বছরের পর বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে স্বজনপ্রীতির মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে গলা ফাটিয়েছে বিএনপি। মিছিলে, সভায়, টেলিভিশনের টকশোতে একটাই কথা, ক্ষমতায় গেলে সব বদলে দেবে। মেধার মূল্যায়ন হবে। যোগ্যরা জায়গা পাবে। সেই বিএনপি এখন ক্ষমতার কাছাকাছি এসে ঠিক কী করল? জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঘোষিত বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে ঢুকিয়ে দিল মির্জা আব্বাসের ছেলে, সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে আর ববি হাজ্জাজের স্ত্রীকে। এগারো সদস্যের কমিটিতে চারজনই কোনো না কোনো বিএনপি নেতার ঘরের লোক। এটাকে কী বলবেন? পারিবারিক ক্রিকেট বোর্ড বললে বোধহয় কম বলা হয়।
যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, এরা বৈধ কাউন্সিলর। ঠিক আছে, কাগজে-কলমে হয়তো বৈধ। কিন্তু প্রশ্নটা বৈধতার না, প্রশ্নটা যোগ্যতার। মির্জা ইয়াসির আব্বাস কিংবা সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বাংলাদেশের ক্রিকেটে কী অবদান রেখেছেন? কোন মাঠে খেলেছেন, কোন ক্লাব চালিয়েছেন, কোন টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ দিচ্ছে না। কারণ উত্তর নেই। যা আছে তা হলো বাবার নাম, বাবার দলীয় পরিচয় আর বাবার রাজনৈতিক প্রভাব।
রাজনীতিতে একটা কথা প্রচলিত আছে, বিরোধী দলে থাকলে সবাই সাধু। ক্ষমতায় গেলে সেই সাধুত্ব কোথায় যায় কেউ জানে না। বিএনপিও এর ব্যতিক্রম না, এটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সবচেয়ে করুণ দিক হলো, ক্রিকেটটা এই দেশে মানুষের আবেগের জায়গা। কোটি মানুষ এই খেলাটা নিয়ে স্বপ্ন দেখে। সেই জায়গায় নেতার ছেলে বসবে, নেতার বউ বসবে, আর মাঠের মানুষ, যারা সত্যিকারের ক্রিকেটের জন্য কাজ করেছে, তারা বাইরে থাকবে। এটা শুধু নেপোটিজম না, এটা ক্রিকেটের প্রতি অসম্মান।
খাট আর মাঠ যে এক জিনিস না, এই সহজ সত্যটা বোঝার জন্য বিশেষ প্রতিভার দরকার নেই। কিন্তু যাদের কাছে বাবার নামই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা, তাদের কাছে এই পার্থক্যটা কখনো স্পষ্ট হয় না।

