নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন আন্দোলনে আসা ব্যক্তিদের বেধড়কভাবে পেটানো হয়। এ তালিকা থেকে বাদ যায় না নারী শিক্ষক ও প্রতিবন্ধীরাও। তাও এ নিয়ে দেশের সুশীল বা মানবাধিকার কর্মীদের কোনো বক্তব্য নেই।
সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা দেখা গেছে। রোববার ( ৯ নভেম্বর) ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার যৌক্তিক সময় নির্ধারণের দাবিতে পরীক্ষার্থীরা পিএসসি ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং জলকামান নিক্ষেপ করেছে। একই দিন পাঁচ দফা দাবি আদায়ে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ।
এর আগের দিন তিন দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করেছে পুলিশ। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, শাহবাগ থেকে শতাধিক আহত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
গত মাসে তিন দাবিতে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার সময় চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের সদস্যদের বেধড়ক পিটিয়েছিল পুলিশ। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, শেখ হাসিনার আমলেও অনেক ধরনের আন্দোলন হতো, কিন্তু এভাবে শিক্ষকদের হেনস্তার ঘটনা তখন ঘটেনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার সাধারণ জনঅধিকারভিত্তিক আন্দোলনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের জন্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শিক্ষক ও প্রতিবন্ধী নাগরিকরা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামলে এমন হেনস্তার ঘটনা স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতিচ্ছবি নয় বলেই মনে হচ্ছে।

