Monday, December 1, 2025

গুপ্ত শিবির রুবেলের নেতৃত্বে জুলাই আন্দোলনে পেটানো হয় ছাত্রীদের

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হয়েছিল একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন, যা পরে ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত হয়। কিন্তু এই আন্দোলনের প্রথম ধাপেই রাজনৈতিক শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপে এটি রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ১৫ জুলাই নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলার ঘটনা আজও সেই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছে।

সূত্র জানাচ্ছে, এই হামলার পিছনে ছিল গুপ্ত শিবিরের নেতৃত্ব, যারা ছাত্রলীগের ট্যাগ ব্যবহার করে আন্দোলনকে আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় জড়িত এক নাম এসেছে রুবেল খানের, যিনি তখন গুপ্তভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং এখন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৫ জুলাই দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন।ওই দিন একদল হামলাকারী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই হামলায় বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য হয়েছিলেন। এই হামলায় প্রায় ৩০০ জন আহত হন, যার মধ্যে অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থী। ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন করে জোরদার হয়, এবং এটি পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রের মতে, এই হামলার অন্যতম নেতা ছিলেন রুবেল খান নামের এক ব্যক্তি। তিনি তখন গুপ্তভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু বাস্তবে শিবিরের কর্মী। রুবেলের নেতৃত্বে অনেকে ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন, যাতে দায় চাপানো যায় আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের ওপর। এই কৌশলের ফলে আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়ে।

এই হামলার পটভূমি তৈরি হয় ১৪ জুলাই রাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে জামায়াত-শিবিরের নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেন। তারা দাবি করেন যে প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে অভিহিত করেছেন। এই বিকৃত প্রচারের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাত ১১টার পর শত শত শিক্ষার্থী ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে টিএসসি (বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ কমিশন) অফিসের সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রীরা এতে অংশ নেন।

পরের দিনই, ১৫ জুলাই, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে—যেমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের নামে শিবিরের কর্মীরা এতে সক্রিয় ছিলেন, যাতে আন্দোলনকে আরও বেগবান করা যায় এবং সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরি হয়। এই হামলায় কয়েকজন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে, যা আন্দোলনকে জুলাই বিপ্লবে রূপান্তরিত করে।

সূত্র জানায়, শুধু রুবেল খান নয়, জুলাই আন্দোলনে তার মতো অনেকে ছাত্রলীগের ট্যাগ ব্যবহার করেছেন। এর ফলে সমস্ত দায় চাপানো হয়েছে ছাত্রলীগের ওপর, যা আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন। এই কৌশলের মাধ্যমে শিবির আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এবং সরকারকে দুর্বল করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে ইউনূস সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে, কিন্তু জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে।

জামায়াত-শিবিরের এই গুপ্ত ভূমিকা নতুন নয়। ২০২৪-এর আন্দোলনে তারা বিএনপি-এর সঙ্গে মিলে ছাত্রদের ‘শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের এই ঘটনাগুলো শুধু ছাত্রীদের নির্যাতন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির গভীরতম সমস্যার প্রতিফলন। মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “১৫ জুলাইয়ের হামলা ছিল একটি ষড়যন্ত্রের অংশ, যেখানে শিবিরের মতো গুপ্ত শক্তি ছাত্রলীগের ছদ্মবেশে আন্দোলনকে উস্কে দিয়ে সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দেয়। এতে নারী ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যাতে আন্দোলনকে জেন্ডার-ভিত্তিক করে আরও সংবেদনশীল করা যায়।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হয়েছিল একটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন, যা পরে ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত হয়। কিন্তু এই আন্দোলনের প্রথম ধাপেই রাজনৈতিক শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপে এটি রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ১৫ জুলাই নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলার ঘটনা আজও সেই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছে।

সূত্র জানাচ্ছে, এই হামলার পিছনে ছিল গুপ্ত শিবিরের নেতৃত্ব, যারা ছাত্রলীগের ট্যাগ ব্যবহার করে আন্দোলনকে আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় জড়িত এক নাম এসেছে রুবেল খানের, যিনি তখন গুপ্তভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং এখন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৫ জুলাই দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন।ওই দিন একদল হামলাকারী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই হামলায় বিশেষভাবে নারী শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য হয়েছিলেন। এই হামলায় প্রায় ৩০০ জন আহত হন, যার মধ্যে অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থী। ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন করে জোরদার হয়, এবং এটি পুরো দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রের মতে, এই হামলার অন্যতম নেতা ছিলেন রুবেল খান নামের এক ব্যক্তি। তিনি তখন গুপ্তভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু বাস্তবে শিবিরের কর্মী। রুবেলের নেতৃত্বে অনেকে ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন, যাতে দায় চাপানো যায় আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের ওপর। এই কৌশলের ফলে আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়ে।

এই হামলার পটভূমি তৈরি হয় ১৪ জুলাই রাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে বিকৃত করে জামায়াত-শিবিরের নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেন। তারা দাবি করেন যে প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে অভিহিত করেছেন। এই বিকৃত প্রচারের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাত ১১টার পর শত শত শিক্ষার্থী ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে টিএসসি (বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ কমিশন) অফিসের সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রীরা এতে অংশ নেন।

পরের দিনই, ১৫ জুলাই, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে—যেমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের নামে শিবিরের কর্মীরা এতে সক্রিয় ছিলেন, যাতে আন্দোলনকে আরও বেগবান করা যায় এবং সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরি হয়। এই হামলায় কয়েকজন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে, যা আন্দোলনকে জুলাই বিপ্লবে রূপান্তরিত করে।

সূত্র জানায়, শুধু রুবেল খান নয়, জুলাই আন্দোলনে তার মতো অনেকে ছাত্রলীগের ট্যাগ ব্যবহার করেছেন। এর ফলে সমস্ত দায় চাপানো হয়েছে ছাত্রলীগের ওপর, যা আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন। এই কৌশলের মাধ্যমে শিবির আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে এবং সরকারকে দুর্বল করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে ইউনূস সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে, কিন্তু জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে।

জামায়াত-শিবিরের এই গুপ্ত ভূমিকা নতুন নয়। ২০২৪-এর আন্দোলনে তারা বিএনপি-এর সঙ্গে মিলে ছাত্রদের ‘শিল্ড’ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের এই ঘটনাগুলো শুধু ছাত্রীদের নির্যাতন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির গভীরতম সমস্যার প্রতিফলন। মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “১৫ জুলাইয়ের হামলা ছিল একটি ষড়যন্ত্রের অংশ, যেখানে শিবিরের মতো গুপ্ত শক্তি ছাত্রলীগের ছদ্মবেশে আন্দোলনকে উস্কে দিয়ে সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দেয়। এতে নারী ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যাতে আন্দোলনকে জেন্ডার-ভিত্তিক করে আরও সংবেদনশীল করা যায়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ