Monday, December 1, 2025

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: বিচার নয়, এক রাজনৈতিক নাটক

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত এই তথাকথিত রায় কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল নয়; এটি ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি আঘাত। আইসিটি-তে এই মামলা শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই স্পষ্ট ছিল এটি একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ, কোনো নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়া নয়। ট্রাইব্যুনালটির কার্যক্রম ছিল এক ধরনের ক্যাঙ্গারু কোর্টের মতো, যেখানে শুনানি শুরু হওয়ার আগেই যেন রায় লিখে রাখা হয়েছিল। মামলাটি দ্রুতগতিতে এগোনো, নানা অনিয়ম ও গোপন কারচুপি সবকিছুই পরিচালিত হয়েছে সেই শক্তিগুলোর কঠোর নিয়ন্ত্রণে, যারা যেকোনো মূল্যে হাসিনাকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।

এই মামলায় কোনো বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়নি, জেরা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। সঠিক তদন্ত বা বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়াই প্রমাণ হিসেবে যা-ই আনা হয়েছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। আদালত তার সাংবিধানিক অধিকার নিজ পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের স্বাধীনতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। পরিবর্তে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারের নিয়োজিত একটি “আইনজীবীদের” দল, যারা কার্যত অভিযোগকারী পক্ষেই হিসেবে কাজ করেছে।

পুরো বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে প্রোপাগান্ডা-নির্ভর গল্প ও রাজনৈতিক চাপের ওপর ভর করে। আধুনিক বিচারব্যবস্থার কোনো ন্যূনতম মানও এখানে রক্ষা করা হয়নি। এ বিচার কখনোই সত্য অনুসন্ধানের জন্য ছিল না। এর উদ্দেশ্য ছিল একজন নেত্রীকে শাস্তি দেওয়া, একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য ভেঙে ফেলা এবং গণসমর্থনহীন একটি শাসনকে কৃত্রিম বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা। বাংলাদেশ যা দেখেছে, তা ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা নয় বরং ন্যায়ের সুস্পষ্ট ধ্বংস। আগে রায় লেখা হয়েছে, তারপর সেই রায়কে বৈধতার ছায়া দিতে সাজানো হয়েছে এক বিচারের নাটক।

আইসিটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম প্রথম দিন থেকেই দেখিয়েছে, এটি কোনো নিরপেক্ষ বিচারকেন্দ্র নয়, বরং নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক উপসংহারে পৌঁছানোর জন্য নির্মিত একটি কাঠামো। এখানে তথ্য যাচাই বা সত্য খোঁজার কোনো প্রচেষ্টা ছিল না বরং ইতিমধ্যেই নির্ধারিত একটি বর্ণনাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। পুরো প্রক্রিয়াই ছিল ন্যায়বিচারের মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একমুখী।

কার্যক্রমের শুরু থেকেই অসামঞ্জস্যতা ছিল প্রকট। অভিযোগকারী পক্ষ পেয়েছে অবাধ ক্ষমতা তারা নিজের মতো করে নথি পেশ করেছে, নিজের গল্প সাজিয়েছে, এমনকি ভিত্তিহীন দাবিও উপস্থাপন করেছে। বিপরীতে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী রাখা হয়েছে কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির জন্য।

আদালত কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে বোঝা যাচ্ছিল এটা কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া নয়, বরং সাজানো এক নাট্যমঞ্চ। বিচারকদের আচরণ ছিল স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট; অভিযোগকারী পক্ষ যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বক্তব্য রাখছিল, তা যেন ইঙ্গিত করছিল তারা আগেই রায় জেনে এসেছে। একই সময়ে শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবীদের ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছিল। পরিস্থিতি এতটাই একপেশে ছিল যে “দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ” আধুনিক বিচারব্যবস্থার এই মৌলিক নীতির কোনো চিহ্নই সেখানে দেখা যায়নি।

এটা ছিল এমন এক ট্রাইব্যুনাল, যার উদ্দেশ্য ছিল না অভিযোগ যাচাই করা বা সত্য উদঘাটন করা; বরং আদালতের বাইরেই নেওয়া একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বৈধতার রূপ দেওয়া। রায়টি কোনো বিচক্ষণ বিবেচনার ফল নয় এটি ছিল এক নাটকের শেষ দৃশ্য, যেখানে উদ্দেশ্য ছিল একটি পূর্বনির্ধারিত পরিণতিকে বৈধতা দেওয়া। কাঠামোগত, প্রক্রিয়াগত এবং আচরণগত প্রতিটি দিক থেকে এটি ছিল এক ধরনের ক্যাঙ্গারু কোর্ট শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তৈরি একটি যন্ত্র, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়।

এই তথাকথিত আইসিটি বিচারের সবচেয়ে প্রকট বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্বাচনী ন্যায়বিচারহীনতা। অন্তর্বর্তী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘ ও রক্তাক্ত সহিংসতার ইতিহাস। তারা পুলিশের ওপর হামলা, আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, দাঙ্গা, লক্ষ্যভিত্তিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি, কোনো তদন্ত শুরু হয়নি, এমনকি প্রতীকী একটি মামলাও দায়ের করা হয়নি।

তাদের অপরাধগুলোকে চুপিসারে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে, তাদের সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে, আর তাদের নেতাদের রক্ষা করেছে সেই রাষ্ট্রই যে রাষ্ট্র ন্যায়বিচারের দাবি করে বেড়ায়। এই অসম ন্যায়বিচারই প্রমাণ করে, বিচার নয় রাজনৈতিক সুবিধা ছিল এই প্রক্রিয়ার আসল লক্ষ্য।

প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তি যেন একজোট হয়েছে শুধুই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার গল্প তৈরির লক্ষ্যে। যেসব অভিযোগ আগে খারিজ হয়েছিল, যাচাই করে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল বা আইনিভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল সেগুলো রাতারাতি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে, নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে এবং শাসকগোষ্ঠীর পছন্দের পূর্বলিখিত ন্যারেটিভের সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি–জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিদের আনা অভিযোগগুলো এভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যেন তাদের বলা প্রতিটি কথাই অকাট্য সত্য। অথচ তাদের নিজেদেরই দীর্ঘ রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। অপরদিকে, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও প্রমাণ ছিল, সেগুলো যেন হাওয়ার মতো উধাও হয়ে গেছে।

আদালত কক্ষের ভেতরেও এই অসমতা ছিল প্রকট। অভিযোগকারী পক্ষের প্রতিনিধিরা ছিলেন প্রকাশ্য রাজনৈতিক আনুগত্যসম্পন্ন, যাদের আচরণ অনেক সময় আইনজীবীর চেয়ে রাজনৈতিক কর্মীর মতো মনে হয়েছে। তারা মিডিয়ায় অবাধ প্রবেশাধিকার পেয়েছিল; সেখানে তারা প্রচারণামূলক বক্তব্য দিয়েছে, রাজনৈতিক ভাষণ রেখেছে এবং জনমতকে একটি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিপরীতে প্রতিরক্ষা পক্ষকে ক্রমাগতভাবে নীরব করা হয়েছে, সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পুরো প্রক্রিয়া থেকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কারচুপির সবচেয়ে প্রকাশ্য ও উদ্বেগজনক দিক ছিল জেরা নিষিদ্ধ করা, যা যে কোনো বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। সাক্ষ্যগুলো যাচাই বা প্রশ্ন ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে; সাক্ষীদের সামনে দাঁড়িয়ে জবাবদিহির সুযোগ দেওয়া হয়নি। আর যেসব সাক্ষ্য কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক গল্পের সাথে মিলেনি, সেগুলোকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। জেরা ছাড়া বিচার শুধু ত্রুটিপূর্ণ নয় আইনগতভাবেই তা শূন্য। বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রশ্নহীন সাক্ষ্যকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে মেনে নেয় না।

এমন ভেঙে পড়া, অসম ও অনির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ার ওপর দাঁড়িয়েই দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনার মতো একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড। এটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত দুর্বল।

এরপর এসেছে সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘন: নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সাংবিধানিক অধিকার থেকেও শেখ হাসিনাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচিত একটি আইনজীবীর দল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা প্রতিরক্ষাকারীর ভূমিকা না নিয়ে বরং নিস্ক্রিয় পর্যবেক্ষকের মতো থেকেছে। নিজের আইনজীবী নেই, সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষমতা নেই, নিজের যুক্তি উপস্থাপনের স্বাধীনতা নেই এসবের মধ্যে যা ঘটেছে তা বিচার নয়, বরং সাজানো একটি রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট।

জেড আই খান পান্নার পক্ষে দাঁড়ানোর আবেদন আইসিটির দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়া এই অপব্যবস্থার আরেকটি সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত। পুরো প্রক্রিয়া ন্যায়বিচারের কোনো ছাপ বহন করেনি। এটি ছিল একজন নেত্রীকে লক্ষ্য করে সংগঠিত ও পরিকল্পিত এক টার্গেটিং। একই সময়ে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা পেয়েছে পূর্ণ রেহাই, সুরক্ষা এবং বিচার কক্ষের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ।

নির্বাচনীভাবে সাজানো অভিযোগ, প্রক্রিয়াগত কারচুপি এবং মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণ কেড়ে নেওয়া এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আইসিটি হয়ে উঠেছে সত্য অনুসন্ধানের স্থান নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার।

যখন আদালত কক্ষ এক ধরনের রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ নিতে শুরু করল, তখন মিডিয়া হয়ে উঠল শাসকগোষ্ঠীর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। সংবাদমাধ্যম তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন করার বদলে ছাপিয়েছে আগে থেকেই লেখা একটি গল্প। যেখানে শেখ হাসিনাকে রায় ঘোষণার বহু আগেই দোষী ধরে নেওয়া হয়েছে। টকশো, প্যানেল আলোচনা এবং সাজানো “ইনসাইডার লিক” সব মিলিয়ে জনমতকে গঠন করা হয়েছে, জানানো নয় বরং প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে।

অভিযোগকারীদের নির্বাচিত তথ্যগুলোতে সত্য ধরে প্রচার করা হয়েছে, আর হাসিনার পক্ষে যেকোনো তথ্যকে হয় নীরব করা হয়েছে, নয়তো তুচ্ছ করে খারিজ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নানা অনিয়ম, রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত অভিযোগ, বাধাপ্রাপ্ত আইনী ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন এসব গুরুতর প্রশ্নকে সুবিধামতো মিডিয়া উপেক্ষা করেছে। গঠনমূলক সত্য-যাচাইয়ের জায়গায় এসেছে চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ও সাউন্ডবাইট।

এই পরিবেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শক্ত প্রমাণের প্রয়োজনই পড়েনি। প্রচারের প্রভাবই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় শক্তি। মিডিয়া এমন এক জনসম্মতি তৈরি করেছে যা নিয়মতান্ত্রিক বিচারপ্রক্রিয়াকে ছাড়িয়ে সামনে চলে এসেছে। আদালত যখন আনুষ্ঠানিক রায় দিল, ততক্ষণে মিডিয়া অনেক আগেই নিজেদের রায় দিয়ে ফেলেছিল।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিটি’র রায় দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক ইচ্ছাকৃত আইনি লঙ্ঘনের ওপর। যা পুরো বিচারকে বৈধতার ভিত্তি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাকে তার মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তার বদলে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রনির্ভর একটি আইনজীবীর দল, যারা কার্যত অভিযোগকারী পক্ষকে কোনো চ্যালেঞ্জই জানায়নি।

সাক্ষ্য যাচাইয়ের সবচেয়ে মৌলিক হাতিয়ার জেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার পক্ষের সাক্ষীদের উপস্থাপনেও বাধা দেওয়া হয়েছে। বিচার চলাকালীনই আইন সংশোধন করে এমন অভিযোগকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে যেগুলোর শুরুতে কোনো আইনগত ভিত্তিই ছিল না। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিচারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, ট্রাইব্যুনালকে শাসকগোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি অংশে পরিণত করেছে।

যেখানে শেখ হাসিনার অধিকারগুলো ধাপে ধাপে কেড়ে ফেলা হয়েছে, সেখানে শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠদের দেওয়া হয়েছে পূর্ণ দায়মুক্তি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপেক্ষা করা হয়েছে, মামলা খারিজ করা হয়েছে, তাদের আইনজীবীদের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এমনকি সাক্ষ্যও কঠোরভাবে যাচাই করা হয়নি। এই পুরো কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতার চাপ পড়েছে শেখ হাসিনার ওপর, যাকে কার্যত কোনো সুরক্ষা ছাড়াই রাখার চেষ্টা হয়েছে।

এই রায়ের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত মনে হয়েছে, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্মিত ছিল না। এটি প্রমাণ, সাক্ষ্য বা আইনগত মানদণ্ডের ওপর দাঁড়ানো কোনো রায় নয় বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের একটি সংগঠিত প্রকাশ। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট যে নেত্রীকে শাসকগোষ্ঠী ভয় পায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া, আর যাদের তারা রক্ষা করতে চায় তাদের সুরক্ষা দেওয়া। প্রতিটি দিক থেকেই এই রায় ন্যায়বিচারের ছদ্মবেশে প্রতিশোধের প্রতিচ্ছবি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত এই তথাকথিত রায় কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল নয়; এটি ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি আঘাত। আইসিটি-তে এই মামলা শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই স্পষ্ট ছিল এটি একটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ, কোনো নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়া নয়। ট্রাইব্যুনালটির কার্যক্রম ছিল এক ধরনের ক্যাঙ্গারু কোর্টের মতো, যেখানে শুনানি শুরু হওয়ার আগেই যেন রায় লিখে রাখা হয়েছিল। মামলাটি দ্রুতগতিতে এগোনো, নানা অনিয়ম ও গোপন কারচুপি সবকিছুই পরিচালিত হয়েছে সেই শক্তিগুলোর কঠোর নিয়ন্ত্রণে, যারা যেকোনো মূল্যে হাসিনাকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।

এই মামলায় কোনো বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়নি, জেরা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি। সঠিক তদন্ত বা বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়াই প্রমাণ হিসেবে যা-ই আনা হয়েছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। আদালত তার সাংবিধানিক অধিকার নিজ পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের স্বাধীনতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। পরিবর্তে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারের নিয়োজিত একটি “আইনজীবীদের” দল, যারা কার্যত অভিযোগকারী পক্ষেই হিসেবে কাজ করেছে।

পুরো বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে প্রোপাগান্ডা-নির্ভর গল্প ও রাজনৈতিক চাপের ওপর ভর করে। আধুনিক বিচারব্যবস্থার কোনো ন্যূনতম মানও এখানে রক্ষা করা হয়নি। এ বিচার কখনোই সত্য অনুসন্ধানের জন্য ছিল না। এর উদ্দেশ্য ছিল একজন নেত্রীকে শাস্তি দেওয়া, একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য ভেঙে ফেলা এবং গণসমর্থনহীন একটি শাসনকে কৃত্রিম বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা। বাংলাদেশ যা দেখেছে, তা ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা নয় বরং ন্যায়ের সুস্পষ্ট ধ্বংস। আগে রায় লেখা হয়েছে, তারপর সেই রায়কে বৈধতার ছায়া দিতে সাজানো হয়েছে এক বিচারের নাটক।

আইসিটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম প্রথম দিন থেকেই দেখিয়েছে, এটি কোনো নিরপেক্ষ বিচারকেন্দ্র নয়, বরং নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক উপসংহারে পৌঁছানোর জন্য নির্মিত একটি কাঠামো। এখানে তথ্য যাচাই বা সত্য খোঁজার কোনো প্রচেষ্টা ছিল না বরং ইতিমধ্যেই নির্ধারিত একটি বর্ণনাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। পুরো প্রক্রিয়াই ছিল ন্যায়বিচারের মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একমুখী।

কার্যক্রমের শুরু থেকেই অসামঞ্জস্যতা ছিল প্রকট। অভিযোগকারী পক্ষ পেয়েছে অবাধ ক্ষমতা তারা নিজের মতো করে নথি পেশ করেছে, নিজের গল্প সাজিয়েছে, এমনকি ভিত্তিহীন দাবিও উপস্থাপন করেছে। বিপরীতে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী রাখা হয়েছে কেবল আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির জন্য।

আদালত কক্ষের ভেতরের পরিবেশ দেখে বোঝা যাচ্ছিল এটা কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া নয়, বরং সাজানো এক নাট্যমঞ্চ। বিচারকদের আচরণ ছিল স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট; অভিযোগকারী পক্ষ যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বক্তব্য রাখছিল, তা যেন ইঙ্গিত করছিল তারা আগেই রায় জেনে এসেছে। একই সময়ে শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবীদের ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছিল। পরিস্থিতি এতটাই একপেশে ছিল যে “দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ” আধুনিক বিচারব্যবস্থার এই মৌলিক নীতির কোনো চিহ্নই সেখানে দেখা যায়নি।

এটা ছিল এমন এক ট্রাইব্যুনাল, যার উদ্দেশ্য ছিল না অভিযোগ যাচাই করা বা সত্য উদঘাটন করা; বরং আদালতের বাইরেই নেওয়া একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বৈধতার রূপ দেওয়া। রায়টি কোনো বিচক্ষণ বিবেচনার ফল নয় এটি ছিল এক নাটকের শেষ দৃশ্য, যেখানে উদ্দেশ্য ছিল একটি পূর্বনির্ধারিত পরিণতিকে বৈধতা দেওয়া। কাঠামোগত, প্রক্রিয়াগত এবং আচরণগত প্রতিটি দিক থেকে এটি ছিল এক ধরনের ক্যাঙ্গারু কোর্ট শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তৈরি একটি যন্ত্র, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়।

এই তথাকথিত আইসিটি বিচারের সবচেয়ে প্রকট বৈশিষ্ট্য হলো এর নির্বাচনী ন্যায়বিচারহীনতা। অন্তর্বর্তী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে রয়েছে দীর্ঘ ও রক্তাক্ত সহিংসতার ইতিহাস। তারা পুলিশের ওপর হামলা, আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, দাঙ্গা, লক্ষ্যভিত্তিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়নি, কোনো তদন্ত শুরু হয়নি, এমনকি প্রতীকী একটি মামলাও দায়ের করা হয়নি।

তাদের অপরাধগুলোকে চুপিসারে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে, তাদের সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে, আর তাদের নেতাদের রক্ষা করেছে সেই রাষ্ট্রই যে রাষ্ট্র ন্যায়বিচারের দাবি করে বেড়ায়। এই অসম ন্যায়বিচারই প্রমাণ করে, বিচার নয় রাজনৈতিক সুবিধা ছিল এই প্রক্রিয়ার আসল লক্ষ্য।

প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তি যেন একজোট হয়েছে শুধুই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার গল্প তৈরির লক্ষ্যে। যেসব অভিযোগ আগে খারিজ হয়েছিল, যাচাই করে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল বা আইনিভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল সেগুলো রাতারাতি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে, নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে এবং শাসকগোষ্ঠীর পছন্দের পূর্বলিখিত ন্যারেটিভের সাথে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি–জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিদের আনা অভিযোগগুলো এভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যেন তাদের বলা প্রতিটি কথাই অকাট্য সত্য। অথচ তাদের নিজেদেরই দীর্ঘ রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। অপরদিকে, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও প্রমাণ ছিল, সেগুলো যেন হাওয়ার মতো উধাও হয়ে গেছে।

আদালত কক্ষের ভেতরেও এই অসমতা ছিল প্রকট। অভিযোগকারী পক্ষের প্রতিনিধিরা ছিলেন প্রকাশ্য রাজনৈতিক আনুগত্যসম্পন্ন, যাদের আচরণ অনেক সময় আইনজীবীর চেয়ে রাজনৈতিক কর্মীর মতো মনে হয়েছে। তারা মিডিয়ায় অবাধ প্রবেশাধিকার পেয়েছিল; সেখানে তারা প্রচারণামূলক বক্তব্য দিয়েছে, রাজনৈতিক ভাষণ রেখেছে এবং জনমতকে একটি নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিপরীতে প্রতিরক্ষা পক্ষকে ক্রমাগতভাবে নীরব করা হয়েছে, সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পুরো প্রক্রিয়া থেকে কার্যত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কারচুপির সবচেয়ে প্রকাশ্য ও উদ্বেগজনক দিক ছিল জেরা নিষিদ্ধ করা, যা যে কোনো বিচার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। সাক্ষ্যগুলো যাচাই বা প্রশ্ন ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে; সাক্ষীদের সামনে দাঁড়িয়ে জবাবদিহির সুযোগ দেওয়া হয়নি। আর যেসব সাক্ষ্য কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক গল্পের সাথে মিলেনি, সেগুলোকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। জেরা ছাড়া বিচার শুধু ত্রুটিপূর্ণ নয় আইনগতভাবেই তা শূন্য। বিশ্বের কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রশ্নহীন সাক্ষ্যকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে মেনে নেয় না।

এমন ভেঙে পড়া, অসম ও অনির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ার ওপর দাঁড়িয়েই দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনার মতো একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড। এটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত দুর্বল।

এরপর এসেছে সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘন: নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সাংবিধানিক অধিকার থেকেও শেখ হাসিনাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচিত একটি আইনজীবীর দল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা প্রতিরক্ষাকারীর ভূমিকা না নিয়ে বরং নিস্ক্রিয় পর্যবেক্ষকের মতো থেকেছে। নিজের আইনজীবী নেই, সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষমতা নেই, নিজের যুক্তি উপস্থাপনের স্বাধীনতা নেই এসবের মধ্যে যা ঘটেছে তা বিচার নয়, বরং সাজানো একটি রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট।

জেড আই খান পান্নার পক্ষে দাঁড়ানোর আবেদন আইসিটির দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়া এই অপব্যবস্থার আরেকটি সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত। পুরো প্রক্রিয়া ন্যায়বিচারের কোনো ছাপ বহন করেনি। এটি ছিল একজন নেত্রীকে লক্ষ্য করে সংগঠিত ও পরিকল্পিত এক টার্গেটিং। একই সময়ে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা পেয়েছে পূর্ণ রেহাই, সুরক্ষা এবং বিচার কক্ষের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ।

নির্বাচনীভাবে সাজানো অভিযোগ, প্রক্রিয়াগত কারচুপি এবং মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণ কেড়ে নেওয়া এই তিন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আইসিটি হয়ে উঠেছে সত্য অনুসন্ধানের স্থান নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার।

যখন আদালত কক্ষ এক ধরনের রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ নিতে শুরু করল, তখন মিডিয়া হয়ে উঠল শাসকগোষ্ঠীর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। সংবাদমাধ্যম তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন করার বদলে ছাপিয়েছে আগে থেকেই লেখা একটি গল্প। যেখানে শেখ হাসিনাকে রায় ঘোষণার বহু আগেই দোষী ধরে নেওয়া হয়েছে। টকশো, প্যানেল আলোচনা এবং সাজানো “ইনসাইডার লিক” সব মিলিয়ে জনমতকে গঠন করা হয়েছে, জানানো নয় বরং প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে।

অভিযোগকারীদের নির্বাচিত তথ্যগুলোতে সত্য ধরে প্রচার করা হয়েছে, আর হাসিনার পক্ষে যেকোনো তথ্যকে হয় নীরব করা হয়েছে, নয়তো তুচ্ছ করে খারিজ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নানা অনিয়ম, রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত অভিযোগ, বাধাপ্রাপ্ত আইনী ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন এসব গুরুতর প্রশ্নকে সুবিধামতো মিডিয়া উপেক্ষা করেছে। গঠনমূলক সত্য-যাচাইয়ের জায়গায় এসেছে চাঞ্চল্যকর শিরোনাম ও সাউন্ডবাইট।

এই পরিবেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শক্ত প্রমাণের প্রয়োজনই পড়েনি। প্রচারের প্রভাবই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় শক্তি। মিডিয়া এমন এক জনসম্মতি তৈরি করেছে যা নিয়মতান্ত্রিক বিচারপ্রক্রিয়াকে ছাড়িয়ে সামনে চলে এসেছে। আদালত যখন আনুষ্ঠানিক রায় দিল, ততক্ষণে মিডিয়া অনেক আগেই নিজেদের রায় দিয়ে ফেলেছিল।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইসিটি’র রায় দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক ইচ্ছাকৃত আইনি লঙ্ঘনের ওপর। যা পুরো বিচারকে বৈধতার ভিত্তি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তাকে তার মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তার বদলে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রনির্ভর একটি আইনজীবীর দল, যারা কার্যত অভিযোগকারী পক্ষকে কোনো চ্যালেঞ্জই জানায়নি।

সাক্ষ্য যাচাইয়ের সবচেয়ে মৌলিক হাতিয়ার জেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার পক্ষের সাক্ষীদের উপস্থাপনেও বাধা দেওয়া হয়েছে। বিচার চলাকালীনই আইন সংশোধন করে এমন অভিযোগকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে যেগুলোর শুরুতে কোনো আইনগত ভিত্তিই ছিল না। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বিচারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, ট্রাইব্যুনালকে শাসকগোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি অংশে পরিণত করেছে।

যেখানে শেখ হাসিনার অধিকারগুলো ধাপে ধাপে কেড়ে ফেলা হয়েছে, সেখানে শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠদের দেওয়া হয়েছে পূর্ণ দায়মুক্তি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপেক্ষা করা হয়েছে, মামলা খারিজ করা হয়েছে, তাদের আইনজীবীদের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছে, এমনকি সাক্ষ্যও কঠোরভাবে যাচাই করা হয়নি। এই পুরো কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতার চাপ পড়েছে শেখ হাসিনার ওপর, যাকে কার্যত কোনো সুরক্ষা ছাড়াই রাখার চেষ্টা হয়েছে।

এই রায়ের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত মনে হয়েছে, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্মিত ছিল না। এটি প্রমাণ, সাক্ষ্য বা আইনগত মানদণ্ডের ওপর দাঁড়ানো কোনো রায় নয় বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের একটি সংগঠিত প্রকাশ। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট যে নেত্রীকে শাসকগোষ্ঠী ভয় পায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া, আর যাদের তারা রক্ষা করতে চায় তাদের সুরক্ষা দেওয়া। প্রতিটি দিক থেকেই এই রায় ন্যায়বিচারের ছদ্মবেশে প্রতিশোধের প্রতিচ্ছবি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ