অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে টেলিকম খাতের যে “সংস্কার” চলছে, তা আসলে দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করে বিদেশি কোম্পানির পকেট ভারী করার মহাপরিকল্পনা বলে অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক সিদ্ধান্তে গ্রামীণফোনের মতো বিদেশি মালিকানার কোম্পানিকে অভূতপূর্ব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, আর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটককে পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে।
দেশীঘদিন ধরেই খাতসংশ্লিষ্টরা বলে আসছেন, ইউনূস সাহেবের স্বপ্ন আসলে গ্রামীণফোন আর টেলিনরকে নিয়ে। এবার তার প্রমাণ মিলেছে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিলামে। গোল্ডেন ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত এই স্পেকট্রামের ২৫ মেগাহার্টজ নিলামে তোলা হচ্ছে, কিন্তু টেলিটকের জন্য এক খণ্ড ফ্রিকোয়েন্সিও রাখা হয়নি। অর্থাৎ, ইউনূস সরকার সরাসরি রাষ্ট্রের কোম্পানিকে বলছে, “তোমার আর বাঁচার দরকার নেই।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড না পেলে গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় কম বিটিএস দিয়েও ভালো কভারেজ দেওয়া টেলিটকের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে প্রতিযোগিতায় আরও পিছিয়ে পড়বে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি।
একজন বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট করে বলেছেন, “এটা টেলিটকের মৃত্যু পরোয়ানা ছাড়া কিছু না। একসময় যে টেলিটক বিদেশি কোম্পানির উচ্চ কলরেট ভেঙে জনগণকে স্বস্তি দিয়েছিল, সেই টেলিটককে এভাবে পরিকল্পিতভাবে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।”
সম্প্রতি টিআরএনবি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান ও দেশের শত শত আইএসপির প্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, বর্তমান নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তগুলো যদি কার্যকর হয়, তাহলে বাংলাদেশের টেলিকম খাত পুরোপুরি গ্রামীণফোন ও ভবিষ্যতে স্টারলিংকের মতো বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যাবে। হাজার হাজার দেশীয় ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।
দেশীয়দের বিরুদ্ধে একের পর এক আঘাত
বিদেশি স্টারলিংকের লাইসেন্স ফি রাখা হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ডলার, দেশীয় আইএসপির ফি ২৫ লাখ টাকা। গ্রামীণফোন-রবিদের বা এখন বাড়ি বাড়ি ফাইবার টানতে পারবে, হাজার হাজার দেশীয় আইএসপি ধ্বংস হয়ে যাবে।
বিটিআরসিকে পঙ্গবা করে পাঁচ মন্ত্রী-পাঁচ সচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ইউনূসের “সংস্কার” এর নামে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে রাবার স্ট্যাম্প বানানো হয়েছে।
দেশীয় উদ্যোক্তারা এখন প্রকাশ্যেই বলছেন: “ইউনূস সাহেব নোবেল পেয়েছেন গরিবের বন্ধু হয়ে, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তিনি শুধু গ্রামীণফোনের বন্ধু। টেলিটককে শেষ করে দিয়ে তিনি বিদেশি কোম্পানির হাতে পুরো টেলিকম খাত তুলে দিচ্ছেন। এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু না।”
একজন বিশিষ্ট টেলিকম বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “ড. ইউনূসের এই সিদ্ধান্তগুলো দেখে মনে হচ্ছে, তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের মতো গ্রামীণফোনকেও ‘দ্বিতীয় সাফল্য’ বানাতে চান। আর তার জন্য টেলিটককে বলি দেওয়া হচ্ছে।”

