নিজস্ব প্রতিবেদক
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসলে ক্ষুদ্র ঋণের (মাইক্রোক্রেডিট) মূল প্রবর্তক নন এবং জোবরা গ্রামে যখন এই কার্যক্রমের সূচনা হয় তখন তিনি সরাসরি এতে সম্পৃক্তও ছিলেন না, এমন অভিযোগ উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, ১৯৭৯ সালে ড. ইউনুস নিজে স্বাক্ষরিত একটি প্রজেক্ট প্রপোজালসহ কয়েকটি ঐতিহাসিক দলিলই প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা ও প্রাথমিক বাস্তবায়ন অন্যদের দ্বারা হয়েছিল।
দাবি করা হচ্ছে, ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে Rural Economic Program (REP) নামে একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়, যার অর্থায়ন করে ফোর্ড ফাউন্ডেশন। এই প্রকল্পের দুটি অ্যাকশন রিসার্চের একটিতে (তেভাগা খামার ও গভীর নলকূপ ব্যবস্থাপনা) ড. ইউনুস দায়িত্বে ছিলেন, কিন্তু জোবরা গ্রামে ভূমিহীন নারীদের ক্ষুদ্র ঋণ ও ব্যাংকিং সেবা সংক্রান্ত অ্যাকশন রিসার্চের দায়িত্বে ছিলেন স্বপন আদনান (স্বপন আহমেদ), নাসিরুদ্দিন ও এইচ আই লতিফী নামে তিন গবেষক।
১৯৭৯ সালের ১৫ মে ড. ইউনুস স্বাক্ষরিত REP-এর ফেজ-টু প্রজেক্ট প্রপোজালে (যার কপি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে) স্পষ্ট উল্লেখ আছে:- প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নেয়া।ভূমিহীনদের ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করেছে এবং কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ক্ষুদ্র ঋণ সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বপন আহমেদ, নাসিরুদ্দিন ও এইচ আই লতিফী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৯৭৮ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে “গ্রামীণ ব্যাংক প্রজেক্ট” নামে নতুন প্রকল্প অনুমোদন হয় এবং ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ড. ইউনূসকে শুধু বিভাগীয় প্রধান হিসেবে REP-এর দায়িত্ব থাকার কারণে প্রকল্প পরিচালক করা হয়। ১৯৯০ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পান মাসিক ৬,০০০ টাকা বেতনে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, ড. ইউনুস “ক্রেডিট ডাকাতি” করে ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তক হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ও নোবেল পুরস্কারসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননা বাগিয়ে নিয়েছেন, অথচ প্রকৃত কাজটি হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য গবেষকরা এবং তৎকালীন উপাচার্য ড. আব্দুল করিম ও পরবর্তী উপাচার্যদের নেতৃত্বে।
এখন পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই নতুন করে প্রকাশিত দলিল ও অভিযোগের বিপরীতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইতিহাসের এই বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, প্রকাশিত দলিলগুলো যদি সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যের গল্পটির মূল চরিত্র নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

