ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিজের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, বর্তমান প্রশাসন অনেকটা বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান, যার ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটেছে গত ২৫ ডিসেম্বর। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা এবং আইনি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার হয়তো তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথই প্রশস্ত করছে।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলের অসংখ্য মামলা, বিশেষ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগগুলো থেকে তাকে আদালত খালাস দিয়েছে এবং এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন, বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোটার বানানোর মতো বিষয়গুলো সরকারের বিশেষ সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের ফলে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হলেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে জামায়াতের সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির সাথে তাদের কৌশলগত দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তারেক রহমান এককভাবে ক্ষমতা সংহত করলে জামায়াত ক্ষমতার কতটুকু অংশীদার হতে পারবে বা তাদের ভোটব্যাংক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার একটি সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির কথা বলছে, তবুও তারেক রহমানের প্রতি প্রশাসনের এই নমনীয়তা আগামী নির্বাচনের চাবিকাঠি বিএনপির হাতে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।

