নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ আবদুল হান্নান মাসউদ। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁর দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ছাত্রনেতা হিসেবে নিজেকে ‘বেকার’ দাবি করলেও তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা। এই তথ্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে তাঁর আয়ের উৎস নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, হান্নান মাসউদের কাছে বর্তমানে নগদ টাকা রয়েছে ৩৫ লাখ, যা তাঁর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের তুলনায় ১৮ গুণেরও বেশি। তাঁর বাবার হাতে নগদ রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এছাড়া বাৎসরিক আয়ের ক্ষেত্রেও তিনি বাবাকে ছাড়িয়ে গেছেন; তাঁর বার্ষিক আয় বাবার আয়ের তিন গুণেরও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন যে, ছাত্র অবস্থায় টিউশনি, ব্যবসা এবং বিয়ের উপহার থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তিনি এই সম্পদ গড়েছেন এবং হলফনামায় তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি।
তবে কেবল সম্পদের হিসাবই নয়, গত এক বছরে হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নীতিবিবর্জিত আচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে আটককৃত ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব জাস্টিস’ ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে, যার প্রেক্ষিতে তাঁর নিজ সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছিল। এছাড়া মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ এবং বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার নিয়েও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এখন এই প্রশ্নটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে যে, ছাত্র আন্দোলনের আদর্শের কথা বলা একজন নেতার জীবনযাত্রায় এত দ্রুত পরিবর্তন এবং কোটি টাকার কাছাকাছি সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব হলো।
হান্নান মাসউদের এই সম্পদের পাহাড়কে নেটিজেনদের অনেকেই ‘বিপ্লব পরবর্তী হঠাৎ পরিবর্তন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বাবার সাথে টিনশেড বাড়িতে থাকা এই তরুণ নেতার হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার বিষয়টি এখন নির্বাচনী মাঠে তাঁর সততা ও স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আব্দুল হান্নান মাসউদের কাছে হলফনামা ও আয়ের তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্র অবস্থায় টিউশনি করে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করেছি। পাশাপাশি ব্যবসা থেকেও কিছু আয় করেছি। আবার আমার বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গত এক বছরে অনেক গিফট পেয়েছি। আমি আমার হলফনামায় যে মোট আয়ের কথা উল্লেখ করেছি, সেটি সত্য। হালফনামায় কিছুই লুকাইনি।’

