কড়াইল বস্তিতে ১৫ শর বেশি ঘর পুড়ে ছাই হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পত্রিকার শিরোনাম: শেখ হাসিনার লকার থেকে উদ্ধার ৮৩২ ভরি সোনা!” অনেকের চোখেই এটি এখন ‘পরিকল্পিত ডাইভারশন’ ছাড়া কিছু নয়।
মঙ্গলবার বিকেলে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার পর পুরো দেশের দৃষ্টি চলে যায় সেদিকে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে। ঠিক সেদিন রাতেই হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে “৮৩২ ভরি সোনা”র খবর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও দুদকের যৌথ দল অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকার খুলে নাকি ৮৩২.৫১ ভরি সোনার গয়না পেয়েছে। লকার দুটি শেখ হাসিনার নামে নিবন্ধিত।
কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়। খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, “আমার লকারে কোনো সোনা নাই নাই। যদি ওরা বলে এগুলো আমার, তাহলে কড়াইল বস্তির পোড়া মানুষদের দিয়ে দিক। আমি কোনো আপত্তি করব না।”
এই একটি বাক্যেই পুরো খেলা উল্টে গেছে। যে সোনার গল্প দিয়ে জনগণের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হয়েছিল, সেই গল্পই এখন সরকারের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এটা ক্লাসিক ডাইভারশন টেকনিক। যখন একটা বড় দুর্যোগে জনরোষ বাড়ছে, তখন হঠাৎ একটা ‘সেনসেশনাল’ খবর ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা এবার একেবারে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন। তিনি সোনা দান করার কথা বলে নিজেকে জনগণের পাশে দাঁড় করিয়েছেন, আর সরকারকে ফাঁদে ফেলেছেন।”
গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, “কড়াইলের আগুনের খবর যখন সবচেয়ে বেশি ট্রেন্ড করছিল, ঠিক তখনই সোনার খবরটা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কাকতালীয় বলতে এতটাও কাকতালীয় হয় না। এখন সরকারের সামনে দুটো পথ: হয় সোনা বস্তিবাসীকে দিতে হবে, নয়তো স্বীকার করতে হবে এটা ছিল একটা গালগল্প। দুটোই তাদের জন্য বিপজ্জনক।”
এদিকে নেটিজেনরাও এ নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। অনেকেই লিখছেন, “এটা পুরোপুরি প্ল্যান করে করা হয়েছে। কিন্তু উনি (হাসিনা) এক লাইনে সব শেষ করে দিয়েছেন। এখন সোনা না দিলে জনগণ আরও ক্ষেপবে।”

