আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ জঙ্গি নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী গ্রেফতারের পর রাজধানী ঢাকায় সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাকে নিছক বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত জঙ্গি প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশোধমূলক বার্তা—যার লক্ষ্য রাষ্ট্র, সমাজ এবং মুক্তচিন্তার পরিসর।
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভারের কাছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সামনে ঘটে ভয়ংকর বিস্ফোরণ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে লক্ষ্য করে ক্রুড বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যা মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
এই হামলায় ২১ বছর বয়সী সিয়াম মজুমদার নিহত হন। তিনি স্থানীয় একটি মোটরকার ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী ছিলেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক রক্তে রঞ্জিত হয় একজন নিরীহ তরুণের প্রাণহানিতে।
সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিস্ফোরণের স্থানটি ছিল নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত আড্ডাস্থল। এই লোকেশন নির্বাচন মোটেও কাকতালীয় নয়। বরং মুক্তচিন্তা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাবেশকে ভীত করার উদ্দেশ্যেই জায়গাটি টার্গেট করা হয়েছে—এমনটাই তাদের মূল্যায়ন।
বিক্রমপুরী গ্রেফতারের পর ‘প্রতিশোধের সংকেত’?
বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বিক্রমপুরী গ্রেফতারের পরপরই এই হামলা জঙ্গি নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা গ্রেফতার হলেও তারা এখনো সক্রিয়, সংগঠিত এবং আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি, তবে হামলার সময়, স্থান ও পদ্ধতি এই তিনটি বিষয় সন্দেহকে আরও গভীর করছে।
নীরবতা ও শৈথিল্যই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে— জঙ্গি নেটওয়ার্ক কি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে? শুধু গ্রেফতার কি যথেষ্ট, নাকি নেটওয়ার্ক ভাঙতে প্রয়োজন গভীর, সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান? একটি বিষয় স্পষ্ট—সিয়াম কেবল একজন নিহত তরুণ নন; তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার আরেকটি রক্তাক্ত দলিল। এই হামলাকে যদি হালকাভাবে দেখা হয়, দায় শুধু হামলাকারীদের নয়—রাষ্ট্রকেও সেই দায় বহন করতে হবে। জঙ্গিবাদ সতর্কবার্তা দেয় না—সে তার উপস্থিতি জানায় রক্তের ভাষায়। মগবাজার তার সর্বশেষ ও ভয়াবহ উদাহরণ।

