নিজস্ব প্রতিবেদক
গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুট হয়। সেই অস্ত্রই এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ব্যবহার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের পর এবার টার্গেট বিএনপিকে নিধন করা। বুধবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নেওয়া ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ সময় চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহও গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এনসিপির’র সমন্বয় সভায় দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দলীয় কোন্দলে গুলি খেতে না চাইলে আপনারা এনসিপির রাজনীতি করবেন। অস্ত্রের রাজনীতি, চাঁদাবাজির রাজনীতিতে মানুষ অতিষ্ঠ।
বিশ্লেষকদের মতে, হাসনাতের এই ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারাই এ ধরনের হামলার ইন্ধন দিয়েছে। আর গত বছরের জুলাই মাসে এভাবেই গুলি করে নিরীহ ছাত্রদের হত্যা করেছে এসব জঙ্গিরা। এখন নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি তৈরি করে ভোট বানচালে তৎপর ইউনূস-এনসিপি ও জামায়াত। তাদের উদ্দেশ্য দেশের বন্দর, সেন্টমার্টিন ও পার্বত্য অঞ্চল আমেরিকার হাতে বুঝিয়ে দেওয়া।
সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় কার্যক্রম সচল করা হয়েছে। সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টার্গেট একটাই নির্বাচন না দিয়ে দেশের ক্ষমতায় ইউনূসকে রাখা।
নানা বিতর্ক ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বিএসছআ) কেন্দ্রীয় কমিটি বাদে সব কমিটি বাতিল করেছিল। এই সংগঠনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক অনিয়মের ঘটনা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে এক সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে সংগঠনের কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এরইমধ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করতে অতি সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে যে, প্রায় ৯ হাজার তরুণ-তরুণীকে ‘আত্মরক্ষামূলক মৌলিক প্রশিক্ষণ’এর আওতায় আনতে চাচ্ছে সরকার। এ প্রশিক্ষণটির পৃষ্ঠপোষকতা করছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একক এবং ব্যক্তিগত উদ্দ্যেগে। যদিও প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসতেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
তবে বিকেএসপির সাতটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে চলতি মাসেই শুরু হবে ১৫ দিনের এই আবাসিক প্রশিক্ষণ। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের স্বেচ্ছাচারিতা একাধিকবার জাতি প্রকাশ্যে অবলোকন করছে। সম্ভবত তারই ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বাস্তবতা হলো—দেশের টাকা খরচ করে রাষ্ট্রের নাম করে গোপনে নিজস্ব বাহিনী গড়ার চেষ্টা করছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
এরইমধ্যে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে গত ১৮ অক্টোবর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর অক্ষত স্ট্রংরুমের ভল্ট থেকে অন্তত ৭টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম৪ কারবাইন রাইফেল এবং ব্রাজিলের টরাস কোম্পানির সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। গত রোববার (২৬ অক্টোবর) নিয়মিত পরিদর্শনের সময় ভল্টের লক খোলা এবং ট্রাংক ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথম পরিদর্শনে (২৪ অক্টোবর) ২১টি অস্ত্র পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় দফায় ৭টি নিখোঁজ ধরা পড়ে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মো. জামাল হোসেন ২৮ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশের সিআইডি ফরেনসিক দল তালা কাটার সরঞ্জামসহ আলামত সংগ্রহ করেছে। অগ্নিকাণ্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা পুড়ে যাওয়ায় কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। অবশিষ্ট ১৪টি অস্ত্র সোমবার থানায় স্থানান্তরিত হয়েছে।
বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগের সূত্র জানায়, ভল্টে পুলিশের সোয়াট ইউনিট ও বৈধ ব্যবসায়ীদের আমদানি করা অস্ত্র সংরক্ষিত ছিল। সোনা-হীরা বাদ দিয়ে শুধু আগ্নেয়াস্ত্র চুরি রহস্যজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আমেরিকার ষড়যন্ত্র চলছেই। বিশেষ করে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমেরিকার কাছে চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্টমার্টিন খুব শিগগিরই হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন। সূত্র বলছে, এ সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা এরইমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে।

