Monday, December 1, 2025

ইউনূসের পরিকল্পনায় বিদেশিদের কবজায় বন্দর, ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব

দেশের বন্দরগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রক্তপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক দশকে অর্থনৈতিক উত্থান ও প্রসারের পেছনে চট্টগ্রাম বন্দরসহ অন্যান্য বন্দরগুলোর অবদান অপরিসীম। রাজস্ব আয়, পণ্যের অবাধ চলাচল এবং সহনীয় ফি-মাশুলের কারণে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের কাছে বন্দরের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েছে। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি প্রক্রিয়া চলছে যার ফলে বন্দরগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্রের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ার মাস্টারমাইন্ড নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার জন্য পশ্চিমা শক্তির কাছে দেশের বন্দরগুলো তুলে দেওয়ার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে গোপন ও তড়িঘড়ি করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের প্রধান প্রধান বন্দরের টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কোন কোন টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে?
চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫টিই বিদেশি অপারেটরদের হাতে চলে গেছে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শুধুমাত্র জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এখনো বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজে পরিচালনা করছে।

লালদিয়ার চর কনটেইনার টার্মিনাল: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ডেনমার্কের মায়ের্স্ক-এর মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৪৮ বছর মেয়াদি (১৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) চুক্তি স্বাক্ষর। চুক্তির আর্থিক শর্তাবলী সম্পূর্ণ গোপন।

পানগাঁও নৌ টার্মিনাল: একই দিনে (১৭ নভেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএ-এর সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিটিসি): সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) পরিচালনা করছে। প্রতি টিইইউস থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাচ্ছে মাত্র ১৮ ডলার (সাধারণত ৮০-৯০ ডলার হয়), প্রথম আড়াই লাখ টিইইউসের ক্ষেত্রে। অতিরিক্ত টিইইউসে উদ্বৃত্ত রাজস্বের মাত্র ৩০% পাবে বন্দর, ৭০% পাবে আরএসজিটি।

বে টার্মিনাল: মেগা প্রকল্পের দুটি অংশ যথাক্রমে আবুধাবির ডিপি ওয়ার্ল্ড ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করবে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি): বর্তমানে নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগাং ড্রাইডক পরিচালনা করছে (৪৪% কনটেইনার হ্যান্ডলিং)। আগামী মাসের মধ্যে আবুধাবির ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের তোড়জোড় চলছে।

গোপনীয়তা ও তড়িঘড়ি: জনমনে ক্ষোভ
এসব চুক্তি এতটাই গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়েছে যে, কী পরিমাণ রাজস্ব শেয়ার, ট্যারিফ, মাশুল, শুল্ক-কর বাংলাদেশ পাবে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের চুক্তির জন্য কমপক্ষে ৬২ দিন সময় লাগার কথা থাকলেও মাত্র ১৩ দিনে (৪-১৭ নভেম্বর) দুটি বড় টার্মিনালের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এর ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলো যেকোনো সময় ফি-মাশুল বাড়াতে পারবে, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে ভোক্তার ঘাড়ে চাপবে, দীর্ঘমেয়াদি গোপন চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ (স্কপ)। শনিবার (২২ নভেম্বর ২০২৫) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত কনভেনশনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩০-৫০ বছর মেয়াদি এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার সাংবিধানিক, আইনি ও নৈতিক বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের, কিন্তু এই সম্পদের ওপর স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একটি ম্যান্ডেটবিহীন প্রশাসনের নেই বলে মনে করেন আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই গোপনীয়তা ও তড়িঘড়ি প্রক্রিয়া দেখে অনেকেই মনে করছেন, এসব চুক্তির পেছনে সাধারণ জনগণের স্বার্থ নয়, বরং কোনো বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তির স্বার্থই কাজ করছে। ফলে দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের বন্দরগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান রক্তপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক দশকে অর্থনৈতিক উত্থান ও প্রসারের পেছনে চট্টগ্রাম বন্দরসহ অন্যান্য বন্দরগুলোর অবদান অপরিসীম। রাজস্ব আয়, পণ্যের অবাধ চলাচল এবং সহনীয় ফি-মাশুলের কারণে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের কাছে বন্দরের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েছে। কিন্তু বর্তমানে এমন একটি প্রক্রিয়া চলছে যার ফলে বন্দরগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্রের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ার মাস্টারমাইন্ড নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার জন্য পশ্চিমা শক্তির কাছে দেশের বন্দরগুলো তুলে দেওয়ার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে গোপন ও তড়িঘড়ি করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের প্রধান প্রধান বন্দরের টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কোন কোন টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে যাচ্ছে?
চট্টগ্রাম বন্দরের মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫টিই বিদেশি অপারেটরদের হাতে চলে গেছে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শুধুমাত্র জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এখনো বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজে পরিচালনা করছে।

লালদিয়ার চর কনটেইনার টার্মিনাল: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ডেনমার্কের মায়ের্স্ক-এর মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৪৮ বছর মেয়াদি (১৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) চুক্তি স্বাক্ষর। চুক্তির আর্থিক শর্তাবলী সম্পূর্ণ গোপন।

পানগাঁও নৌ টার্মিনাল: একই দিনে (১৭ নভেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএ-এর সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিটিসি): সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) পরিচালনা করছে। প্রতি টিইইউস থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাচ্ছে মাত্র ১৮ ডলার (সাধারণত ৮০-৯০ ডলার হয়), প্রথম আড়াই লাখ টিইইউসের ক্ষেত্রে। অতিরিক্ত টিইইউসে উদ্বৃত্ত রাজস্বের মাত্র ৩০% পাবে বন্দর, ৭০% পাবে আরএসজিটি।

বে টার্মিনাল: মেগা প্রকল্পের দুটি অংশ যথাক্রমে আবুধাবির ডিপি ওয়ার্ল্ড ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করবে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি): বর্তমানে নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগাং ড্রাইডক পরিচালনা করছে (৪৪% কনটেইনার হ্যান্ডলিং)। আগামী মাসের মধ্যে আবুধাবির ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের তোড়জোড় চলছে।

গোপনীয়তা ও তড়িঘড়ি: জনমনে ক্ষোভ
এসব চুক্তি এতটাই গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয়েছে যে, কী পরিমাণ রাজস্ব শেয়ার, ট্যারিফ, মাশুল, শুল্ক-কর বাংলাদেশ পাবে, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের চুক্তির জন্য কমপক্ষে ৬২ দিন সময় লাগার কথা থাকলেও মাত্র ১৩ দিনে (৪-১৭ নভেম্বর) দুটি বড় টার্মিনালের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এর ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলো যেকোনো সময় ফি-মাশুল বাড়াতে পারবে, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে ভোক্তার ঘাড়ে চাপবে, দীর্ঘমেয়াদি গোপন চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ (স্কপ)। শনিবার (২২ নভেম্বর ২০২৫) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত কনভেনশনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩০-৫০ বছর মেয়াদি এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করার সাংবিধানিক, আইনি ও নৈতিক বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের, কিন্তু এই সম্পদের ওপর স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একটি ম্যান্ডেটবিহীন প্রশাসনের নেই বলে মনে করেন আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই গোপনীয়তা ও তড়িঘড়ি প্রক্রিয়া দেখে অনেকেই মনে করছেন, এসব চুক্তির পেছনে সাধারণ জনগণের স্বার্থ নয়, বরং কোনো বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তির স্বার্থই কাজ করছে। ফলে দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ