Monday, December 1, 2025

নোবেল বিজয়ী ইউনূসের শাসনে বাঁশঝাড়ে ঠাঁই কোল সম্প্রদায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পাঁচটি কোল পরিবারের মাথার উপর থেকে ছাদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক্সক্যাভেটর দিয়ে। এখন তারা বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই ঘটনার পর কি একবারও মুহাম্মদ ইউনূস কিংবা তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদের কেউ ভেবেছেন যে এই দেশের নাগরিক হিসেবে কোল সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলোরও তো কিছু অধিকার থাকার কথা? নাকি সংখ্যালঘু মানেই এখন এমন একটা জনগোষ্ঠী যাদের নিয়ে কাউকে মাথা ঘামাতে হয় না, কারণ তারা ভোটব্যাংক নয়, তারা ক্ষমতার কাছে দরকষাকষির কোনো হাতিয়ার নয়?

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এই পরিবারগুলো ওই জমিতে বসবাস করছিল। ১৯৯৮ সাল থেকে তারা সেখানে ঘর বেঁধেছিল, সংসার পেতেছিল, সন্তান মানুষ করেছিল। কিন্তু একদিন সকালে উঠে দেখলেন তাদের সব কিছু শেষ। কোনো আগাম নোটিস নেই, কোনো সতর্কবার্তা নেই। শুধু এক্সক্যাভেটরের গর্জন আর ভাঙা দেয়ালের ধুলোয় মিশে গেল তাদের জীবনের সমস্ত স্মৃতি। খাট, চেয়ার, টেবিল, খাবার – সব কিছুই মাটির নিচে চাপা পড়ে গেল। এখন তারা বাঁশঝাড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।

এই যে তথাকথিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’, যারা নিজেদের সংস্কারের মহান দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন, তারা কি একবারও গিয়ে দেখলেন এই পরিবারগুলোর অবস্থা কী? মুহাম্মদ ইউনূস যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দরিদ্রদের সেবা করার জন্য, তিনি কি একবারও ভাবলেন যে এই কোল পরিবারগুলোও তো দরিদ্র, তারাও তো মানুষ? নাকি দরিদ্রদের মধ্যেও বাছবিচার আছে – কাদের জন্য কণ্ঠ তুলতে হবে আর কাদের উচ্ছেদ হতে দেখেও নীরব থাকতে হবে?

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম বলেছেন, জাল দলিল দিয়ে এই পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চল্লিশ বছর ধরে বসবাস করা মানুষদের একদিনে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি সভ্য সমাজের কাজ? কিন্তু এই সরকার তো সভ্যতার তোয়াক্কা করে না। তারা শুধু নিজেদের টিকে থাকাটা নিয়ে ব্যস্ত, বাকিদের ভাগ্য নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে গিয়ে দেখেছেন যে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। কিন্তু দেখার পর কী হলো? কোনো ত্রাণ গেল? কোনো অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হলো? নাকি শুধুই ‘দেখলাম’ বলে দায়িত্ব শেষ? এই যে প্রশাসন, যারা উচ্ছেদ করতে এক্সক্যাভেটর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, পুনর্বাসনের সময় তারা কোথায় থাকে?

আর সবচেয়ে বড় কথা, যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কীভাবে বৈধতার দোহাই দিয়ে মানুষকে উচ্ছেদ করে? যে সরকার নির্বাচিত নয়, যাদের জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই, তারা কোন মুখে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙার অনুমোদন দেয়? মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগীরা যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছেন, সেখানে গণতন্ত্রের নামগন্ধ নেই। অথচ তারাই এখন মানুষের অধিকার হরণ করছেন, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করছেন।

জুলাই মাসের সেই রক্তাক্ত দাঙ্গার পর যেভাবে ক্ষমতা দখল হয়েছে, তার পর থেকে এই দেশে সংখ্যালঘুদের জীবন কোনোমতে টিকে আছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও তাদের উপর হামলা হচ্ছে, তাদের সম্পত্তি দখল হচ্ছে, তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। আর এসব দেখার কেউ নেই। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার তথাকথিত সংস্কারকামী সরকার যেন চোখ বন্ধ করে বসে আছে। তারা শুধু নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকার ফর্মুলা নিয়ে ব্যস্ত, আর কিছু নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।

রুমালী হাসদা বলেছেন, তাদের কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। তাদের ঘরের জিনিসপত্র, খাবার সব মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। এই যে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, এটা কি গ্রহণযোগ্য? একটা সভ্য রাষ্ট্রে কি এভাবে মানুষের সাথে ব্যবহার করা যায়? কিন্তু এই সরকারের কাছে তো সভ্যতা বা মানবাধিকার কোনো বিষয়ই নয়। তারা শুধু জানে কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়, কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়।

এই কোল পরিবারগুলো এখন বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের শিশুরা কোথায় পড়াশোনা করবে? তাদের বৃদ্ধরা কোথায় মাথা গোঁজার জায়গা পাবে? তাদের নারীরা কীভাবে রান্না করবে, কীভাবে সংসার চালাবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আছে? নাকি তিনি শুধু বিদেশি দাতাদের সামনে বক্তৃতা দিতে ব্যস্ত, দেশের ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখার সময় নেই?

সত্যি কথা বলতে, এই সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের কোনো দাম নেই। তারা এই দেশের নাগরিক হলেও তাদের অধিকার যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, যাদের উচ্ছেদ করা যায়, যাদের সম্পত্তি দখল করা যায়, যাদের অধিকার হরণ করা যায়, আর কেউ কিছু বলবে না। কারণ যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা নিজেরাই অবৈধ, তাদের নৈতিক অবস্থান নেই, তাদের জবাবদিহিতা নেই।

রাজশাহীর এই ঘটনা শুধু পাঁচটি পরিবারের ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়, এটা পুরো দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেই এই ম্যাসেজ দেয়া যে, এই দেশে তোমাদের কোনো জায়গা নেই, তোমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আর এই বার্তা দিচ্ছে সেই সরকার, যারা নিজেরাই এসেছে অসাংবিধানিক পথে, যারা নিজেরাই দখলদার। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগীদের কাছে হয়তো এই কোল পরিবারগুলোর জীবনের কোনো মূল্য নেই, কিন্তু ইতিহাস ঠিকই লিখে রাখবে যে তাদের শাসনামলে এই দেশে সংখ্যালঘুরা কতটা অসহায় ছিল, কতটা নিরাপত্তাহীন ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পাঁচটি কোল পরিবারের মাথার উপর থেকে ছাদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক্সক্যাভেটর দিয়ে। এখন তারা বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এই ঘটনার পর কি একবারও মুহাম্মদ ইউনূস কিংবা তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদের কেউ ভেবেছেন যে এই দেশের নাগরিক হিসেবে কোল সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলোরও তো কিছু অধিকার থাকার কথা? নাকি সংখ্যালঘু মানেই এখন এমন একটা জনগোষ্ঠী যাদের নিয়ে কাউকে মাথা ঘামাতে হয় না, কারণ তারা ভোটব্যাংক নয়, তারা ক্ষমতার কাছে দরকষাকষির কোনো হাতিয়ার নয়?

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এই পরিবারগুলো ওই জমিতে বসবাস করছিল। ১৯৯৮ সাল থেকে তারা সেখানে ঘর বেঁধেছিল, সংসার পেতেছিল, সন্তান মানুষ করেছিল। কিন্তু একদিন সকালে উঠে দেখলেন তাদের সব কিছু শেষ। কোনো আগাম নোটিস নেই, কোনো সতর্কবার্তা নেই। শুধু এক্সক্যাভেটরের গর্জন আর ভাঙা দেয়ালের ধুলোয় মিশে গেল তাদের জীবনের সমস্ত স্মৃতি। খাট, চেয়ার, টেবিল, খাবার – সব কিছুই মাটির নিচে চাপা পড়ে গেল। এখন তারা বাঁশঝাড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।

এই যে তথাকথিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’, যারা নিজেদের সংস্কারের মহান দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন, তারা কি একবারও গিয়ে দেখলেন এই পরিবারগুলোর অবস্থা কী? মুহাম্মদ ইউনূস যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দরিদ্রদের সেবা করার জন্য, তিনি কি একবারও ভাবলেন যে এই কোল পরিবারগুলোও তো দরিদ্র, তারাও তো মানুষ? নাকি দরিদ্রদের মধ্যেও বাছবিচার আছে – কাদের জন্য কণ্ঠ তুলতে হবে আর কাদের উচ্ছেদ হতে দেখেও নীরব থাকতে হবে?

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম বলেছেন, জাল দলিল দিয়ে এই পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। চল্লিশ বছর ধরে বসবাস করা মানুষদের একদিনে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি সভ্য সমাজের কাজ? কিন্তু এই সরকার তো সভ্যতার তোয়াক্কা করে না। তারা শুধু নিজেদের টিকে থাকাটা নিয়ে ব্যস্ত, বাকিদের ভাগ্য নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে গিয়ে দেখেছেন যে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। কিন্তু দেখার পর কী হলো? কোনো ত্রাণ গেল? কোনো অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হলো? নাকি শুধুই ‘দেখলাম’ বলে দায়িত্ব শেষ? এই যে প্রশাসন, যারা উচ্ছেদ করতে এক্সক্যাভেটর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, পুনর্বাসনের সময় তারা কোথায় থাকে?

আর সবচেয়ে বড় কথা, যে সরকার নিজেই অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কীভাবে বৈধতার দোহাই দিয়ে মানুষকে উচ্ছেদ করে? যে সরকার নির্বাচিত নয়, যাদের জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই, তারা কোন মুখে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙার অনুমোদন দেয়? মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগীরা যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছেন, সেখানে গণতন্ত্রের নামগন্ধ নেই। অথচ তারাই এখন মানুষের অধিকার হরণ করছেন, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করছেন।

জুলাই মাসের সেই রক্তাক্ত দাঙ্গার পর যেভাবে ক্ষমতা দখল হয়েছে, তার পর থেকে এই দেশে সংখ্যালঘুদের জীবন কোনোমতে টিকে আছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও তাদের উপর হামলা হচ্ছে, তাদের সম্পত্তি দখল হচ্ছে, তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। আর এসব দেখার কেউ নেই। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার তথাকথিত সংস্কারকামী সরকার যেন চোখ বন্ধ করে বসে আছে। তারা শুধু নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকার ফর্মুলা নিয়ে ব্যস্ত, আর কিছু নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।

রুমালী হাসদা বলেছেন, তাদের কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। তাদের ঘরের জিনিসপত্র, খাবার সব মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। এই যে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, এটা কি গ্রহণযোগ্য? একটা সভ্য রাষ্ট্রে কি এভাবে মানুষের সাথে ব্যবহার করা যায়? কিন্তু এই সরকারের কাছে তো সভ্যতা বা মানবাধিকার কোনো বিষয়ই নয়। তারা শুধু জানে কীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হয়, কীভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়।

এই কোল পরিবারগুলো এখন বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। তাদের শিশুরা কোথায় পড়াশোনা করবে? তাদের বৃদ্ধরা কোথায় মাথা গোঁজার জায়গা পাবে? তাদের নারীরা কীভাবে রান্না করবে, কীভাবে সংসার চালাবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আছে? নাকি তিনি শুধু বিদেশি দাতাদের সামনে বক্তৃতা দিতে ব্যস্ত, দেশের ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখার সময় নেই?

সত্যি কথা বলতে, এই সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের কোনো দাম নেই। তারা এই দেশের নাগরিক হলেও তাদের অধিকার যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক, যাদের উচ্ছেদ করা যায়, যাদের সম্পত্তি দখল করা যায়, যাদের অধিকার হরণ করা যায়, আর কেউ কিছু বলবে না। কারণ যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা নিজেরাই অবৈধ, তাদের নৈতিক অবস্থান নেই, তাদের জবাবদিহিতা নেই।

রাজশাহীর এই ঘটনা শুধু পাঁচটি পরিবারের ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য নয়, এটা পুরো দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেই এই ম্যাসেজ দেয়া যে, এই দেশে তোমাদের কোনো জায়গা নেই, তোমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আর এই বার্তা দিচ্ছে সেই সরকার, যারা নিজেরাই এসেছে অসাংবিধানিক পথে, যারা নিজেরাই দখলদার। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সহযোগীদের কাছে হয়তো এই কোল পরিবারগুলোর জীবনের কোনো মূল্য নেই, কিন্তু ইতিহাস ঠিকই লিখে রাখবে যে তাদের শাসনামলে এই দেশে সংখ্যালঘুরা কতটা অসহায় ছিল, কতটা নিরাপত্তাহীন ছিল।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ