেশি প্রভুদের আশীর্বাদ। এই সরকার দেশের কোনো উপকার করবে না, করতেও পারবে না। কারণ তারা এসেছে রক্তের বিনিময়ে, এসেছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, এসেছে দেশের স্বার্থের বিপরীতে।

যে পুলিশ সদস্যরা জুলাই-আগস্টে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার এখন কোথায়? তাদের ন্যায়বিচার কে করবে? যে সাধারণ মানুষগুলো নিরপরাধভাবে মারা গেছে, তাদের হত্যাকারীদের কি বিচার হবে? নাকি ইউনুসের সরকার সেই হত্যাকারীদেরই পুরস্কৃত করবে? প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে, আর উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

দেশের ইতিহাসে এই অধ্যায়টি কালো অক্ষরে লেখা থাকবে। একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থান, আর একটি অবৈধ ক্ষমতা দখল। ইউনুস এবং তার দোসররা ইতিহাসে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেই পরিচিত হবে। কারণ সত্য একদিন না একদিন বের হয়েই আসে। জুলাইর রক্তের দাগ তারা যত চেষ্টা করুক না কেন, মুছতে পারবে না। আর সেই রক্তের হিসাব একদিন তাদের দিতেই হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ