বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে রাখা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগকে বিনা শর্তে অথবা শর্ত দিয়ে নির্বাচনে চান বেশির ভাগ মানুষ। ওই জরিপে বলা হয়, নির্বাচনে আ.লীগকে চান দেশের ৬৯% মানুষ। এ থেকে স্পষ্ট আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কেমন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় নয়, বরং ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করে রাখছেন। এই আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ সম্প্রতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্যে।
গত বুধবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আগে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে নজরুল ইসলাম খান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনো মুক্তি পাবেন না।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, দীর্ঘ সময় খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা এবং কারান্তরীণ রাখার বিষয়টিকে বিএনপি নেতারা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন।
নজরুল ইসলাম খানের এমন বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, বিএনপির এই ব্যক্তিগত চোট এবং গত ১৫ বছরের দমন-পীড়নের স্মৃতিই কি তবে আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখার মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে? ড. ইউনূসের সরকার যদিও বলছে তারা সংস্কারের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করছে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে সেই নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলটির সমর্থকরা।
অন্যদিকে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসার পর বিএনপির রাজনীতিতে যে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে, তাতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ আপাতত নেই বললেই চলে। সমালোচকদের মতে, আইনি লড়াইয়ের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জায়গা থেকেই আওয়ামী লীগকে মাঠছাড়া করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সেই আক্রোশের আগুনে ঘি ঢেলেছে, যা আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

