Monday, December 1, 2025

কড়াইল বস্তিতে আগুন, ইউনুসের সুবিধাভোগীদের ব্যবসায়ীক উচ্চাশা

কড়াইল বস্তিতে শনিবার বিকেলে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছে, মধ্যরাত পেরিয়ে গেলেও তা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ৯০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বস্তিতে প্রায় ৮০ হাজার দরিদ্র মানুষের বসবাস। এই মুহূর্তে হাজার হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের ঘরবাড়ি, সামান্য সম্পদ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যে মানুষগুলো দিনমজুরি করে কোনোমতে দুই বেলা খেয়ে বেঁচে থাকে, তারা আজ সর্বস্বান্ত।

আর ঠিক কয়েক দিন আগেই ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে এক সেমিনারে দাঁড়িয়ে বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর প্রকাশ্যে দাবি জানালেন যে কড়াইল বস্তি উচ্ছেদ করে সেখানে হাইটেক পার্ক বানাতে হবে। তিনি বললেন, নির্বাচিত সরকার এই কাজ করতে পারে না কারণ বস্তিবাসীদের ভোট আছে, কিন্তু বর্তমান অরাজনৈতিক সরকারের জন্য এটা একটা মোক্ষম সুযোগ। তার মতে, সেখানে একটা ভালো হাইটেক পার্ক হলে দেশি-বিদেশি কোম্পানিরা বিনিয়োগ করবে।

এই বক্তব্য শুনে যে কারো মাথায় প্রশ্ন আসবে, কোন মানসিকতা থেকে একজন মানুষ এভাবে দরিদ্র মানুষের আশ্রয় কেড়ে নেওয়ার কথা এত খোলাখুলি বলতে পারেন? ৮০ হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই? তারা কোথায় যাবে, কীভাবে বাঁচবে, এসব প্রশ্ন কি একবারও তার মনে এসেছে? নাকি দরিদ্র মানুষের জীবন তার কাছে এতটাই তুচ্ছ যে তাদের উচ্ছেদ করে সেখানে বড় বড় কোম্পানির অফিস বানানোই একমাত্র লক্ষ্য?

আরও উদ্বেগজনক হলো ঘটনার ক্রমপরম্পরা। সকালে এই দাবি উঠলো, আর বিকেলেই আগুন লাগলো। এটা কি নিছক কাকতালীয় ঘটনা? নাকি কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত? বস্তিতে আগুন লাগা নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু এই সময়টা এত সন্দেহজনক যে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগবে। কেউ যদি সেই জায়গায় হাইটেক পার্ক বানাতে চায়, তাহলে বস্তি পুড়িয়ে দেওয়াটা কি তার জন্য সবচেয়ে সহজ পথ নয়?

আলমাস কবীরের বক্তব্যে যে বিষয়টা সবচেয়ে ভয়ংকর তা হলো তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন যে নির্বাচিত সরকার এই কাজ করতে পারে না কারণ তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু যে সরকারের কোনো গণভিত্তি নেই, যাদের কাছে মানুষের ভোটের কোনো মূল্য নেই, তারা নির্দ্বিধায় এই কাজ করতে পারবে। এটা কি গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা নয়? যে দেশে দরিদ্র মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য কেউ থাকবে না, সেখানে শক্তিশালীরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে।

বিদেশি বিনিয়োগের কথা বলে এই ধরনের উচ্ছেদ যৌক্তিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের নামে যদি দরিদ্র মানুষকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন কার জন্য? যারা আগে থেকেই ধনী, তাদের আরও ধনী করার জন্য? গরীব মানুষ তো এই হাইটেক পার্কে চাকরি পাবে না, তাদের সেই যোগ্যতা নেই। তারা শুধু হারাবে তাদের ঘর, তাদের বসবাসের জায়গা, তাদের প্রতিবেশী, তাদের কমিউনিটি।

বর্তমান সরকার, যেটি কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি, তারা দরিদ্র মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবে এমন আশা করাও বোকামি। যাদের নিজেদের কোনো জনগণের সমর্থন নেই, তারা জনগণের স্বার্থ দেখবে কেন? তাদের কাছে জবাবদিহিতার কোনো ব্যাপার নেই। তারা যা খুশি তাই করতে পারে, কারণ তাদের আর নির্বাচনে যেতে হবে না।

ডক্টর ইউনুস এবং তার সরকার ক্ষমতায় এসেছে জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার পর। সেই সময় কত তরুণ প্রাণ গেছে, কত পরিবার ধ্বংস হয়েছে। আর এখন সেই সরকারের আমলে কড়াইল বস্তির মতো একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা চলছে। যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা দরিদ্র মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এমন ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত?

মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে ডক্টর ইউনুস যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, সেটাও এখানে প্রাসঙ্গিক। দরিদ্রদের উন্নয়নের নামে ব্যবসা করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে অনেক দিনের। উচ্চ সুদের হারে ঋণ দিয়ে দরিদ্রদের আরও দরিদ্র করার কথা বহু অর্থনীতিবিদ বলেছেন। এখন আবার দরিদ্রদের ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়ে সেখানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বসানোর পরিকল্পনা। এই ধরনের উন্নয়ন যার লাভ শুধু ধনীদের, গরীবদের জন্য আরও দুর্ভোগ বয়ে আনে।

আজ রাতে কড়াইল বস্তির হাজার হাজার শিশু ঠান্ডায় কাঁপছে, তাদের মায়েরা কাঁদছেন, বাবারা হতাশায় বসে আছেন। তাদের কাছে আর কিছু নেই। সকালে যে ঘরে ঘুম থেকে উঠেছিল, সন্ধ্যায় সেটা আর নেই। এই মানুষগুলোর যন্ত্রণা কি আলমাস কবীর বা তার মতো ব্যবসায়ীদের চোখে পড়ে? নাকি তারা শুধু জমির দাম আর বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে পান?

প্রশ্ন উঠছে, এই আগুনের ঘটনা আসলে দুর্ঘটনা নাকি সুপরিকল্পিত? যারা সকালে খোলাখুলি বস্তি উচ্ছেদের দাবি জানাচ্ছেন, তাদের ওপর সন্দেহ যাওয়াটা কি অস্বাভাবিক? ফায়ার সার্ভিস কেন এত ঘণ্টা পরেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না? সেখানে কি পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিট পাঠানো হয়েছে? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে পুরো বস্তি পুড়িয়ে শেষ করতে দেওয়া হচ্ছে?

যদি সত্যিই এই আগুনের পেছনে কোনো চক্রান্ত থেকে থাকে, তাহলে এটি শুধু একটি অপরাধই নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ৮০ হাজার মানুষকে রাতারাতি গৃহহীন করে দেওয়া, তাদের জীবিকা ধ্বংস করে দেওয়া, এটা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর যদি সরকারের মদদে এটা হয়ে থাকে, তাহলে এই সরকারের নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই।

আলমাস কবীরের বক্তব্য আসলে একটি বুর্জোয়া মানসিকতার প্রতিফলন যেখানে গরীব মানুষের কোনো অধিকার নেই। তারা যেখানে থাকে সেই জমি যদি লাভজনক ব্যবসার জন্য দরকার হয়, তাহলে তাদের সরিয়ে দিতে হবে। তারা কোথায় যাবে, কীভাবে বাঁচবে, সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। এই ধরনের চিন্তাভাবনা যে দেশে প্রকাশ্যে বলা হয়, সেই দেশে দরিদ্রদের ভবিষ্যৎ কত অন্ধকার তা সহজেই বোঝা যায়।

যখন কোনো সরকারের জবাবদিহিতা থাকে না, যখন তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়, তখন দরিদ্র আর প্রান্তিক মানুষের ওপর যেকোনো অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে। কড়াইল বস্তির মানুষ আজ এর শিকার, কাল হয়তো অন্য কেউ।

কড়াইল বস্তিতে শনিবার বিকেলে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছে, মধ্যরাত পেরিয়ে গেলেও তা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ৯০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বস্তিতে প্রায় ৮০ হাজার দরিদ্র মানুষের বসবাস। এই মুহূর্তে হাজার হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের ঘরবাড়ি, সামান্য সম্পদ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যে মানুষগুলো দিনমজুরি করে কোনোমতে দুই বেলা খেয়ে বেঁচে থাকে, তারা আজ সর্বস্বান্ত।

আর ঠিক কয়েক দিন আগেই ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে এক সেমিনারে দাঁড়িয়ে বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর প্রকাশ্যে দাবি জানালেন যে কড়াইল বস্তি উচ্ছেদ করে সেখানে হাইটেক পার্ক বানাতে হবে। তিনি বললেন, নির্বাচিত সরকার এই কাজ করতে পারে না কারণ বস্তিবাসীদের ভোট আছে, কিন্তু বর্তমান অরাজনৈতিক সরকারের জন্য এটা একটা মোক্ষম সুযোগ। তার মতে, সেখানে একটা ভালো হাইটেক পার্ক হলে দেশি-বিদেশি কোম্পানিরা বিনিয়োগ করবে।

এই বক্তব্য শুনে যে কারো মাথায় প্রশ্ন আসবে, কোন মানসিকতা থেকে একজন মানুষ এভাবে দরিদ্র মানুষের আশ্রয় কেড়ে নেওয়ার কথা এত খোলাখুলি বলতে পারেন? ৮০ হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কোনো চিন্তা নেই? তারা কোথায় যাবে, কীভাবে বাঁচবে, এসব প্রশ্ন কি একবারও তার মনে এসেছে? নাকি দরিদ্র মানুষের জীবন তার কাছে এতটাই তুচ্ছ যে তাদের উচ্ছেদ করে সেখানে বড় বড় কোম্পানির অফিস বানানোই একমাত্র লক্ষ্য?

আরও উদ্বেগজনক হলো ঘটনার ক্রমপরম্পরা। সকালে এই দাবি উঠলো, আর বিকেলেই আগুন লাগলো। এটা কি নিছক কাকতালীয় ঘটনা? নাকি কোনো সুপরিকল্পিত চক্রান্ত? বস্তিতে আগুন লাগা নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু এই সময়টা এত সন্দেহজনক যে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগবে। কেউ যদি সেই জায়গায় হাইটেক পার্ক বানাতে চায়, তাহলে বস্তি পুড়িয়ে দেওয়াটা কি তার জন্য সবচেয়ে সহজ পথ নয়?

আলমাস কবীরের বক্তব্যে যে বিষয়টা সবচেয়ে ভয়ংকর তা হলো তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন যে নির্বাচিত সরকার এই কাজ করতে পারে না কারণ তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু যে সরকারের কোনো গণভিত্তি নেই, যাদের কাছে মানুষের ভোটের কোনো মূল্য নেই, তারা নির্দ্বিধায় এই কাজ করতে পারবে। এটা কি গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা নয়? যে দেশে দরিদ্র মানুষের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য কেউ থাকবে না, সেখানে শক্তিশালীরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে।

বিদেশি বিনিয়োগের কথা বলে এই ধরনের উচ্ছেদ যৌক্তিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের নামে যদি দরিদ্র মানুষকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন কার জন্য? যারা আগে থেকেই ধনী, তাদের আরও ধনী করার জন্য? গরীব মানুষ তো এই হাইটেক পার্কে চাকরি পাবে না, তাদের সেই যোগ্যতা নেই। তারা শুধু হারাবে তাদের ঘর, তাদের বসবাসের জায়গা, তাদের প্রতিবেশী, তাদের কমিউনিটি।

বর্তমান সরকার, যেটি কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি, তারা দরিদ্র মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবে এমন আশা করাও বোকামি। যাদের নিজেদের কোনো জনগণের সমর্থন নেই, তারা জনগণের স্বার্থ দেখবে কেন? তাদের কাছে জবাবদিহিতার কোনো ব্যাপার নেই। তারা যা খুশি তাই করতে পারে, কারণ তাদের আর নির্বাচনে যেতে হবে না।

ডক্টর ইউনুস এবং তার সরকার ক্ষমতায় এসেছে জুলাইয়ের রক্তাক্ত দাঙ্গার পর। সেই সময় কত তরুণ প্রাণ গেছে, কত পরিবার ধ্বংস হয়েছে। আর এখন সেই সরকারের আমলে কড়াইল বস্তির মতো একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা চলছে। যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা দরিদ্র মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এমন ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত?

মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে ডক্টর ইউনুস যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, সেটাও এখানে প্রাসঙ্গিক। দরিদ্রদের উন্নয়নের নামে ব্যবসা করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে অনেক দিনের। উচ্চ সুদের হারে ঋণ দিয়ে দরিদ্রদের আরও দরিদ্র করার কথা বহু অর্থনীতিবিদ বলেছেন। এখন আবার দরিদ্রদের ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়ে সেখানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বসানোর পরিকল্পনা। এই ধরনের উন্নয়ন যার লাভ শুধু ধনীদের, গরীবদের জন্য আরও দুর্ভোগ বয়ে আনে।

আজ রাতে কড়াইল বস্তির হাজার হাজার শিশু ঠান্ডায় কাঁপছে, তাদের মায়েরা কাঁদছেন, বাবারা হতাশায় বসে আছেন। তাদের কাছে আর কিছু নেই। সকালে যে ঘরে ঘুম থেকে উঠেছিল, সন্ধ্যায় সেটা আর নেই। এই মানুষগুলোর যন্ত্রণা কি আলমাস কবীর বা তার মতো ব্যবসায়ীদের চোখে পড়ে? নাকি তারা শুধু জমির দাম আর বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে পান?

প্রশ্ন উঠছে, এই আগুনের ঘটনা আসলে দুর্ঘটনা নাকি সুপরিকল্পিত? যারা সকালে খোলাখুলি বস্তি উচ্ছেদের দাবি জানাচ্ছেন, তাদের ওপর সন্দেহ যাওয়াটা কি অস্বাভাবিক? ফায়ার সার্ভিস কেন এত ঘণ্টা পরেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না? সেখানে কি পর্যাপ্ত সংখ্যক ইউনিট পাঠানো হয়েছে? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে পুরো বস্তি পুড়িয়ে শেষ করতে দেওয়া হচ্ছে?

যদি সত্যিই এই আগুনের পেছনে কোনো চক্রান্ত থেকে থাকে, তাহলে এটি শুধু একটি অপরাধই নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ৮০ হাজার মানুষকে রাতারাতি গৃহহীন করে দেওয়া, তাদের জীবিকা ধ্বংস করে দেওয়া, এটা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর যদি সরকারের মদদে এটা হয়ে থাকে, তাহলে এই সরকারের নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই।

আলমাস কবীরের বক্তব্য আসলে একটি বুর্জোয়া মানসিকতার প্রতিফলন যেখানে গরীব মানুষের কোনো অধিকার নেই। তারা যেখানে থাকে সেই জমি যদি লাভজনক ব্যবসার জন্য দরকার হয়, তাহলে তাদের সরিয়ে দিতে হবে। তারা কোথায় যাবে, কীভাবে বাঁচবে, সেটা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। এই ধরনের চিন্তাভাবনা যে দেশে প্রকাশ্যে বলা হয়, সেই দেশে দরিদ্রদের ভবিষ্যৎ কত অন্ধকার তা সহজেই বোঝা যায়।

যখন কোনো সরকারের জবাবদিহিতা থাকে না, যখন তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়, তখন দরিদ্র আর প্রান্তিক মানুষের ওপর যেকোনো অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে। কড়াইল বস্তির মানুষ আজ এর শিকার, কাল হয়তো অন্য কেউ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ