Monday, December 1, 2025

পাকিস্তানি গোয়েন্দার ছায়ায় মাদকের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়ন বাংলাদেশের নিরাপত্তায় অঘোষিত যুদ্ধ

চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি আটক হওয়া দুই কনটেইনার ভর্তি পপি সিডের ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ কাস্টমস অভিযান নয়; এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক গম্ভীর সতর্কবার্তা। মিথ্যা ঘোষণায় “বার্ড ফুড” হিসেবে আমদানি করা এই কনটেইনারগুলো থেকে প্রায় ২৫ টন নিষিদ্ধ পপি সিড উদ্ধার হয়েছে—যা কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক অনিয়ম নয়, বরং একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছেন—দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি ও অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো বহু বছর ধরে মাদক ব্যবসাকে অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। মাদক ব্যবসা এমন একটি খাত, যেখানে নগদ অর্থ দ্রুত স্থানান্তর করা যায়, ব্যাংকিং নজরদারি এড়ানো সম্ভব, এবং আন্তর্জাতিক অর্থপাচার সহজ হয়। এই অর্থই পরবর্তীতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, অস্ত্র ক্রয়, প্রশিক্ষণ ও সদস্য নিয়োগের খরচ যোগায়।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে কিছু জঙ্গি সংগঠন, বিশেষত লস্কর-ই-তৈয়্যেবা (LeT), আইএস (IS) এবং হুজি (HuJI)—এদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সহায়তা পাকিস্তানভিত্তিক উৎস থেকে আসে, এবং কিছু ক্ষেত্রে মাদক চক্রই সেই অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, মাদক বাণিজ্য ও সন্ত্রাস এখন একই সুতায় গাঁথা—একে অপরের পরিপূরক।

প্রশ্ন হলো—এই সিন্ডিকেট কি শুধুই অপরাধীদের একটি বাণিজ্যিক চক্র, নাকি এর পেছনে রাষ্ট্র-সমর্থিত গোয়েন্দা প্রভাব রয়েছে? দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলজুড়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রাখার অভিযোগের মুখে ছিল। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলিই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার সঙ্গে মিশে আছে, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নতুন করে সেই সন্দেহকে উসকে দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আটক পপি সিডের চালানটি এমন সময়ে ধরা পড়েছে, যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্তপারের মাদক প্রবাহ এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা—সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাদক ব্যবসা থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ যদি সত্যিই জঙ্গি সংগঠনগুলোর তহবিলে প্রবাহিত হয়, তবে এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল শেকড়ে আঘাত হানবে।

এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন— প্রথমত, কাস্টমস, নেভি ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে একটি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি কনটেইনার স্ক্যানিং ও রিস্ক-স্কোরিং সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দ্বিতীয়ত, ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (FIU) এবং ব্যাংকগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও অবরুদ্ধ করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে, কারণ অর্থপাচারের মাধ্যমে এই তহবিলই জঙ্গি কার্যক্রমে রূপ নেয়।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্যবিনিময় জোরদার করা প্রয়োজন—বিশেষ করে ইন্টারপোল, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দমন সংস্থা (UNODC) এবং আঞ্চলিক গোয়েন্দা ফোরামগুলোর সঙ্গে।

সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নিরপেক্ষ তদন্ত। যদি এই ঘটনার পেছনে পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্ক বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। রাজনৈতিক বিব্রতবোধের ভয়ে যদি তদন্ত গোপন রাখা হয়, তাহলে ক্ষতিই বাড়বে।

মাদক, জঙ্গি ও অর্থ—এই তিনটি উপাদান এখন বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য ত্রিমুখী হুমকি। এটি আর কেবল অপরাধ দমন নয়; এটি এক অঘোষিত যুদ্ধ, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি নিরাপত্তা সংস্থা, গোয়েন্দা ইউনিট ও কূটনৈতিক ফ্রন্টকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ এই যুদ্ধ কেবল বন্দরের পণ্য আটকানো বা সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষার লড়াই।

চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি আটক হওয়া দুই কনটেইনার ভর্তি পপি সিডের ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ কাস্টমস অভিযান নয়; এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক গম্ভীর সতর্কবার্তা। মিথ্যা ঘোষণায় “বার্ড ফুড” হিসেবে আমদানি করা এই কনটেইনারগুলো থেকে প্রায় ২৫ টন নিষিদ্ধ পপি সিড উদ্ধার হয়েছে—যা কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক অনিয়ম নয়, বরং একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছেন—দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি ও অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো বহু বছর ধরে মাদক ব্যবসাকে অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। মাদক ব্যবসা এমন একটি খাত, যেখানে নগদ অর্থ দ্রুত স্থানান্তর করা যায়, ব্যাংকিং নজরদারি এড়ানো সম্ভব, এবং আন্তর্জাতিক অর্থপাচার সহজ হয়। এই অর্থই পরবর্তীতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম, অস্ত্র ক্রয়, প্রশিক্ষণ ও সদস্য নিয়োগের খরচ যোগায়।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে কিছু জঙ্গি সংগঠন, বিশেষত লস্কর-ই-তৈয়্যেবা (LeT), আইএস (IS) এবং হুজি (HuJI)—এদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক সহায়তা পাকিস্তানভিত্তিক উৎস থেকে আসে, এবং কিছু ক্ষেত্রে মাদক চক্রই সেই অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, মাদক বাণিজ্য ও সন্ত্রাস এখন একই সুতায় গাঁথা—একে অপরের পরিপূরক।

প্রশ্ন হলো—এই সিন্ডিকেট কি শুধুই অপরাধীদের একটি বাণিজ্যিক চক্র, নাকি এর পেছনে রাষ্ট্র-সমর্থিত গোয়েন্দা প্রভাব রয়েছে? দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলজুড়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রাখার অভিযোগের মুখে ছিল। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলিই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার সঙ্গে মিশে আছে, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নতুন করে সেই সন্দেহকে উসকে দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আটক পপি সিডের চালানটি এমন সময়ে ধরা পড়েছে, যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্তপারের মাদক প্রবাহ এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা—সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মাদক ব্যবসা থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ যদি সত্যিই জঙ্গি সংগঠনগুলোর তহবিলে প্রবাহিত হয়, তবে এটি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল শেকড়ে আঘাত হানবে।

এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন— প্রথমত, কাস্টমস, নেভি ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে একটি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি কনটেইনার স্ক্যানিং ও রিস্ক-স্কোরিং সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

দ্বিতীয়ত, ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (FIU) এবং ব্যাংকগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও অবরুদ্ধ করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে, কারণ অর্থপাচারের মাধ্যমে এই তহবিলই জঙ্গি কার্যক্রমে রূপ নেয়।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্যবিনিময় জোরদার করা প্রয়োজন—বিশেষ করে ইন্টারপোল, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দমন সংস্থা (UNODC) এবং আঞ্চলিক গোয়েন্দা ফোরামগুলোর সঙ্গে।

সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নিরপেক্ষ তদন্ত। যদি এই ঘটনার পেছনে পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্ক বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। রাজনৈতিক বিব্রতবোধের ভয়ে যদি তদন্ত গোপন রাখা হয়, তাহলে ক্ষতিই বাড়বে।

মাদক, জঙ্গি ও অর্থ—এই তিনটি উপাদান এখন বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য ত্রিমুখী হুমকি। এটি আর কেবল অপরাধ দমন নয়; এটি এক অঘোষিত যুদ্ধ, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি নিরাপত্তা সংস্থা, গোয়েন্দা ইউনিট ও কূটনৈতিক ফ্রন্টকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ এই যুদ্ধ কেবল বন্দরের পণ্য আটকানো বা সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষার লড়াই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ