Monday, December 1, 2025

আল-কায়দা এবং গ্রামীণ নেটওয়ার্ক : কি কথা তাহার সাথে এবং বিবিধ আলাপ

নোবেল পুরস্কারের সোনালি আবরণ আর মাইক্রোক্রেডিটের মায়াবী গল্পের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যিটা এখন আর ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার বিশাল গ্রামীণ নেটওয়ার্ক নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বছরের পর বছর ধরে চাপা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এখন একে একে সামনে আসছে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িয়ে আছে এমন সব নাম, যাদের সংযোগ পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি আল-কায়েদা এবং ওসামা বিন লাদেনের অর্থায়নকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

২০০৩ সালে যখন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সিআইএ-র তথ্যের ভিত্তিতে আল-কায়েদার অর্থদাতাদের তালিকা প্রকাশ করে, তখন সেখানে মোহাম্মদ আবদুল লতিফ জামিলের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এই একই জামিল পরিবারের সাথে ইউনুসের গ্রামীণ ফাউন্ডেশনের ছিল দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক। গ্রামীণ-জামিল মাইক্রোফাইন্যান্স নামের যৌথ উদ্যোগটি শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে কোটি কোটি ডলারের লেনদেন করেছে। প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ যাকে বিশ্বজুড়ে দরিদ্রের বন্ধু হিসেবে তুলে ধরা হয়, তিনি কীভাবে এমন ব্যক্তিদের সাথে অংশীদারিত্বে জড়ালেন, যাদের নাম সন্ত্রাসী অর্থায়নের সাথে যুক়্ত?

জামিল পরিবারের ইতিহাস ঘাটলে আরও অনেক অন্ধকার সত্য বেরিয়ে আসে। ইউসুফ জামিল, যিনি একসময় লন্ডনের ক্যাসিনো মহলে কুখ্যাত প্লেবয় ছিলেন, পরবর্তীতে জড়িয়ে পড়েন শিশু অপহরণের মামলায়। আরও ভয়ংকর ব্যাপার হলো, তার নাম পাওয়া গেছে জেফ্রি এপস্টিনের কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক বুক’-এ। এই একই পরিবারের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রেখে ইউনুস তার তথাকথিত মানবতাবাদী ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন দশকের পর দশক।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে রক্তক্ষয়ী হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনের কলকাঠিগুলো এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য রাস্তায় নামানো হয়েছিল হাজার হাজার তরুণকে। সেই আন্দোলনের নামে সংঘটিত হয়েছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ। আর এই সবকিছুর শেষে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে ইউনুসকে, যার কোনো নির্বাচনী বৈধতা নেই, যার কোনো গণভিত্তি নেই। এটা কোনো বিপ্লব নয়, এটা সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান।

বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা, এবং সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থন, এই তিনটি উপাদান একসাথে মিলে তৈরি করেছে ২০২৪ সালের জুলাই ট্র্যাজেডি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই বিদেশি অর্থায়নের উৎস কোথায়? ইউনুসের গ্রামীণ নেটওয়ার্ক যে আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরি করেছে, সেখানে কারা জড়িত? যেসব ব্যক্তি এবং সংস্থা দশকের পর দশক ধরে ইউনুসের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে, তাদের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল?

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোও কম ভয়াবহ নয়। দরিদ্র মানুষকে ঋণ দিয়ে তাদের জীবন বদলে দেওয়ার যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে অনেকের জীবন হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্ন। যারা ঋণ শোধ করতে পারেননি, তাদের ওপর নেমে এসেছে অকল্পনীয় নির্যাতন। এমনকি অভিযোগ উঠেছে যে, ঋণখেলাপিদের অঙ্গ বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই কেমন মানবতাবাদ, যেখানে মানুষের শরীরের অংশ হয়ে ওঠে ঋণ পরিশোধের মাধ্যম?

মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে গ্রামীণ নেটওয়ার্কের সংযোগের অভিযোগও এসেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। এই সংগঠনটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কুখ্যাত। বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির যে ভূমিকা পালন করেছে জুলাইের সহিংসতায়, তার পেছনের আন্তর্জাতিক সংযোগ খুঁজতে গেলে এই নেটওয়ার্কের নাম সামনে আসে।

ইউনুসকে যেভাবে পশ্চিমা মিডিয়া এবং রাজনৈতিক নেতারা সমর্থন দিয়ে এসেছেন, সেটাও প্রশ্নবোধক। একজন ব্যক্তি যার ব্যবসায়িক অংশীদাররা সন্ত্রাসী অর্থায়নের সাথে জড়িত, যার নেটওয়ার্ক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ আছে, তাকে কেন এত সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে? নোবেল পুরস্কার কি এতটাই শক্তিশালী ঢাল যে, এর আড়ালে সবকিছু ঢাকা পড়ে যায়?

বাংলাদেশের মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে যে, তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য তারা লড়াই করেছে, তার বদলে তাদের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি অবৈধ শাসনব্যবস্থা। ইউনুস যে সরকার চালাচ্ছেন, তার কোনো নৈতিক বা আইনগত ভিত্তি নেই। এটা একটা চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের মতামতের কোনো মূল্য নেই।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, জুলাই মাসে যেসব তরুণ প্রাণ হারিয়েছে, তাদের রক্ত ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। তাদের পরিবারগুলো এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। কিন্তু যারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল, তারাই এখন ক্ষমতায় বসে আছে। এটা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়, এটা একটা ট্র্যাজেডি।

ইউনুসের গ্রামীণ সাম্রাজ্য যে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটা এখন স্পষ্ট। এটা একটা বিশাল নেটওয়ার্ক, যার সংযোগ বিস্তৃত বিশ্বজুড়ে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, কারা এর সাথে জড়িত, এবং এর আসল উদ্দেশ্য কী, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখন জরুরি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ইউনুসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে মানুষটি একসময় মাইক্রোক্রেডিটের জনক হিসেবে সম্মানিত ছিলেন, তিনি এখন দাঁড়িয়ে আছেন অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগের মুখে। এই অভিযোগ আর এড়ানো যাবে না, নোবেল পুরস্কারের আলো দিয়ে আর এই অন্ধকার ঢাকা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের মানুষ যারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতা নিজের চোখে দেখেছে, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তাদের কাছে এখন সত্যটা পরিষ্কার। এই অভ্যুত্থান কোনো গণআন্দোলন ছিল না, এটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আর এই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউনুস এবং তার বিস্তৃত গ্রামীণ নেটওয়ার্ক।

এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক তদন্তের। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে গ্রামীণ নেটওয়ার্ক কাজ করছে, সেখানকার অর্থের উৎস এবং ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা দরকার। কারা অর্থায়ন করেছে, কোথায় এই অর্থ গেছে, এবং এর মাধ্যমে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, এসব প্রশ্নের জবাব চাই।

দরিদ্রের বন্ধু সাজার মুখোশ পরে থাকা এই লোকটি আসলে কী, সেটা এখন সবার সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার। নোবেল পুরস্কার কোনো অপরাধ থেকে রক্ষাকবচ হতে পারে না। আর সন্ত্রাসী অর্থায়নকারীদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা কোনো মামুলি বিষয় নয়।

বাংলাদেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে, তাদের গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এবং তাদের তরুণদের রক্ত ব্যবহার করা হয়েছে একটা অবৈধ ক্ষমতা দখলের জন্য। এই অপরাধের বিচার হতেই হবে। আর সেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে ইউনুসসহ সবাইকে, যারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত।

নোবেল পুরস্কারের সোনালি আবরণ আর মাইক্রোক্রেডিটের মায়াবী গল্পের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যিটা এখন আর ঢেকে রাখা সম্ভব নয়। মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার বিশাল গ্রামীণ নেটওয়ার্ক নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বছরের পর বছর ধরে চাপা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এখন একে একে সামনে আসছে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িয়ে আছে এমন সব নাম, যাদের সংযোগ পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি আল-কায়েদা এবং ওসামা বিন লাদেনের অর্থায়নকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

২০০৩ সালে যখন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সিআইএ-র তথ্যের ভিত্তিতে আল-কায়েদার অর্থদাতাদের তালিকা প্রকাশ করে, তখন সেখানে মোহাম্মদ আবদুল লতিফ জামিলের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এই একই জামিল পরিবারের সাথে ইউনুসের গ্রামীণ ফাউন্ডেশনের ছিল দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক। গ্রামীণ-জামিল মাইক্রোফাইন্যান্স নামের যৌথ উদ্যোগটি শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে কোটি কোটি ডলারের লেনদেন করেছে। প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ যাকে বিশ্বজুড়ে দরিদ্রের বন্ধু হিসেবে তুলে ধরা হয়, তিনি কীভাবে এমন ব্যক্তিদের সাথে অংশীদারিত্বে জড়ালেন, যাদের নাম সন্ত্রাসী অর্থায়নের সাথে যুক়্ত?

জামিল পরিবারের ইতিহাস ঘাটলে আরও অনেক অন্ধকার সত্য বেরিয়ে আসে। ইউসুফ জামিল, যিনি একসময় লন্ডনের ক্যাসিনো মহলে কুখ্যাত প্লেবয় ছিলেন, পরবর্তীতে জড়িয়ে পড়েন শিশু অপহরণের মামলায়। আরও ভয়ংকর ব্যাপার হলো, তার নাম পাওয়া গেছে জেফ্রি এপস্টিনের কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক বুক’-এ। এই একই পরিবারের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রেখে ইউনুস তার তথাকথিত মানবতাবাদী ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন দশকের পর দশক।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে রক্তক্ষয়ী হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনের কলকাঠিগুলো এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য রাস্তায় নামানো হয়েছিল হাজার হাজার তরুণকে। সেই আন্দোলনের নামে সংঘটিত হয়েছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ। আর এই সবকিছুর শেষে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে ইউনুসকে, যার কোনো নির্বাচনী বৈধতা নেই, যার কোনো গণভিত্তি নেই। এটা কোনো বিপ্লব নয়, এটা সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান।

বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা, এবং সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থন, এই তিনটি উপাদান একসাথে মিলে তৈরি করেছে ২০২৪ সালের জুলাই ট্র্যাজেডি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই বিদেশি অর্থায়নের উৎস কোথায়? ইউনুসের গ্রামীণ নেটওয়ার্ক যে আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরি করেছে, সেখানে কারা জড়িত? যেসব ব্যক্তি এবং সংস্থা দশকের পর দশক ধরে ইউনুসের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে, তাদের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল?

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোও কম ভয়াবহ নয়। দরিদ্র মানুষকে ঋণ দিয়ে তাদের জীবন বদলে দেওয়ার যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে অনেকের জীবন হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্ন। যারা ঋণ শোধ করতে পারেননি, তাদের ওপর নেমে এসেছে অকল্পনীয় নির্যাতন। এমনকি অভিযোগ উঠেছে যে, ঋণখেলাপিদের অঙ্গ বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই কেমন মানবতাবাদ, যেখানে মানুষের শরীরের অংশ হয়ে ওঠে ঋণ পরিশোধের মাধ্যম?

মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে গ্রামীণ নেটওয়ার্কের সংযোগের অভিযোগও এসেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। এই সংগঠনটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কুখ্যাত। বাংলাদেশে জামায়াত-শিবির যে ভূমিকা পালন করেছে জুলাইের সহিংসতায়, তার পেছনের আন্তর্জাতিক সংযোগ খুঁজতে গেলে এই নেটওয়ার্কের নাম সামনে আসে।

ইউনুসকে যেভাবে পশ্চিমা মিডিয়া এবং রাজনৈতিক নেতারা সমর্থন দিয়ে এসেছেন, সেটাও প্রশ্নবোধক। একজন ব্যক্তি যার ব্যবসায়িক অংশীদাররা সন্ত্রাসী অর্থায়নের সাথে জড়িত, যার নেটওয়ার্ক নিয়ে গুরুতর অভিযোগ আছে, তাকে কেন এত সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে? নোবেল পুরস্কার কি এতটাই শক্তিশালী ঢাল যে, এর আড়ালে সবকিছু ঢাকা পড়ে যায়?

বাংলাদেশের মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে যে, তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য তারা লড়াই করেছে, তার বদলে তাদের মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি অবৈধ শাসনব্যবস্থা। ইউনুস যে সরকার চালাচ্ছেন, তার কোনো নৈতিক বা আইনগত ভিত্তি নেই। এটা একটা চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা, যেখানে জনগণের মতামতের কোনো মূল্য নেই।

সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, জুলাই মাসে যেসব তরুণ প্রাণ হারিয়েছে, তাদের রক্ত ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। তাদের পরিবারগুলো এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। কিন্তু যারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল, তারাই এখন ক্ষমতায় বসে আছে। এটা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়, এটা একটা ট্র্যাজেডি।

ইউনুসের গ্রামীণ সাম্রাজ্য যে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটা এখন স্পষ্ট। এটা একটা বিশাল নেটওয়ার্ক, যার সংযোগ বিস্তৃত বিশ্বজুড়ে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, কারা এর সাথে জড়িত, এবং এর আসল উদ্দেশ্য কী, এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখন জরুরি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ইউনুসের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে মানুষটি একসময় মাইক্রোক্রেডিটের জনক হিসেবে সম্মানিত ছিলেন, তিনি এখন দাঁড়িয়ে আছেন অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগের মুখে। এই অভিযোগ আর এড়ানো যাবে না, নোবেল পুরস্কারের আলো দিয়ে আর এই অন্ধকার ঢাকা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের মানুষ যারা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতা নিজের চোখে দেখেছে, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, তাদের কাছে এখন সত্যটা পরিষ্কার। এই অভ্যুত্থান কোনো গণআন্দোলন ছিল না, এটা ছিল একটা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আর এই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইউনুস এবং তার বিস্তৃত গ্রামীণ নেটওয়ার্ক।

এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিক তদন্তের। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে গ্রামীণ নেটওয়ার্ক কাজ করছে, সেখানকার অর্থের উৎস এবং ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা দরকার। কারা অর্থায়ন করেছে, কোথায় এই অর্থ গেছে, এবং এর মাধ্যমে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, এসব প্রশ্নের জবাব চাই।

দরিদ্রের বন্ধু সাজার মুখোশ পরে থাকা এই লোকটি আসলে কী, সেটা এখন সবার সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার। নোবেল পুরস্কার কোনো অপরাধ থেকে রক্ষাকবচ হতে পারে না। আর সন্ত্রাসী অর্থায়নকারীদের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা কোনো মামুলি বিষয় নয়।

বাংলাদেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে, তাদের গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এবং তাদের তরুণদের রক্ত ব্যবহার করা হয়েছে একটা অবৈধ ক্ষমতা দখলের জন্য। এই অপরাধের বিচার হতেই হবে। আর সেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে ইউনুসসহ সবাইকে, যারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ