Monday, December 1, 2025

১৪ মাসে ঢাকায ৪৫৬ খুন, নিরাপত্তাহীনতার গভীর সঙ্কটে ডুবছে দেশ

সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কাঠামো এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে রাজধানী ঢাকাকে অনেকে “লাশের শহর” বলে অভিহিত করছেন। সমালোচকদের অভিযোগ— বর্তমান সরকারের অদক্ষতা, নীতি-অব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের অস্থিরতার সুযোগে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে; নাগরিকরা হারিয়েছে স্বাভাবিক নিরাপত্তাবোধ।

ঢাকার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এমন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে যার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। খুন, অপহরণ, লাশ বিকৃতি, গণপিটুনি—সব মিলিয়ে পুরো শহর একটি অস্বাভাবিক আতঙ্কের ঘেরাটোপে আবদ্ধ। প্রতিদিনের খবরেই যোগ হচ্ছে নতুন লাশ; অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিংবা ব্যবসায়ী—কেউই এই সহিংসতার বাইরে থাকছেন না। রাজধানী ক্রমশ একটি অসহায়, অরক্ষিত ও উদ্বিগ্ন শহরে পরিণত হচ্ছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পরপরই নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো কাটেনি—এটি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন। পুলিশ স্টেশন আক্রমণ, অস্ত্রলুট, কারাগার ভাঙচুর—এসব ঘটনার ফলে বহু সংখ্যক অস্ত্র অপরাধীদের হাতে ছড়িয়ে পড়ে। নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—এসব অস্ত্র উদ্ধার বা অপরাধীদের শনাক্ত করার কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে কি?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার ওপর জনসাধারণের আস্থা কমে গেলে অপরাধীরা স্বাভাবিকভাবেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রকাশ্য দিবালোকে দোকানে ঢুকে খুন, সিসিটিভির সামনে নির্ভয়ে হেঁটে যাওয়া খুনিরা—এসব দৃশ্য স্পষ্ট করে যে অপরাধীরা খুব বেশি ভয় পাচ্ছে না বিচার বা শাস্তির।

গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যখন মানুষ বিশ্বাস হারায় যে রাষ্ট্র তাদের রক্ষা করবে, তখন সমাজে আইনের বদলে প্রতিশোধের সংস্কৃতি জন্ম নেয়—যা যে কোনো সমাজের জন্য বিপজ্জনক।

আইনের শাসন টিকে থাকে সরকারের ওপর জনগণের আস্থার ভিত্তিতে। রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বা চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায়শই দুর্বল হয়ে পড়ে, এবং তার প্রভাব সরাসরি পড়ে জননিরাপত্তায়। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ—রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক চাপ ও নীতিগত দ্বন্দ্বের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীরা সাহস পায়; আর সাধারণ মানুষ হারায় নিরাপত্তাবোধ। ফলে পুরো সমাজ ছড়িয়ে পড়ে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং অবিশ্বাসে। ডাস্টবিনে, নদীতে, ড্রেনে লাশ পাওয়া—শুধু অপরাধ বাড়ছে এমন নয়; এটি নাগরিক জীবনের মূল্য কতটা কমে যাচ্ছে তাও নির্দেশ করে। লাশ বিকৃত করার ঘটনা বেড়ে যাওয়া অপরাধীদের মানসিকতা সম্পর্কে এক অন্ধকার চিত্র তুলে ধরে। বুঝিয়ে দেয়, অপরাধীরা মনে করছে তাদের ধরা হবে না, বিচার তো দূরের কথা।

এ এক ভয়ংকর বার্তা যে দেশে আইনের শাসন দুর্বল, সে দেশে মানুষের জীবনের মূল্য দ্রুতই কমে যায়। নিরাপত্তাহীন অবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে লাভজনক বলে মনে করতে পারে এমন গোষ্ঠীর কথা বিভিন্ন পর্যবেক্ষক উল্লেখ করছেন। যখন জনগণ আতঙ্কে থাকে, তখন তারা বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলতে পারে না—ক্ষমতার বৈধতা, নীতি, সিদ্ধান্ত—এ সবই চাপা পড়ে যায়। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সমাজে আরও গভীর সংকট আনতে পারে।

যদি কোনো দেশ ধারাবাহিকভাবে ১৪ মাস ধরে এই মাত্রার সহিংসতার মধ্যে থাকে, তবে এটি শুধু অপরাধের সমস্যা নয়—এটি সমগ্র রাষ্ট্র পরিচালনার সংকট। যেখানে নির্বাচন, শাসন, নীতি, মানবাধিকার সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কাঠামো এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে রাজধানী ঢাকাকে অনেকে “লাশের শহর” বলে অভিহিত করছেন। সমালোচকদের অভিযোগ— বর্তমান সরকারের অদক্ষতা, নীতি-অব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের অস্থিরতার সুযোগে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে; নাগরিকরা হারিয়েছে স্বাভাবিক নিরাপত্তাবোধ।

ঢাকার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এমন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে যার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। খুন, অপহরণ, লাশ বিকৃতি, গণপিটুনি—সব মিলিয়ে পুরো শহর একটি অস্বাভাবিক আতঙ্কের ঘেরাটোপে আবদ্ধ। প্রতিদিনের খবরেই যোগ হচ্ছে নতুন লাশ; অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিংবা ব্যবসায়ী—কেউই এই সহিংসতার বাইরে থাকছেন না। রাজধানী ক্রমশ একটি অসহায়, অরক্ষিত ও উদ্বিগ্ন শহরে পরিণত হচ্ছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পরপরই নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো কাটেনি—এটি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন। পুলিশ স্টেশন আক্রমণ, অস্ত্রলুট, কারাগার ভাঙচুর—এসব ঘটনার ফলে বহু সংখ্যক অস্ত্র অপরাধীদের হাতে ছড়িয়ে পড়ে। নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—এসব অস্ত্র উদ্ধার বা অপরাধীদের শনাক্ত করার কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে কি?

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার ওপর জনসাধারণের আস্থা কমে গেলে অপরাধীরা স্বাভাবিকভাবেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রকাশ্য দিবালোকে দোকানে ঢুকে খুন, সিসিটিভির সামনে নির্ভয়ে হেঁটে যাওয়া খুনিরা—এসব দৃশ্য স্পষ্ট করে যে অপরাধীরা খুব বেশি ভয় পাচ্ছে না বিচার বা শাস্তির।

গণপিটুনির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যখন মানুষ বিশ্বাস হারায় যে রাষ্ট্র তাদের রক্ষা করবে, তখন সমাজে আইনের বদলে প্রতিশোধের সংস্কৃতি জন্ম নেয়—যা যে কোনো সমাজের জন্য বিপজ্জনক।

আইনের শাসন টিকে থাকে সরকারের ওপর জনগণের আস্থার ভিত্তিতে। রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত বা চ্যালেঞ্জপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায়শই দুর্বল হয়ে পড়ে, এবং তার প্রভাব সরাসরি পড়ে জননিরাপত্তায়। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ—রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক চাপ ও নীতিগত দ্বন্দ্বের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীরা সাহস পায়; আর সাধারণ মানুষ হারায় নিরাপত্তাবোধ। ফলে পুরো সমাজ ছড়িয়ে পড়ে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং অবিশ্বাসে। ডাস্টবিনে, নদীতে, ড্রেনে লাশ পাওয়া—শুধু অপরাধ বাড়ছে এমন নয়; এটি নাগরিক জীবনের মূল্য কতটা কমে যাচ্ছে তাও নির্দেশ করে। লাশ বিকৃত করার ঘটনা বেড়ে যাওয়া অপরাধীদের মানসিকতা সম্পর্কে এক অন্ধকার চিত্র তুলে ধরে। বুঝিয়ে দেয়, অপরাধীরা মনে করছে তাদের ধরা হবে না, বিচার তো দূরের কথা।

এ এক ভয়ংকর বার্তা যে দেশে আইনের শাসন দুর্বল, সে দেশে মানুষের জীবনের মূল্য দ্রুতই কমে যায়। নিরাপত্তাহীন অবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে লাভজনক বলে মনে করতে পারে এমন গোষ্ঠীর কথা বিভিন্ন পর্যবেক্ষক উল্লেখ করছেন। যখন জনগণ আতঙ্কে থাকে, তখন তারা বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলতে পারে না—ক্ষমতার বৈধতা, নীতি, সিদ্ধান্ত—এ সবই চাপা পড়ে যায়। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সমাজে আরও গভীর সংকট আনতে পারে।

যদি কোনো দেশ ধারাবাহিকভাবে ১৪ মাস ধরে এই মাত্রার সহিংসতার মধ্যে থাকে, তবে এটি শুধু অপরাধের সমস্যা নয়—এটি সমগ্র রাষ্ট্র পরিচালনার সংকট। যেখানে নির্বাচন, শাসন, নীতি, মানবাধিকার সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ