ঢাকার সিএমএম আদালতে উঠে আসা তথ্যগুলো শুনলে যে কারো মাথায় হাত যাবে। জুলাই দাঙ্গার হত্যা মামলার নথিপত্র চুরি করে তিনটি ভুয়া মামলা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সরাসরি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে এসব মামলাকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি চলছে। মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। একজন আসামি নিজেই স্বীকার করেছেন যে ব্যক্তিগত শত্রুতা আর টাকা হাতানোর জন্য মিথ্যা মামলা করা হয়েছে তাকে নিয়ে।
প্রশ্ন হলো, এটা কীভাবে সম্ভব হলো? কীভাবে আদালতের নথিপত্র সংগ্রহ করে একই হত্যাকাণ্ডকে আলাদা ঘটনা বানিয়ে নতুন মামলা দায়ের করা যায়? এর দায় কার? যে সরকার জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কেন এই মামলাগুলোর দায়িত্ব নেয়নি শুরু থেকেই?
সিনিয়র আইনজীবীরা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, সরকার যদি শুরু থেকে এসব মামলার দায়িত্ব নিত, তাহলে প্রতারক চক্রের এই উত্থান হতো না। আইন মন্ত্রণালয় আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিলে সঠিক তথ্য নিয়ে মামলা করলে আজকে এই চাঁদাবাজি চলতো না। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলাফল সামনে।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই অন্তর্বর্তী সরকার কি সত্যিই বিচার চায়? নাকি বিচারের নামে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য? জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে যত কথাই বলা হোক, বাস্তবতা হলো সেই ঘটনাকে কাজে লাগিয়েই নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এখন যখন সেই একই ঘটনার মামলা নিয়ে চাঁদাবাজি হচ্ছে, মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে, তখন সরকারের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
এটা কি কাকতালীয়? নাকি পরিকল্পিত উদাসীনতা? যে সরকার বিচার আর ন্যায়ের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কেন চুপচাপ বসে আছে যখন মানুষ ভুয়া মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে? প্রতি এলাকায় কারা মামলার নামে ব্যবসা করছে, সেটা নাকি ‘ওপেন সিক্রেট’। কিন্তু সরকার যেন কিছুই জানে না, কিছুই দেখে না।
আইনজীবীরা এখন বলছেন জুলাই দাঙ্গার সব মামলা আর গ্রেফতারের বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। এই হয়রানি বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে এই বিশৃঙ্খলা আসলে তাদের জন্য সুবিধাজনক। বিচারের নামে মানুষকে ভয়ে রাখা, নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়তো তাদের কৌশলের অংশ।
যে সরকার গণতন্ত্র আর আইনের শাসনের কথা বলে, তাদের আমলেই আদালতের নথি চুরি হচ্ছে। ভুয়া মামলা হচ্ছে। চাঁদাবাজি চলছে। আর নিরপরাধ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এটাই কি তাদের বিচার ব্যবস্থা? এটাই কি তাদের সংস্কার? এই প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়ার দায়িত্ব ইউনূস সরকারের। কিন্তু জবাব আসবে বলে মনে হয় না। কারণ হয়তো এই অস্থিরতাই তারা চায়।

