ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক নেতা ওসমান হাদির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর চাঞ্চল্যকর এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ‘লুঙ্গি ড্যান্স’ গানের তালে উদ্দাম নাচ দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। ভারতের আধিপত্যের কথা বলে আম্মার নিজেই ভারতীয় গানে নাচছেন।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জামায়াত ও আমেরিকান কানেকশন
গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি একটি নীলনকশা বাস্তবায়নে নেমেছে জামায়াত। এই মিশনের অংশ হিসেবেই ওসমান হাদিকে জীবন দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, গত মাসের শেষের দিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারের ছেলে সালমান খোদ হাদির সাথে তার হত্যাকারীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। হাদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ওই ব্যক্তি তাকে ক্যাম্পেইনে সহযোগিতা করবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাকে হত্যার পরিকল্পনা আগেই চূড়ান্ত ছিল।
সাদিক কায়েমের ‘অভ্যুত্থান’ ও ঢাকা-৮ এর রাজনীতি
অভিযোগ উঠেছে, হাদির লাশ নিয়ে রাজনীতি করে ঢাকা-৮ আসনে আবু সাদিক কায়েমকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় জামায়াত-শিবিরের একটি অংশ। রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এই কেন্দ্রটির বিশাল চাঁদাবাজির অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে নিতেই এই বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে হাদিকে। হামলার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় সাদিক কায়েমের ফেসবুক পেজে ‘অভ্যুত্থান’-এর ডাক এবং পরবর্তীতে দায়ভার বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টাকে সুপরিকল্পিত নাটক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া
সূত্রমতে, ওসমান হাদি কেবল একজন ছাত্রনেতাই ছিলেন না, তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (আইএসআই)-এর এজেন্ট ছিলেন এবং তার অর্থায়ন আসত জামায়াত নেতা ড. মাসুদের পক্ষ থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সমন্বিত কৌশল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনমনে ক্ষোভ ও অস্থিরতা
হত্যাকাণ্ডের মতো শোকাবহ ঘটনার পর সালাহউদ্দিন আম্মারের মতো একজন ছাত্র প্রতিনিধির এমন ‘জঙ্গি’সুলভ আচরণ ও নাচ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিদেশি অর্থায়ন ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যে গভীর চক্রান্ত শুরু করেছে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে অবিলম্বে এই বিদেশি তদারকি ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

