বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের অক্ষমতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেল। জামায়াত-ই-ইসলামীর হাতের পুতুল বলে অভিযোগ রয়েছে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে, আর ইউনূসকে পশ্চিমা শক্তির পক্ষপাতী। গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবনের সামনে একদল জঙ্গি হামলাকারী বাড়িটি ভাঙচুর করতে এসেছিল।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের ঠেকাতে অক্ষম হলে, প্রবাসী অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যের রেকর্ডেড বার্তা মাইকিং করে হামলাকারীরা শেষ পর্যন্ত সরে যায়। এই ঘটনা থেকে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ এখন জামায়াতের হাতে—সরকারের কোনো কর্তৃত্ব নেই। দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্য ছাড়া কোনো উপায় নেই।
সোমবার সকালে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এই রায়ের পরপরই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে রাত অবধি একদল জঙ্গি দুটি এক্সকাভেটর নিয়ে বাড়িটি ভাঙতে চান। তারা জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময়ের মতোই পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালান।
পোস্টগুলো থেকে জানা গেছে, হামলাকারীরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে, রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গলি ও বাসার ছাদ থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহত করে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন পুলিশ সদস্যকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মিরপুর সড়ক সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক না হলেও, পুলিশ ও সেনা সতর্ক অবস্থায় ছিল। কিন্তু রাত ১০টা পর্যন্ত তারা জঙ্গিদের ঠেকাতে পারেনি—এটি সরকারের অক্ষমতার স্পষ্ট প্রমাণ।
যখন পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠেছে, তখনই ইউনূসের “গুজব সেল”-এর অন্যতম সদস্য বলে পরিচিত প্রবাসী অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যের রেকর্ডেড বার্তা দৃশ্যে আসে। পুলিশই মাইক দিয়ে পিনাকীর রেকর্ডটি শোনায়, যাতে তিনি সম্ভবত জঙ্গিদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এরপর হামলাকারীরা ৩২ নম্বরের সামনে থেকে সরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে, যেখানে অনেকে বলছেন, “পুলিশ-সেনা ব্যর্থ হলে পিনাকীর কথায় কেন শোনে জঙ্গিরা?”
পিনাকী ভট্টাচার্য, ফ্রান্স প্রবাসী এই অ্যাকটিভিস্ট, আগেও ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ তিনি তার ফলোয়ারদের “বুলডোজার মার্চ” করে বাড়িটি ভাঙতে বলেন, যা জাতীয় ঐতিহ্যের অপমান হিসেবে দেখা হয়। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, কিন্তু তিনি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। এইবারের ঘটনায় তার হস্তক্ষেপ সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জামায়াতের হাতের পুতুল, এবং ইউনূস পশ্চিমা শক্তির প্রভাবে পরিচালিত। জঙ্গিরা জুলাইয়ের মতো পুলিশ-সেনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের রক্ষা করতে অক্ষম।
এক বিশ্লেষক বলেন, “দেশের নিয়ন্ত্রণ এখন জামায়াতের হাতে। ওয়াকার-ইউনূসের সরকার শুধু নামমাত্র—প্রকৃত ক্ষমতা দেশবিরোধীদের।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। এক পোস্টে বলা হয়েছে, “যেখানে পুলিশ নিরাপদ নয়, সাধারণ মানুষ কীভাবে থাকবে?” আরেকটিতে, “ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার চেষ্টা মানে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ধ্বংস।”
এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার আরেকটি নমুনা। ওয়াকার-ইউনূসের অক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা দেশ চালাতে অযোগ্য। পিনাকীর হস্তক্ষেপে হামলা থামলেও, এটি দেখিয়েছে যে প্রকৃত ক্ষমতা কোথায়। জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে জামায়াত-পশ্চিমা প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। অন্যথায়, এই ধরনের হামলা বাড়বে, এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য বিপন্ন হবে।

