বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরে রাজনৈতিক দৃশ্যপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান, যার দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন জীবনের অবসান ঘটেছে গত ২৫ ডিসেম্বর । সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি দেখানো আইনি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা রাজনৈতিক মহলে এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে যে, ড. ইউনূস কি তবে তারেক রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথই প্রশস্ত করছেন? যদি তাই হয়, তবে ইউনূসের প্রিয় দল জামায়াতের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। গত কয়েক মাসে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আওয়ামী লীগ আমলের অসংখ্য মামলা, বিশেষ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মতো বড় অভিযোগগুলো থেকে আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছে। আদালত এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করায় তাঁর ওপর থেকে সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বোঝা নেমে গেছে।
এছাড়া পাসপোর্ট জটিলতা নিরসন এবং তাঁর বক্তব্য প্রচারের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের আইনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে সরকার তাঁকে পূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে। বিমানবন্দরে অবতরণের সময় থেকে শুরু করে বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তাকে সরকারের বিশেষ সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাকে একদিনের মধ্যে ভোটারও বানানো হয়েছে।
তবে তারেক রহমানের এই শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন জামায়াতে ইসলামীর দিকে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
জোটের ভবিষ্যৎ: বিএনপি ও জামায়াতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের মধ্যে কিছু কৌশলগত দূরত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারেক রহমান এককভাবে ক্ষমতা সংহত করলে জামায়াত ক্ষমতার কতটুকু অংশীদার হতে পারবে, তা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনা চলছে।
ভোটারদের মেরুকরণ: তারেক রহমান দেশে ফেরায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে জামায়াতের ভোটব্যাংক বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে কি না, সেটিও দেখার বিষয়।
ড. ইউনূসের সরকার বারবার বলছে তারা একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে চায়। তবে তারেক রহমানের প্রতি আইনি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা অনেককেই এই ধারণা দিচ্ছে যে, আগামী নির্বাচনের চাবিকাঠি হয়তো বিএনপির হাতেই যাচ্ছে।

