Thursday, January 15, 2026

এনইআইআর: ফোন রেজিস্ট্রেশন নাকি জনগণ নজরদারি নিয়ন্ত্রণের নতুন অস্ত্র?

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর )। শুনতে ভালো লাগে, তাই না? খুব হাই-টেক, খুব আধুনিক একটা ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবে যেটা হচ্ছে সেটা হলো একটা মানুষ লগইন করে দেখছে তার এনআইডিতে ৫৩টা ফোন রেজিস্টার্ড। মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া নামের একজন ফেসবুকে স্ক্রিনশট দিয়ে দেখিয়েছেন যে তার নামে ৫৩টা হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত, যার মধ্যে ৪২টা শুধুমাত্র ডিসেম্বরে। এই রিপোর্টার নিজে দেখেছেন আটটা ফোন তার নামে, যেগুলোর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এখন কথা হলো, এটা কি শুধুই একটা টেকনিক্যাল গ্লিচ? নাকি এর পেছনে আরো কিছু আছে? যে সরকার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লাখো মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে, জঙ্গি সংগঠনের সাথে হাত মিলিয়ে, বিদেশী ফান্ডিং নিয়ে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছে, সেই সরকার কি আসলেই মানুষের ভালো চায়? নাকি নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি সুদের ব্যবসা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তিনি এখন দেশ চালাচ্ছেন কোনো ম্যান্ডেট ছাড়াই। তার সরকারের এই এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলোর উত্তর কেউ দিচ্ছে না। একটা মানুষের এনআইডিতে যদি তার অজান্তেই ৫০টা ফোন রেজিস্টার হয়ে যায়, তাহলে এই সিস্টেমের নিরাপত্তা কোথায়? এই ডাটাবেজের সততা কোথায়?

আসল কথায় আসা যাক। বাংলাদেশে একটা ফোন আমদানি করলে শুল্ক দিতে হয় প্রায় ৫৭ শতাংশ। এই ৫৭ শতাংশ ট্যাক্স কেন? কোন যুক্তিতে? ভারতে ফোন আমদানিতে শুল্ক ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১০ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ১৫ শতাংশ। আমরা কেন ৫৭ শতাংশ দেব? এই প্রশ্নের উত্তর হলো সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেট দেশে ফোন “অ্যাসেম্বল” করে বলে দাবি করে, আসলে চায়নিজ যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে দশগুণ দামে বেচে।

ওয়ালটন, সিম্ফনি এসব কোম্পানি দেশে ফোন “তৈরি” করে বলে যে গর্ব করা হয়, সেটা আসলে একটা ভাঁওতাবাজি। এরা শুধু স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে চায়নিজ পার্টস জোড়া লাগায়। এই জোড়া লাগানোকে ম্যানুফ্যাকচারিং বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। আর এই সুবিধা পেতে তারা সরকারের কাছে লবিং করে উচ্চ আমদানি শুল্ক বজায় রাখার জন্য।

এখন প্রশ্ন হলো, এই যে এনইআইআর সিস্টেম, এটা কার স্বার্থে? সাধারণ মানুষের? একদমই না। এটা সেই সিন্ডিকেটের স্বার্থে যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। একজন মানুষ যদি দুবাই থেকে ৩০ হাজার টাকায় একটা ফোন কিনে আনে যার স্পেসিফিকেশন ভালো, তাকে এখন বলা হচ্ছে এটা “অবৈধ”। কিন্তু সেই একই ফোন যদি ওয়ালটন বা সিম্ফনি ৫০ হাজার টাকায় বেচে, তাহলে সেটা “দেশীয় শিল্প”।

এই যে মানুষ অনানুষ্ঠানিক পথে ফোন কিনছে, এর কারণ কী? কারণ হলো দাম। একটা Samsung Galaxy S25 Ultra বাংলাদেশে দুই লাখ টাকা, একই ফোন দুবাইয়ে দেড় লাখ টাকা। এই পঞ্চাশ হাজার টাকার পার্থক্য কোথায় যাচ্ছে? সরকারের পকেটে, শুল্কের নামে। আর সেই টাকা দিয়ে কী হচ্ছে? কোনো হিসাব নেই।

ইউনূস সাহেবের সরকার বলছে দেশকে “স্মার্ট বাংলাদেশ” বানাবে। কিন্তু যে দেশে মানুষ একটা স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে তার আয়ের তিন মাসের টাকা খরচ করতে হয়, সেই দেশ কীভাবে স্মার্ট হবে? স্মার্টফোন এখন বিলাসিতা না, এটা জীবনযাপনের একটা অংশ। একজন রিকশাচালক যদি রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে, একজন দর্জি যদি অনলাইনে অর্ডার নেয়, একজন ছাত্র যদি অনলাইনে ক্লাস করে, তাদের সবার জন্য ফোন দরকার। কিন্তু সেই ফোন যদি অস্বাভাবিক দামে হয়, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে হবে?

আরো মজার ব্যাপার হলো, এই এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে আসলে কী করা হচ্ছে? প্রতিটা ফোনের IMEI নাম্বার, সেটার সাথে কোন এনআইডি লিঙ্ক করা, কখন কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, সব ট্র্যাক করা যাবে। এটা কি শুধু “চোরাই ফোন” বন্ধ করার জন্য? নাকি এটা একটা ম্যাস সার্ভেইলেন্স সিস্টেম? কারণ এখন তো পুরো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া যায়, কিন্তু ভবিষ্যতে কি এমন হবে যে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ফোন সিলেক্টিভলি বন্ধ করে দেওয়া যাবে?

যে সরকার সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে, জঙ্গিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, বিদেশী মদদে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের ওপর বিশ্বাস করার কী আছে? তারা যখন বলে “দেশের ভালোর জন্য”, তখন আসলে কার ভালোর কথা বলা হচ্ছে? সাধারণ মানুষের, নাকি সেই সব ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর যারা তাদের ফান্ড করেছে?

এই যে একটা মানুষের নামে তার অজান্তে ৫৩টা ফোন রেজিস্টার্ড হয়ে যাচ্ছে, এটা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই। কোনো জবাবদিহিতা নেই। কারণ এই সরকারের কাছে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা তো নির্বাচিত না। তারা ক্ষমতায় এসেছে রক্তপাতের মাধ্যমে।

দুনিয়ার কোনো দেশে কি এই ধরনের অযৌক্তিক সিস্টেম আছে? আমেরিকায় কি মানুষ ফোন আমদানি করে না? ইউরোপে কি মানুষ বাইরে থেকে ফোন আনে না? সেখানে কি এই ধরনের হয়রানি আছে? নেই। কারণ সেসব দেশে সরকার মানুষের সেবক, মানুষের ওপর প্রভু না। কিন্তু এখানে সরকার মনে করে তারা মানুষের মালিক।

এই এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে যেটা হচ্ছে সেটা হলো একটা নতুন ধরনের লুটপাট। আগে মানুষ চুরি করা ফোন কিনলে সেটা একটা সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে, একজন সাধারণ মানুষ যদি বৈধভাবে বিদেশ থেকে একটা ফোন কিনে আনে নিজের ব্যবহারের জন্য, তাকেও একই ক্যাটাগরিতে ফেলা হচ্ছে। কেন? কারণ সেটা “দেশীয় শিল্পের” জন্য ক্ষতিকর। কোন দেশীয় শিল্প? যে শিল্প শুধু স্ক্রু ড্রাইভার ঘোরায়?

ভারতে Xiaomi, Samsung, Apple সবার ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে আসলেই ম্যানুফ্যাকচারিং হয়। চিপ না বানালেও অন্তত ডিসপ্লে, ব্যাটারি, অ্যাসেম্বলি সব সেখানে হয়। বাংলাদেশে সেটাও নেই। শুধু বক্স খুলে স্ক্রু লাগানো। এটাকে “দেশীয় শিল্প” বলা হলে হাসি পায়।

আর সবচেয়ে বড় কথা, যদি সত্যিই দেশীয় শিল্প রক্ষা করতে হয়, তাহলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে করা উচিত, বাজার বন্ধ করে দিয়ে না। ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড সব দেশেই বিদেশী ফোন আসে, কিন্তু তারা তাদের লোকাল কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে কোয়ালিটি আর প্রাইস দিয়ে। আমরা সেটা না করে বাজার বন্ধ করে দিচ্ছি। এটা তো সিন্ডিকেট ছাড়া আর কিছু না।

এখন আমাকে যদি কেউ বলে যে “আপনি দেশের ভালো চান না”, তাহলে আমি খুব পরিষ্কার করে বলব, না, আমি এই দেশের ভালো চাই না। এই দেশ বলতে যদি বোঝায় ইউনূস সাহেবের অবৈধ সরকার আর তাদের সিন্ডিকেট, তাহলে না, আমি এদের ভালো চাই না। আমি চাই সেই দেশের ভালো যেখানে একজন সাধারণ মানুষ তার পরিশ্রমের টাকায় একটা ভালো ফোন কিনতে পারবে কোনো হয়রানি ছাড়াই। আমি চাই সেই দেশের ভালো যেখানে সরকার জনগণের সেবক, প্রভু না।

কিন্তু সেই দেশ তো এখন নেই। এখন যেটা আছে সেটা হলো একটা অবৈধ শাসনব্যবস্থা যেটা জনগণের ওপর একের পর এক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এনইআইআর সিস্টেম শুধু একটা উদাহরণ। আরো অনেক কিছু আসবে। আর যত দিন যাবে, নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়বে। কারণ যে সরকার বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় এসেছে, তারা বন্দুকের জোরেই থাকতে চাইবে। আর সেজন্য দরকার নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ, দমন।

তো এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে যতই সুন্দর সুন্দর কথা বলা হোক না কেন, বাস্তবতা হলো এটা একটা হাতিয়ার। হয় লুটপাটের, নয়তো নজরদারির। অথবা দুটোই।

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর )। শুনতে ভালো লাগে, তাই না? খুব হাই-টেক, খুব আধুনিক একটা ব্যাপার। কিন্তু বাস্তবে যেটা হচ্ছে সেটা হলো একটা মানুষ লগইন করে দেখছে তার এনআইডিতে ৫৩টা ফোন রেজিস্টার্ড। মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া নামের একজন ফেসবুকে স্ক্রিনশট দিয়ে দেখিয়েছেন যে তার নামে ৫৩টা হ্যান্ডসেট নিবন্ধিত, যার মধ্যে ৪২টা শুধুমাত্র ডিসেম্বরে। এই রিপোর্টার নিজে দেখেছেন আটটা ফোন তার নামে, যেগুলোর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এখন কথা হলো, এটা কি শুধুই একটা টেকনিক্যাল গ্লিচ? নাকি এর পেছনে আরো কিছু আছে? যে সরকার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লাখো মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে, জঙ্গি সংগঠনের সাথে হাত মিলিয়ে, বিদেশী ফান্ডিং নিয়ে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছে, সেই সরকার কি আসলেই মানুষের ভালো চায়? নাকি নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি সুদের ব্যবসা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তিনি এখন দেশ চালাচ্ছেন কোনো ম্যান্ডেট ছাড়াই। তার সরকারের এই এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলোর উত্তর কেউ দিচ্ছে না। একটা মানুষের এনআইডিতে যদি তার অজান্তেই ৫০টা ফোন রেজিস্টার হয়ে যায়, তাহলে এই সিস্টেমের নিরাপত্তা কোথায়? এই ডাটাবেজের সততা কোথায়?

আসল কথায় আসা যাক। বাংলাদেশে একটা ফোন আমদানি করলে শুল্ক দিতে হয় প্রায় ৫৭ শতাংশ। এই ৫৭ শতাংশ ট্যাক্স কেন? কোন যুক্তিতে? ভারতে ফোন আমদানিতে শুল্ক ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১০ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ১৫ শতাংশ। আমরা কেন ৫৭ শতাংশ দেব? এই প্রশ্নের উত্তর হলো সিন্ডিকেট। যে সিন্ডিকেট দেশে ফোন “অ্যাসেম্বল” করে বলে দাবি করে, আসলে চায়নিজ যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে দশগুণ দামে বেচে।

ওয়ালটন, সিম্ফনি এসব কোম্পানি দেশে ফোন “তৈরি” করে বলে যে গর্ব করা হয়, সেটা আসলে একটা ভাঁওতাবাজি। এরা শুধু স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে চায়নিজ পার্টস জোড়া লাগায়। এই জোড়া লাগানোকে ম্যানুফ্যাকচারিং বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। আর এই সুবিধা পেতে তারা সরকারের কাছে লবিং করে উচ্চ আমদানি শুল্ক বজায় রাখার জন্য।

এখন প্রশ্ন হলো, এই যে এনইআইআর সিস্টেম, এটা কার স্বার্থে? সাধারণ মানুষের? একদমই না। এটা সেই সিন্ডিকেটের স্বার্থে যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। একজন মানুষ যদি দুবাই থেকে ৩০ হাজার টাকায় একটা ফোন কিনে আনে যার স্পেসিফিকেশন ভালো, তাকে এখন বলা হচ্ছে এটা “অবৈধ”। কিন্তু সেই একই ফোন যদি ওয়ালটন বা সিম্ফনি ৫০ হাজার টাকায় বেচে, তাহলে সেটা “দেশীয় শিল্প”।

এই যে মানুষ অনানুষ্ঠানিক পথে ফোন কিনছে, এর কারণ কী? কারণ হলো দাম। একটা Samsung Galaxy S25 Ultra বাংলাদেশে দুই লাখ টাকা, একই ফোন দুবাইয়ে দেড় লাখ টাকা। এই পঞ্চাশ হাজার টাকার পার্থক্য কোথায় যাচ্ছে? সরকারের পকেটে, শুল্কের নামে। আর সেই টাকা দিয়ে কী হচ্ছে? কোনো হিসাব নেই।

ইউনূস সাহেবের সরকার বলছে দেশকে “স্মার্ট বাংলাদেশ” বানাবে। কিন্তু যে দেশে মানুষ একটা স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে তার আয়ের তিন মাসের টাকা খরচ করতে হয়, সেই দেশ কীভাবে স্মার্ট হবে? স্মার্টফোন এখন বিলাসিতা না, এটা জীবনযাপনের একটা অংশ। একজন রিকশাচালক যদি রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে, একজন দর্জি যদি অনলাইনে অর্ডার নেয়, একজন ছাত্র যদি অনলাইনে ক্লাস করে, তাদের সবার জন্য ফোন দরকার। কিন্তু সেই ফোন যদি অস্বাভাবিক দামে হয়, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে হবে?

আরো মজার ব্যাপার হলো, এই এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে আসলে কী করা হচ্ছে? প্রতিটা ফোনের IMEI নাম্বার, সেটার সাথে কোন এনআইডি লিঙ্ক করা, কখন কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, সব ট্র্যাক করা যাবে। এটা কি শুধু “চোরাই ফোন” বন্ধ করার জন্য? নাকি এটা একটা ম্যাস সার্ভেইলেন্স সিস্টেম? কারণ এখন তো পুরো দেশের ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া যায়, কিন্তু ভবিষ্যতে কি এমন হবে যে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ফোন সিলেক্টিভলি বন্ধ করে দেওয়া যাবে?

যে সরকার সামরিক বাহিনীর সমর্থন নিয়ে, জঙ্গিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, বিদেশী মদদে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের ওপর বিশ্বাস করার কী আছে? তারা যখন বলে “দেশের ভালোর জন্য”, তখন আসলে কার ভালোর কথা বলা হচ্ছে? সাধারণ মানুষের, নাকি সেই সব ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর যারা তাদের ফান্ড করেছে?

এই যে একটা মানুষের নামে তার অজান্তে ৫৩টা ফোন রেজিস্টার্ড হয়ে যাচ্ছে, এটা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই। কোনো জবাবদিহিতা নেই। কারণ এই সরকারের কাছে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারা তো নির্বাচিত না। তারা ক্ষমতায় এসেছে রক্তপাতের মাধ্যমে।

দুনিয়ার কোনো দেশে কি এই ধরনের অযৌক্তিক সিস্টেম আছে? আমেরিকায় কি মানুষ ফোন আমদানি করে না? ইউরোপে কি মানুষ বাইরে থেকে ফোন আনে না? সেখানে কি এই ধরনের হয়রানি আছে? নেই। কারণ সেসব দেশে সরকার মানুষের সেবক, মানুষের ওপর প্রভু না। কিন্তু এখানে সরকার মনে করে তারা মানুষের মালিক।

এই এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে যেটা হচ্ছে সেটা হলো একটা নতুন ধরনের লুটপাট। আগে মানুষ চুরি করা ফোন কিনলে সেটা একটা সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে, একজন সাধারণ মানুষ যদি বৈধভাবে বিদেশ থেকে একটা ফোন কিনে আনে নিজের ব্যবহারের জন্য, তাকেও একই ক্যাটাগরিতে ফেলা হচ্ছে। কেন? কারণ সেটা “দেশীয় শিল্পের” জন্য ক্ষতিকর। কোন দেশীয় শিল্প? যে শিল্প শুধু স্ক্রু ড্রাইভার ঘোরায়?

ভারতে Xiaomi, Samsung, Apple সবার ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে আসলেই ম্যানুফ্যাকচারিং হয়। চিপ না বানালেও অন্তত ডিসপ্লে, ব্যাটারি, অ্যাসেম্বলি সব সেখানে হয়। বাংলাদেশে সেটাও নেই। শুধু বক্স খুলে স্ক্রু লাগানো। এটাকে “দেশীয় শিল্প” বলা হলে হাসি পায়।

আর সবচেয়ে বড় কথা, যদি সত্যিই দেশীয় শিল্প রক্ষা করতে হয়, তাহলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে করা উচিত, বাজার বন্ধ করে দিয়ে না। ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড সব দেশেই বিদেশী ফোন আসে, কিন্তু তারা তাদের লোকাল কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে কোয়ালিটি আর প্রাইস দিয়ে। আমরা সেটা না করে বাজার বন্ধ করে দিচ্ছি। এটা তো সিন্ডিকেট ছাড়া আর কিছু না।

এখন আমাকে যদি কেউ বলে যে “আপনি দেশের ভালো চান না”, তাহলে আমি খুব পরিষ্কার করে বলব, না, আমি এই দেশের ভালো চাই না। এই দেশ বলতে যদি বোঝায় ইউনূস সাহেবের অবৈধ সরকার আর তাদের সিন্ডিকেট, তাহলে না, আমি এদের ভালো চাই না। আমি চাই সেই দেশের ভালো যেখানে একজন সাধারণ মানুষ তার পরিশ্রমের টাকায় একটা ভালো ফোন কিনতে পারবে কোনো হয়রানি ছাড়াই। আমি চাই সেই দেশের ভালো যেখানে সরকার জনগণের সেবক, প্রভু না।

কিন্তু সেই দেশ তো এখন নেই। এখন যেটা আছে সেটা হলো একটা অবৈধ শাসনব্যবস্থা যেটা জনগণের ওপর একের পর এক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এনইআইআর সিস্টেম শুধু একটা উদাহরণ। আরো অনেক কিছু আসবে। আর যত দিন যাবে, নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়বে। কারণ যে সরকার বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় এসেছে, তারা বন্দুকের জোরেই থাকতে চাইবে। আর সেজন্য দরকার নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ, দমন।

তো এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে যতই সুন্দর সুন্দর কথা বলা হোক না কেন, বাস্তবতা হলো এটা একটা হাতিয়ার। হয় লুটপাটের, নয়তো নজরদারির। অথবা দুটোই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ